অক্ষয়ের এই সিনেমাগুলো না দেখলেই নয়

নব্বই পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত যে কয়েকজন দর্শকনন্দিত সিনেমা উপহার দিয়ে যাচ্ছেন,তিনি তাদের মধ্যে একজন। ক্যারিয়ারে বহুবার উত্থান – পতন আসলেও নিজের পরিশ্রম আর একাগ্রতায় আজ এই অবস্থানে এসেছেন, পেয়েছেন সুপারস্টারের খেতাব। এই মুহুর্তে তিনি সুনির্বচনীয় নায়কদের একজন। দুই যুগের ও বেশি সময় ধরে তিনি নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন, অভিনেতা হিসেবে নিজেকে ভেঙেছেন, এখনো নিজেকে একের পর এক চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন স্বাতন্ত্র্য ভাবে।

  • প্যাডম্যান (২০১৮)

কুসংস্কার দূর করে নারীদের স্বাস্থ্যসম্মত ন্যাপকিনের ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে নব্বই দশকের শেষে তামিলনাড়ুর যুবক অরুণোচালাম আবিষ্কার করেন সহজলভ্য ন্যাপকিন ‘প্যাড’। প্রথমদিকে সবাই পাগলাটে ভাবলেও ধীরে ধীরে উনার এই আবিষ্কার প্রতিষ্ঠা পায়। একেবারে সাধারণ মানুষ থেকে তিনি হয়ে উঠেন সমাজকর্মী, বিশ্বের সেরা প্রভাবশালীদের একজন।

এই সত্য ঘটনা অবলম্বনেই আর বালকি নির্মাণ করেন ‘প্যাডম্যান’, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অন্যতম সেরা সিনেমা হিসেবে দর্শক থেকে সমালোচক সবার কাছ থেকে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। নাম ভূমিকায় অক্ষয় কুমার ও নিজের অভিনয় প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন, এই ছবিতে উনার সহশিল্পী ছিলেন রাধিকা আপতে ও সোনম কাপুর। বছর শেষে সিনেমাটি জাতীয় পুরস্কার সহ গুরুত্বপূর্ণ সব পুরস্কারের আসরেই বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

  • এয়ারলিফট (২০১৬)

গল্পের পটভূমি ১৯৯০ সাল, কুয়েতে বেঁধে গেল যুদ্ধ। জীবিকার টানে থাকা ভারতের অনেক মানুষই আটকে যায়। তাঁদের নিরাপত্তা দিয়ে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনেন রঞ্জিত কটওয়াল, এই মহানুভবতার জন্য তিনি পেয়েছেন সুখ্যাতি। এই সত্য ঘটনা নিয়েই রাজা কৃষ্ণা মেননের সিনেমা ‘এয়ারলিফট’।সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন অক্ষয় কুমার। মুক্তির পর বাণিজ্যিক সাফল্য থেকে প্রশংসা সবই এসেছিল এই ছবিতে, অনেকেই ভেবেছিলেন অক্ষয় কুমার এই সিনেমার জন্যই জাতীয় পুরস্কার পাবেন। এই সিনেমায় অক্ষয় কুমারের বিপরীতে ছিলেন নিমরাত কউর।

  • স্পেশাল ২৬ (২০১৩)

আশির দশকের প্রেক্ষাপট দিল্লী শহরে মন্ত্রীর বাড়িতে সিবিআই হানা দেয়। ইন্সপেক্টর রনবীর ও মহিলা কনস্টেবল শান্তি সিবিআই দলকে এই অনুসন্ধানে সাহায্য করতে আসে। মন্ত্রীর বাড়িতে বিভিন্ন জায়গায় লুকানো টাকাপয়সা, গয়না উদ্ধার করেন সিবিআই এর লোকেরা। এই দলকে নেতৃত্ব দেন পিকে শর্মা, তবে আসল বুদ্ধি ছিল অজয়ের। কাজ শেষ হলে তারা চলে যাওয়ার পর খবর আসে পুরো দলটাই নকল, এরপর!

আশির দশকে ঘটে যাওয়া এক সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নীরাজ পান্ডে নির্মাণ করেন ‘স্পেশাল ২৬’। অক্ষয় কুমারের আজ যে সুনাম, সেটা মূলত গড়ে উঠে এই সিনেমার মুক্তির পর থেকেই। এই সিনেমায় তিনি অজয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন, সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন অনুপম খের, মনোজ বাজপেয়ী, জিমি শেরগিল, দিব্যা দত্ত ও কাজল আগারওয়াল।

  • বেবি (২০১৫)

গুণী নির্মাতা নীরাজ পান্ডের সাথে দ্বিতীয় বারের মত জুটি বাঁধেন অক্ষয় কুমার। বলিউডের অন্যতম সেরা এই স্পাই থ্রিলারের পটভূমি সন্ত্রাসবাদ। এইখানে ‘বেবী’ ইউনিটের গুপ্তচর অজয় সিং রাজপুতের চরিত্রে অভিনয় করেন অক্ষয় কুমার। মুক্তির পর সব মহলেই বেশ প্রশংসা কুড়ায় সিনেমাটি, পাশাপাশি অক্ষয় নিজেও চরিত্রে বেশ ভালোভাবেই মিশে গিয়েছিলেন। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন অনুপম খের, কে কে মেনন, রানা দুগ্গাবতি, ড্যানি ও তাপসী পান্নু।

  • হেরা ফেরি (২০০০)

