হাতে তাঁর অ্যাকুস্টিক, পকেটে হারমোনিকা

‘কেউ প্রেম করে, কেউ প্রেমে পড়ে’ – ২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার এই জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের সামনে নতুন ভাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন তৎকালীন এলআরবি ব্যান্ডের এক সদস্য। সেই সময়েই ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমায় তাঁর কন্ঠে গাওয়া ‘যায় দিন যায় একাকী’র তুমুল জনপ্রিয়তায় তিনি হয়ে উঠেন সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক, পেয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদের সাহচর্য। তিনি শুধু গায়কই নন, একজন স্বনামখ্যাত সুরকার ও বটে, তিনি এস আই টুটুল।

‘ও কারিগর দয়ার সাগর, ওগো দয়াময়’ -হুমায়ূন আহমমেদের লেখা এই দরদ মাখা গানটির সুরকার ও গায়ক হচ্ছেন এস আই টুটুল। গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল ‘রুপালি রাত্রী’ টেলিছবিতে। মূলত তখন থেকেই হুমায়ূন আহমেদের সাথে সখ্যতা শুরু।

এছাড়া আরেক বিখ্যাত গান ‘যদি মন কাঁদে’র সুরকার তিনি। এছাড়া নয় নম্বর বিপদ সংকেত, আমার আছে জল, ঘেটুপুত্র কমলা সিনেমা সহ অসংখ্য নাটকে সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে বানানো নিরন্তর, দারুচিনি দ্বীপ, কৃষ্ণপক্ষ সিনেমার সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন তিনিই।

এসব ছবিতে তিনি গান ও গেয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি সিনেমার সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন এর মধ্যে হৃদয়ের কথা, রানী কুঠির বাকী ইতিহাস, রং নাম্বার, তুমি আছো হৃদয়ে, আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা, বাপজানের বায়োস্কোপ অন্যতম। সব ক’টা ছবিতেই রয়েছে জনপ্রিয় গান এর মধ্যে প্রেমে পড়েছে মন,আমার মাঝে নেই আমি,আদরে আদরে, হও যদি ঐ নীল আকাশ, স্বপ্ন তুমি সত্যি তুমি, দু:খ টাকে দিলাম ছুটি, নদীর নাম ময়ূরাক্ষী, বৃষ্টিবন্দী, ঠিকানা আমার নোটবুকে অন্যতম।

খ্যাতনাম এলআরবি ব্যান্ড ছেড়ে দেবার পর ‘ফেস টু ফেস’ ব্যান্ড গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে সেই ব্যান্ড ‘ধ্রুবতারা’ নামে পরিচিতি পায়। চলচ্চিত্রে প্রথম গান ‘ভালোবাসার মূল্য কত’ ছবিতে। ব্যাচেলর, হৃদয়ের কথা ছবিতে গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পাবার পর হয়ে উঠেন অন্যতম ব্যস্ত গায়ক। বেশ কিছু অ্যালব্যাম ও বের করেন। ৫০০-টির ওপর সিনেমা ও নাটকের সঙ্গীতায়জনের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

তখন প্রিয়া আমার প্রিয়া ছবিতে ‘নি:শ্বাস আমার তুমি’ গানের জনপ্রিয়তার পর হয়ে ওঠেন শাকিব খানের ছবির নিয়মিত গায়ক। তিনি বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেওয়া প্লে-ব্যাক সিঙ্গার। এরপর বাণিজ্যিক ছবিগুলোতে স্থুল গান করতে করতে অবনমন ঘটে তাঁর গায়কীর। সঙ্গীত পরিচালনায় অনিয়মিত হয়ে পড়েন। যেটা ছিল হতাশাজনক। নিজের পারিশ্রমিক, ব্যস্ততা বাড়িয়েছেন ঠিকই, কিন্তু শ্রোতাদের কাছে আস্থা হারিয়েছেন।

এখন পর্যন্ত জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন চারবার। দারুচিনি দ্বীপের অনবদ্য সঙ্গীত পরিচালনার কৃতিত্ব স্বরুপ প্রথম জাতীয় পুরস্কার পান। এরপর ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না, বাপজানের বায়োস্কোপের জন্য গায়ক ও সুরকার হিসেবে পুরস্কার লাভ করেন। ‘নিরন্তর’ সিনেমার জন্য ভারতের চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হন।

ব্যক্তিজীবনে বিয়ে করেছেন মডেল ও অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদকে। রয়েছে দু’টি সন্তান। অনেকদিন হল তাঁর গাওয়া নতুন কোনো গান লোকের মুখে মুখে ঘুরছে না। চলছে অপেক্ষা, অপেক্ষার প্রহর যেন দীর্ঘ না হয়!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।