যেখানে মুস্তাফিজের ভয়, সেখানেই জাদেজার রাত হয়

ক্রিকেটের খোঁজ খবর যারা রাখেন তাঁর কম বেশি ‘বানি’ শব্দটার সাথে পরিচিত। সহজ কথায়, এর অর্থ হল পছন্দের উইকেট। একজন বোলার যার  উইকেট নিতে বেশি পছন্দ করেন, কিংবা যার উইকেট বেশি নেন, তিনি হলেন ওই বোলারের ‘বানি’।

ক্রিকেটে এমন বিখ্যাত কিছু ‘বানি’ আছেন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ড আর দক্ষিণ আফ্রিকার ড্যারিল কালিনানের গল্পটা তো রীতিমত ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় উঠে গেছে।

আরো আছেন গ্লেন ম্যাকগ্রা ও মাইকেল আথারটনের নজীর। ‘বানি’ উদাহরণে বরাবরই তাঁদের নাম আসে। ম্যাকগ্রা ১৭ ম্যাচে ১৯ বার নিয়েছিলেন আথারটনের  উইকেট।

আথারটনের বিপক্ষে সমান সাফল্য আছে দুই ‍ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার কোর্টনি ওয়ালশ ও কার্টলি অ্যামব্রোসের। ওয়ালশ ২৭ ম্যাচে ১৭ বার ও অ্যাবব্রোস ২৬ ম্যাচে ১৭ বার আউট করছেন আথারটনকে। আথারটনকে কে আউট করতে পারেন, এই নিয়ে নির্ঘাত তাদের মধ্যে প্রতিযোগীতা চলতো।

এমন উদাহরণ আরো আছে। যেমন, অ্যালেক বেডসার ২১ ম্যাচে ১৮ বার আউট করেছিলেন আর্থার মরিসকে। আবার ম্যালকম মার্শাল ২১ ম্যাচে ১৬ বার গ্রাহাম গুচের উইকেট পেয়েছিলেন।

এই ‘বানি’র চক্রে ঢুকে গেছেন বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানও। এখানে তাঁর শিকার হলেন ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা। মাত্র আট বারের দেখায় মুস্তাফিজ সাতবার আউট করেছেন এই ভারতীয় এই স্পিনিং অলরাউন্ডারকে।

সেটাও মাত্র ৩৩ বলের মধ্যে। এর মধ্যে জাদেজা করতে পেরেছেন ২১ রান। এই সাতটির মধ্যে আবার তিনটিই বোল্ড। নির্দিষ্ট কোনো ফরম্যাটকে এখানে আলাদা করা যায় না। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি কিংবা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সব জায়গাতেই কাটার মাস্টারের পছন্দের শিকার জাদেজা।

এর মধ্যে ক্যারিয়ারের প্রথম এক বছরে ছয়বার জাদেজার উইকেট পান বাঁ-হাতি এই পেসার। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে। এরপরের বছরটা মানে ২০১৭ সালে ইনজুরি আর নানা রকম কারণে কখনো মুস্তাফিজ আর জাদেজা মুখোমুখিও হননি।

২০১৮ সালে আবার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ মিললো। একাদশ আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচ। আগের ঠিকানা সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বন্ধন ছিন্ন করে মুস্তাফিজ এখন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে। গুজরাট লায়ন্সের পুরনো খেলোয়াড় জাদেজা এবার ফিরেছেন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা চেন্নাই সুপার কিংসে। তবে, ভাগ্য পাল্টালো না।

এবার মুস্তাফিজের বিপক্ষে মাত্র তিন বল খেললেন। প্রথম দুই বলে পাঁচ রান নিলেও তৃতীয় বলেই সব শেষ। জাদেজাকে এগিয়ে আসতে দেখে চতুর মুস্তাফিজ একটু ওয়াইড এক কাটার ছুড়লেন। জাদেজা তাও ব্যাট চালালেন। যা হওয়ার তাই হল। বল সরাসরি চলে গেল মিড অফে দাঁড়ানো সুর্য কুমারের হাতে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।