এই মুস্তাফিজকেই তো চাই

শেষ ১০ ওভারে ভারতের হাতে ছিল ছয় উইকেট। তারপরও রান আসলো মাত্র ৬৩ টি। ভারত নির্ধারিত ৫০ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে করতে পারে ৩১৪ রান। বোঝাই যাচ্ছে, কেমন ভাবে বাংলাদেশের বোলিং লাইন আপ ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে এর কৃতীত্বটা অনেকাংশেই মুস্তাফিজুর রহমানের।

বাঁ-হাতি এই কাটার মাস্টার একাই নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ভারত বরাবরই মুস্তাফিজের প্রিয় প্রতিপক্ষ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এখন অবধি পাঁচ উইকেট পেয়েছেন তিনি চারবার। এর মধ্যে তিনটিতেই প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। প্রথম দু’টো ছিল মুস্তাফিজের ক্যারিয়ারেরই প্রথম দুই ওয়ানডে। সেটা ২০১৫ সালের ঘটনা। দেশের মাটিতে সেবার ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এক সিরিজ জিতেছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সেই অনন্য দুই পারফরম্যান্সের ঝলক এবার দেখা গেল বিশ্বকাপেও।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা তিন বোলিং পারফরম্যান্স

  • ৫/২৯: সাকিব আল হাসান, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান (২০১৯)
  • ৫/৫৯: মুস্তাফিজুর রহমান, প্রতিপক্ষ ভারত (২০১৯)
  • ৪/২১: শফিউল ইসলাম, প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড (২০১১)

মুস্তাফিজের উইকেটগুলোও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই তিনি ফিরিয়ে দেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। না বলে দিলেও চলে, বিরাট আরও খানিকক্ষণ ব্যাটিং করলে পরে তাকে আউট করা মুশকিল হত। তাতে ভারতের ইনিংসটাও আরো বড় হত।

বিরাট আউট হন ৩৮ তম ওভারে। একই ওভারে মুস্তাফিজের বলেই স্লিপে ক্যাচ দেন হার্দিক পান্ডিয়া। রানপ্রসবা উইকেটে শেষের দিকের ওভারগুলোতে রান বাড়িয়ে নিতে পান্ডিয়ার কোনো জুড়ি নেই। এক ওভারে দুই উইকেটের পতনটাকেই বাংলাদেশের বোলিং ইনিংসের টার্নিং পয়েন্ট বলা যায়।

এরপর দিনেশ কার্তিককে যখন সাজঘরে ফেরান, তখন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যানের রান মাত্র আট। এই কার্তিক শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে এক হাতে ম্যাচ করে নিয়েছিলেন নিজের দানবীয় ব্যাটিং দিয়ে। আজ তিনি পারেননি। পরে শেষ ওভারে মুস্তাফিজ আউট করেন মহেন্দ্র সিং ধোনি ও মোহাম্মদ শামিকে।

মুস্তাফিজের উইকেট সংখ্যা পাঁচ না হয়ে ছয়টাও হতে পারতো। কিন্তু, এজবাস্টনে রোহিত শর্মার রান যখন মাত্র নয় – তখন তাঁর ক্যাচ ফেলেন তামিম ইকবাল। বোলার ছিলেন মুস্তাফিজই। বাংলাদেশের আক্ষেপ বাড়িয়ে রোহিত পরে সেঞ্চুরি করেছেন। কে জানে, শুরুটাতেই তাঁকে ছেটে ফেলা গেলে হয়তো ৩০০’র নিচেই আটকে ফেলা যেত ভারতকে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।