তিনি বেরিয়েছেন শিনা টানটান করে

মেলা গল্প জমা ছিল তাঁর স্টকে। কখনো কখনো মুখ ফঁসকে বলে আবার গিলে ফেলেছেন। ক্রিকেট বোধের জায়গায় তিনি তাঁর জায়গায় সেরা, সেটা নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সাথে কথা বললেই বোঝা যায়।

অনেক দিনই গিয়েছি তাঁর অফিস কক্ষে। সেখানে কতশত আলাপ। ক্রিকেট নিয়ে আলাপটা একটা উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি। গাজী আশরাফ হোসেন লিপু’ পর ক্রিকেট অনেক সহজ করে টেকনিক্যালি গুরু গম্ভীর কথাগুলো ফাহিম স্যার বুঝিয়েছেন। আলাপের কত কিছুতে সাকিব। কখনো মুশফিক। সব মিলিয়ে ক্রিকেট নিয়ে, টেকনিক নিয়ে নানা মেন্যু।

গতকাল মিরপুরে গেলাম। বিষাদের ছায়া ছিল কোথাও কোথাও। থোকা থোকা। ডেভলপমেন্টের কক্ষটাতে তিনি বসে আছেন। তার আগেই ফেসবুকে দিয়েছেন শেষ কর্মদিবসের ছবি। অনেকটা একইভাবে বসে আছেন।

কথা বললাম। সে কথাতে সুরও নেই। তালও নেই। একটা মানুষের কর্মস্থলে কেমন হওয়া উচিত সেটা আমার কম জানা নয়।

চ্যানেল ওয়ানে শেষ দিনটা আমার ভাল করে খেয়াল আছে। স্পোর্টস জোন থেকে বেরিয়ে আসছি। নিউজ রুমের উপস্থিতরা দাঁড়িয়ে শেষ ম্যাচ খেললে যেভাবে ব্যাট উঁচিয়ে বিদায় জানানো হয় মাঠে, সেভাবে বিদায় জানিয়েছেন। গলা ধরেছে। খুব কষ্ট করে চোখের পানি চেপে বাড়ি ফিরেছি।

নাজমুল ফাহিম স্যারের গলা ধরা কোন অবস্থা দেখলাম না। বোর্ড রুমে তিনি যখন কথা বলছেন, তখন অনাহুতের মত গিয়ে হাজির হয়েছি।

বেরিয়েছেন শিনা টানটান করে। গলায় কোন কৃত্রিমতা নেই। বিসিবিতে আরো একটা বাতি নিভে গেলো। সারোয়ার ইমরান স্যার অনেক আগেই গিয়েছেন। যাদের দেখার চোখ একটু ভাল তাদের জন্য বিসিবি বোধহয় ভাল জায়গা নয়।

সবচেয়ে মন:কষ্টের ব্যাপার হল, ফাহিম স্যার যখন পদত্যাগপত্র জমা দিয়ছেন – তারপর কেউই তাঁর কাছে জানতে চাননি কেনো তিনি যাচ্ছেন। কেউ বলেননি, আসুন একটু শুনি আপনার সমস্যা।

ডেভলপমেন্ট থেকে মেয়েদের উইংয়ে যাওয়া। তারপর ধীরে হলেও বুঝতে পারা তাঁর কাজের জায়গা ছোট হয়ে যাওয়া। একজন কোচ যিনি বিকেএসপি’র খোলা জায়গায় ক্রিকেট শিখিয়ে এসেছেন, তিনি বন্দী হয়ে গেলেন আমলাতন্ত্রের খপ্পরে। চিন্তা অনেক উড়াউড়ি করেছে। মন খারাপ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিদায় বলেছেন সম্মান নিয়ে।

একটা ক্রান্তি কালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এ দেশের ক্রিকেট। যার ছায়াটা আর কতটা লম্বা সময় থাকবে সেটা বলা মুশকিল। ফাহিম স্যারের এমন বিদায়ে মনে হয়েছে, সেটা মনে হয় বেশি স্থায়ী হতে যাচ্ছে।

বিদায় বেলায় দুইটি মাত্র ক্যামেরা তাঁর প্রতিটি নড়াচড়া খেয়াল করতে থাকলো। হাত মেলালেন। গাড়িতে উঠে গেলেন। মুখে চিন্তার রেখা খেলা করলো না আগের মত। ডেভলপমেন্টের রাশেদকে দেখলাম কান্না চাপতে চাপতে ছুটে দু তলায় যেতে।

আমি আপনার সরাসরি ক্রিকেট ছাত্র ছিলাম না। তারপরও আপনি স্যার! ভাল থাকবেন। ক্রিকেট অনেক বড়। সেটার ঠিকানা বা ঠিকাদারিত্ব শুধু মিরপুর স্টেডিয়াম হতে পারেনা। এটা আপনি বিশ্বাস করতেন। এখন সুযোগ পেয়েছেন, নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার। সেটা বিকেএসপিতে আবারো ফিরে হোক, বা অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রিকেটের সাথে থেকে।

ধন্যবাদ নাজমুল আবেদীন ফাহিম। ভাল থাকবেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।