জোরজবরদস্তি নয়, চাই আর্থিক ক্ষতিপূরণ

মুস্তাফিজুর রহমানকে আগামী দুই বছর দেশের বাইরের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দেখতে চান না বিসিবি সভাপতি। বেশ ভালো ভাবনা। যদিও শেষ পর্যন্ত এই ভাবনা টিকবে কিনা, আমি নিশ্চিত নই। তবে খুব করে চাই, অন্তত এক মৌসুম, বিশেষ করে ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে যেন আইপিএল-পিএসএলে মুস্তাফিজ না খেলে।

এমনকি বিপিএলেও তাকে যেন খুব সতর্কতায় সামলানো হয়। সব ম্যাচ খেলানো তো ঝুঁকির হতে পারেই, দেখা গেল দলের অবস্থা ভালো না থাকলে ছোটখাট চোট-টোট নিয়েও মাঠে নামিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে, দল যদি হয় ‘ঢাকার বিস্ফোরণ’, তাহলে ধামাকা আরও জোর হতে পারে।

শারীরিক ভাবে পুরো ফিট, মানসিক ভাবে পুরোপুরি চাঙা ও তরতাজা, বল হাতে ছোটার জন্য ক্ষুধার্ত এবং পুরোপুরি ছন্দে থাকা মুস্তা বিশ্বকাপে হতে পারেন দলের বড় সম্পদ।

মানসিক ভাবে চাঙা থাকার কথা বলার একটা কারণ, মুস্তাফিজ যেন অনুভব না করে, তাকে শেকল পরানো হচ্ছে। জোর করা হচ্ছে। বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে ছবিটা যেন তার মনে স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তোলা হয়। এবং অতি অবশ্যই, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ যেন দেওয়া হয়। হ্যাঁ, আর্থিক ক্ষতিপূরণই.!

ইসিবি এটা করেছে। ইংলিশ ক্রিকেটারদের গণহারে আইপিএলে যাওয়া ঠেকাতে তাদেরকে নানা ভাবে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। তার পরও অবশ্য স্রোত ঠেকিয়ে রাখা যায়নি। এখন স্রোতের টান প্রবল, কাউন্টি দলগুলির দুর্ভাবনা এই মৌসুমে প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। ইয়র্কশায়ার এবার ডেভিড উইলির চুক্তিও বাতিল করে দিতে চেয়েছিল, পরে মিটমাট হয়েছে।

এই সবই সময়ের বাস্তবতা। এজন্যই ব্যাপারটা জোরজবরদস্তির পর্যায়ে না যাওয়া ভালো। ফ্র্যাঞ্চাইজ ক্রিকেটের স্পর্শকাতরতা বুঝতে হবে এবং সেটা সতর্কতায় সামলাতে হবে। আমাদের সবকিছু ‘এক্সট্রিম’ বলেই এত কথা। অল্পতেই মাথায় তুলে নাচা হয়, তার চেয়েও অল্পতে ছুঁড়ে ফেলা হয়।

এই প্রসঙ্গেই তবে একটা কথা বলি। ২ বছর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে না দেওয়ার ভাবনা ভালো। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজির পোকা যারা তার মাথায় ঢুকিয়ে দিলেন, তাদের পায়ে শেকল পরাবে কে?

সেই যে দুই বছর আগে লিখেছিলাম, আইপিএল দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিমানবন্দরে মুস্তাফিজকে বরণ করতে গিয়েছিলেন যারা, তার মাথায় যারা গোলাপের তাজ পরিয়ে দিয়েছিলেন, বিদেশর ঘরোয়া লিগের সাফল্যে তাকে জাতীয় বীর ঘোষণা করেছিলেন, সেই মন্ত্রী মহোদয়, সেই ক্রিকেট বোর্ডের হর্তাকর্তারা, তারা কি এখন দায়টুকু নেবেন? বোর্ড সভাপতির অনুমতি ছাড়া নিশ্চয়ই তাঁরা যাননি!

মুস্তাফিজ যদি আজ প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা সেদিন কেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সাফল্যে আমাকে মাথায় তুলেছিলেন? কেন স্তুতির সাগরে ভাসিয়েছিলেন? আমজনতা দিয়েছিল তালি, আপনারাও ফুল দিয়েছিলেন হালি হালি। আজ আমজনতা দেয় গালি, আপনারা লাগান কালি!’

সেই দায়িত্বশীল লোকগুলোকে কি এখন কারণ দর্শাতে বলা হবে? কিংবা ভুল স্বীকার, নিদেনপক্ষে দু:খপ্রকাশ? অন্তত উপলব্ধিটুকু কি হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মুস্তাকে ভুল বার্তা না দেওয়া হয়? এই ব্যবস্থাটুকু কি মাননীয় সভাপতি করতে পারবেন!

– ফেসবুক ওয়াল থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।