সাদাকালো ছাই থেকেই নচিকেতা এসেছিলেন

সিগারেটের কমলা আগুন অবধি মানুষের সহ্য ক্ষমতা। তার ওপর এক চিলতে ধূসর ছাই – ঐ যে টোকা মেরে ফেলে দেওয়া, তা আসলে সহনশীলতার সীমা পেরোনো দৌরাত্মের বিরুদ্ধে এক ধরণের আশ্চর্য ঔদাসীন্য।

সে সময়ের বিকেল মানে সাইকেলের ওপর একটুকরো কৈশোর, ব্যালেন্স করে করে চলে যাওয়া লাল-ফিতে সাদা মোজার দিকে। মনে আছে লাল ফিতের স্বপ্ন দেখানো নচিকেতা চক্রবর্তী তখন কেমন কলার তোলা মাস্তান, মাধ্যমিকের বাধ্যতার ভেতর অবাধ্য হয়ে ওঠার প্রথম সবকিছু, স্কুল শার্টের পকেটে পাওয়া দেশলাই বাক্স। অথচ আগুনপাখি শোনার আগেই আমার দেয়ালে দেয়ালে বৃদ্ধাশ্রমের মন  খারাপ বুনেছেন তিনি।

একটা বাংলা গান, কত বাবা-মা যে ছেলেদের ডেকে বলতেন – ‘বাবু তুই ও আমাদের বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসবি?’

কিন্তু সে প্রজন্মের ঝিনুকে মুক্তো ভরছেন আগুনপাখি। হালিশহর থেকে নৈহাটি, কলকাতা থেকে মফসসল অবধি নচিকেতার শো টিকিট বিকিয়ে যাচ্ছে বারুদের গন্ধের মতো। মঞ্চে উঠে একটা লোক দিব্বি বলে দিচ্ছেন –

‘দেশের মানুষ তো কোন ছাড়

মন্ত্রীগুলো কুলাঙ্গার,

ভালো দাম পেলে এরা বাপকেও দেবে বেচে…’

প্রেমে-বিদ্রোহে বিক্ষোভের সুমনীয় পৃথিবীর যৌবনপ্রাপ্তির অনেক আগে এক সাদাকালো ছাই থেকেই নচিকেতা এসেছিলেন। কৈশোরের ক্যাসেটে ক্যাসেটে মফস্বলের ওই টোকা মারা ছাই আর কলারে রুমাল দেওয়া মস্তানির মতো এসেছিলেন। এসেছিলেন বেকার থেকে দরিদ্র, প্রেমিক থেকে বিবাহিতের খোলস ভেদ করে মানুষটাকে ঘন্টা দুয়েক খোলা আকাশের নিচে এনে দাঁড় করাতে।

এসেছিলেন সমস্ত না পাওয়ার বিরুদ্ধে ঐ অদ্ভুত ঔদাসীন্যের পাঁচিল তুলে দিতে। আর এক নচিকেতা আজ থেকে দু যুগ আগে এসেছিলেন, সেই জন্মের পান্ডুলিপিতে লেখা ছিল-

‘তুমি আসবে বলেই দেশটা এখনো গুজরাট হয়ে যায় নি…’

আর ব্যারিটোনের পরোয়া না করেই একটা টোটা কাটা বুলেটের মতো বেদবাক্য লিখে তিনি হারিয়েছিলেন আগুনপাখির মতোই –

‘এদেশটা ফাঁকা আছে, বিদেশের টাকা আছে,

ধর্ম না গ্রাস করে আমাদের পাছে…’

আগুনপাখি জন্মে জন্মে জাতিস্মর নয়? আপনি নিশ্চিত?

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।