মোস্তাকিমের চাপ? আবার জিগায়!

মাংসের চাপ খেতে পছন্দ করেন, অথচ মোহাম্মদপুরের মোস্তাকিমের চাপে কখনও খেতে যাননি এমন লোক ঢাকায় খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কাবাব বিলাসীদের জন্য জায়গাটা অবধারিত একটা ডেস্টিনেশন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর শাহাজান রোডেই জেনেভা ক্যাম্প। রাস্তা দিয়ে এগোতেই চাপ-কাবাবের মৌ মৌ করা গন্ধ। রাস্তাটির ব্যাপারে অচেনা কেউ রিকশা নিয়ে যেতে থাকলে রীতিমত অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়ে যেতে পারেন।

কারণ, আশেপাশের কাবাবের দোকানের কিশোর কিংবা তরুণ কর্মীরা কাবাব খাওয়ার জন্য হাক-ডাক ছাড়েন। কখনও বা রিকশা আটকেও টানাটানির চেষ্টা করেন।

মোস্তাকিমের চাপ যে জায়গাটাতে সেখানে একটা জায়গায় বেশ কয়েকটা কাবাবের দোকান আছে। তবে, সবচেয়ে বিখ্যাত এই মোস্তাকিমের চাপই। এর বাইরে মুসলিম কাবাবও বেশ জনপ্রিয়। আরো আছে রহিম কাবাব, মুরসালিন কাবাব। সবগুলো দোকানের মেন্যুগুলো প্রায় এক, দামও কাছাকাছি।

দোকানগুলোতে প্রধান আকর্ষণ হল গরু ও খাসির চাপ। সাথে থাকে ছোট ছোট লুটি। এর বাইরে ক্ষিরি কাবাব, টিক্কা কাবাব, মগজ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই, বটি কাবাব, গুরদা কাবাব, মুরগির গিলা-কলিজা, চিকেন স্যুপ ও লাচ্ছি পাওয়া যায়। মোহাম্মদপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে অবশ্য এই সবগুলো দোকান ‘বিহারী ক্যাম্পের কাবাব’ নামে পরিচিত।

মোস্তাকিমের চাপ যাত্রা শুরু করে ১৯৮৬ সালে। তখন অবশ্য পুরোটাই স্বল্প পরিসরে ছিল। মোহাম্মদপুর বয়েজ হাই স্কুলের সামনে ছোট্ট একটা টঙে কাবাব বিক্রি হত। তখন মোস্তাকিমের সাথে আরো তিন-চারটি টঙ কাবাবের দোকান ছিল। নব্বই দশকের দিকে দোকান পাঁকা করেন। তাঁর মত অনেকেই এই ব্যবসায় টিকতে পারেননি।

মোস্তাকিমই ২০০৩ সাল অবধি দোকানটা চালাতেন। তবে, ২০০৩ সালে নিজের দোকানের ভেতরেই সন্ত্রাসী হামলায় তিনি মারা যান। এখন তারই আত্মীয় স্বজনদের তত্তাবধানেই কাবাবের দোকানটি পরিচালিত হচ্ছে।

স্টোয়িক ব্লিস নামের একটা র‌্যাপ ব্যান্ডের ‘আবার জিগায়’ গানেও মোস্তাকিমের চাপের কথার উল্লেখ আছে। এটুকুতেই বোঝা যায়, কাবাবটা আসলে কতটা জনপ্রিয়। কাবাবের দামে কিছুটা কম হলেও, দোকানগুলো বেশ অপরিচ্ছন্ন।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন যেমন হয়েছে দোকানগুলোর, তেমনি মানও কমে গেছে। তবুও, যারা নিয়মিত এখানে খান, তারা বলেন এর চেয়ে ভাল চাপ নাকি ঢাকার আর কোথাও পাওয়া যায় না। তারা মিথ্যা যে বলেন না, তার প্রমাণ হচ্ছে, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে না নামতেই দোকানগুলোতে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়।

চাইলে কাবাব খাওয়া শেষ করে বাইরে থেকে ‘আগুন পান’ও খেয়ে দেখতে পারেন। কাবাবের পর পান, ব্যাপারটা মন্দ নয়!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।