রাজু,শ্যাম আর বাবুরাও নামক তিনজন হতাশাগ্রস্ত মানুষের গল্প,টেলিফোনে ভুলে একটা রং নাম্বার থেকে ফোন আসে এক কিডন্যাপারের। সেই মুহূর্তেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট, কিডন্যাপারের কাছ থেকে টাকা হাতানোর ফন্দি আঁটে তাঁরা, আর ঘটতে থাকে মজার সব ঘটনা। এই নিয়ে প্রিয়দর্শনের বিখ্যাত কমেডি সিনেমা ‘হেরা ফেরি’।

এই সিনেমায় অভিনয় করে পরেশ রাওয়াল বেশি প্রশংসা পেলেও অক্ষয় কুমার ও নিজের কৌতুকাবহ প্রতিভার পরিচয় দিয়ে প্রশংসিত হন। এরপর থেকেই কমেডি ধারার সিনেমায় নিয়মিত হয়ে উঠেন। এই সিনেমা দিয়েই যাত্রা শুরু হয় প্রিয়দর্শন-অক্ষয় জুটির,যার সুবাদে পরবর্তীতে আরো পাই গরম মশালা, ভাগাম ভাগ, ভুল ভুলাইয়া, খাট্টা মিঠার মত সিনেমা।এই সিনেমায় আরো অভিনয় করেন সুনীল শেঠি ও টাবু। পরবর্তীতে এই সিনেমার সিক্যুয়েল বের হয়, যেটি বাণিজ্যিক সফলতায় ছিল অনেক এগিয়ে। সম্প্রতি এর তৃতীয় কিস্তির কাজ শুরুর ঘোষণা এসেছে।

  • নামাস্তে লন্ডন (২০০৭)

অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ারে আরেকটি আলোচিত সিনেমা। ভারতীয় এক গ্রাম্য ছেলে অর্জুন। পড়াশুনা তেমন জানেন না, তাঁর সাথেই ঘটনাক্রমে বিয়ে ঠিক হয় লন্ডনে বড় হওয়া জাসমিতের সঙ্গে, কিন্তু বিয়ের আগে তাকে যেতে হয় লন্ডনে। ভারতের পাঞ্জাব থেকে আধুনিক লন্ডন গিয়ে অর্জুন নিজেকে কিভাবে সামলিয়েছেন এই নিয়েই সিনেমা ‘নামাস্তে লন্ডন’। বিপুল শাহর পরিচালনায় অর্জুন চরিত্রে অভিনয় করে অক্ষয় কুমার বেশ প্রশংসিত হন, এছাড়া এই সিনেমায় অভিনয় করেন ক্যাটরিনা কাইফ, ঋষি কাপুর ও উপেন প্যাটেল।

  • সংঘর্ষ (১৯৯৮)

বলিউডের অন্যতম সেরা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘সংঘর্ষ’। মুকেশ ভাটের প্রযোজনায় সিনেমাটির পরিচালক ছিলেন তনুজা চন্দ্র। আশুতোষ রানা এই ছবিটি করে দর্শক থেকে সমালোচক মনে সবার মন জয় করলেও প্রফেসর আমান ভার্মার চরিত্রে অক্ষয় কুমারও অনবদ্য ছিলেন। এছাড়া সিবিআই অফিসারের চরিত্রে ছিলেন প্রীতি জিনতা।

  • রুস্তম (২০১৬)

ভারতীয় নৌ অফিসার রুস্তম। নিজের স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে খুন করেন স্ত্রীর প্রেমিককে। আদালতে গিয়ে তিনি তা স্বীকারও করেন। তবে নিজের স্ত্রীকেও তিনি ক্ষমা করে দেন, কিন্তু কেন! উঠে আসে নেপথ্যের কাহিনী। সত্য ঘটনা অবলম্বনে সুরেশ দেশাইয়ের সিনেমা ‘রুস্তম’। নাম ভুমিকায় অভিনয় করে আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় পুরস্কার ঘরে তোলেন অক্ষয় কুমার, এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন ইলিনা ডি ক্রুজ।

  • খিলাড়ি (১৯৯২)

বলিউডে অক্ষয় কুমারের পরিচিতি আব্বাস- মুস্তানের ‘খিলাড়ি’ সিনেমা দিয়েই। এর আগে একাধিক সিনেমা মুক্তি পেলেও খিলাড়ির মুক্তির পর বলিউড মহলে আলোচিত হতে থাকেন,দর্শকদের কাছে তিনি এখনো খিলাড়ি নামেই পরিচিত। পরবর্তী এই খিলাড়ি সিরিজ নিয়ে মোট ৮ টি সিনেমা মুক্তি পায়,এর মধ্যে অন্যতম ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি অন্যতম। এই সিরিজ গুলোতে তিনি বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্যান্ট ব্যবহার করে আলোচিত হয়েছিলেন।

  • রাউডি রাঠোর (২০১২)

অক্ষয় কুমারের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল সিনেমা। এই সিনেমা দিয়েই তিনি শত কোটির ক্লাবে প্রবেশ করেন। অ্যাকশন- কমেডি নির্ভর এই ছবিটি পরিচালনা করেন প্রভু দেবা। এটি ছিল একটা তেলেগু সিনেমার রিমেক। মুক্তির পর ভীষন সাড়া ফেলে সিনেমাপ্রেমীদের কাছে। বিশেষ করে দ্বৈত চরিত্রে অক্ষয় কুমারের স্বভাবজাত অভিনয় বেশি দর্শকালোচিত হয়। এই সিনেমায় অক্ষয় কুমারের বিপরীতে ছিলেন সোনাক্ষী সিনহা, গান গুলোও বেশ জনপ্রিয় হয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।