‘বুড়ো বয়সেও আমরা একটা-দুইটা ভাল ক্যাচ ধরতে পারি’

এমনি একটা রেকর্ড নিশ্চয়ই কখনো প্রত্যাশিত ছিল না মুশফিকুর রহিমের জন্য। যেকোনো ফরম্যাটে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে তিনি আউট হয়েছেন ৯৯ রানে। শুধু তাই নয়, এশিয়া কাপের মঞ্চেও এর আগে কখনো কোনো ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে থাকতে আউট হননি। তবে, দলের দারুণ এক জয়ে সেই কষ্টের ওপর প্রলেপ দিতে পেরেছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে সংবাদ সম্মেলনে এসে তেমনটাই বললেন তিনি।

  • মাশরাফির অবিস্মরণীয় ক্যাচ

এটা অনেক বড় উইকেট ছিল। শোয়েব ওদের দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ধারাবাহিক ক্রিকেটার। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উইকেট ছিল যে তাকে বড় ইনিংস খেলতে দেইনি। আর বুড়ো বয়সেও একটা-দুইটা ভালো ক্যাচ ধরার তৌফিক আল্লাহ দিয়েছেন। সেদিক থেকে খুবই খুশি। মাশরাফি ভাইও খুশি, আমিও খুশি।

  • সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ

সত্যি বলতে, জেতার পর থেকেই দুঃখ আর পাচ্ছি না। আপনারা কতটা জানেন জানি না, দলই আমার কাছে সবার আগে। আমি যদি সেঞ্চুরি করতাম, দল ২৬০ করে হেরে যেত, ভালো লাগাটা আমার কখনোই আসত না। এটা মুখের কথা নয়, আমার মনের কথা। আমি সবসময়ই এটা অনুভব করি।

আউট হওয়ার পর আমার হতাশাটা ছিল দলের কারণেই। ড্রেসিং রুমে ফিরেও বারবার বলছিলাম যে একজন সেট ব্যাটসম্যানের অন্তত ৪৮ ওভার পর্যন্ত খেলা উচিত। কারণ নতুন ব্যাটসম্যানের জন্য ওদের বোলিং আক্রমণ খেলা সহজ নয়। দেখেছেন আজকেও যে শেষ ২০ ওভারে আমরা মাত্র ১১০ রানের মতো করতে পেরেছিলাম। এজন্যই আমার কাছে হতাশার ছিল। কিন্তু দলের জয়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • ২৪০ রানের লক্ষ্য

সত্যি বলতে, আমার মনে হয়েছিল ২৩৯ যথেষ্ট নয়। আমি ওই সময় আউট হয়ে বেশ হতাশ ছিলাম। কারণ উইকেট দেখে আমার মনে হয়েছিল, ২৬০ রান লড়াকু স্কোর। সেটা করতে হলে আমার টিকে থাকতে হতো। কিন্তু বোলাররা দারুণ করেছে।

  • প্রতিপক্ষকে আটকে ফেলার রহস্য

এই রান ডিফেন্ড করতে হলে শুরুতে উইকেট দরকার ছিল। মুস্তাফিজ যা করেছে, এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না। গুরুত্বপুর্ণ উইকেট নিয়েছে। মাশরাফি ভাইয়ের ক্যাচটি ছিল অসাধারণ। কারণ আমরা জানতাম ওদের ব্যাটিংয়ে শোয়েব মালিকই আমাদের মূল হুমকি। দু-একটি সুযোগ হাতছাড়া করলেও ফিল্ডিং সব মিলিয়ে ছিল দারুণ।

  • অধিনায়ক মাশরাফির ভূমিকা

মাশরাফি ভাই একটি কথাই বলেছিলেন যে যুদ্ধে নামলে পেছনে তাকিয়ে থাকার সুযোগ নেই। যুদ্ধে নামলে গা বাঁচিয়ে চললে চলবে না। হয় মারবেন, নয় মরবেন। মাশরাফি ভাই যে কথাটি বলেছে, এটা দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। কারণ লড়াইয়ে নামলে আসলে দেখার সুযোগ নাই দলে কে আছে না আছে। আমাকে আমার শত ভাগ দিতে হবে। আমরা ফল নিয়ে চিন্তা না করে চেষ্টা করেছি শতভাগ দিতে। জানতাম সেটি দিতে পারলে আমরাই জিতব।

  • জুনিয়র ক্রিকেটারদের ভূমিকা

হয়ত একদিন আমিও থাকব না। কারও জন্য কিছু থাকে না। আমরা পাঁচজনও থাকব না। তার পরও ক্রিকেট চলতে থাকবে। সবাই সেদিক থেকে অনুপ্রাণিত ছিল সত্যিই, যে কিছু দেখাতে হবে। মেহেদি, মুস্তাফিজ, মিঠুন, জুনিয়ররাই আজকের ম্যাচের সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।