শক্ত চোয়ালের সর্পরাজ

পণ করেই নেমেছিলেন তিনি। যাই হোক না কেন, না জিতিয়ে তিনি ফিরবেন না। গত দশ বছর ধরে দলটাকে ভালবেসে নিজের সবটা দিয়ে খেলেছেন, তার ডেডিকেশন, হার্ডওয়ার্ক দলে আদর্শও মানা হচ্ছে নতুনদের জন্য, ওয়ানডে-টেস্টের মত ক্লাস ফরম্যাটগুলোতে তিনি নিজেকে আবশ্যক একজন করে তুলেছেন।

কিন্তু শর্টার ভার্সন ক্রিকেটে তার পাড়ভক্তটাও কিছুটা সন্দিহান হয়ে পড়ছিল টি-টোয়েন্টি দলে তাঁর স্থান থাকা নিয়ে। তিনি স্ট্রাইক রোটেট করে খেলতে ভালবাসেন, তার টেকনিক যথেষ্ট স্ট্রং, কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্লাসকে অবজ্ঞা করে আপন করে নিচ্ছে পাওয়ারকে। তাই ফর্মটা ঠিক ভাল যাচ্ছিল না। দলের ভেতরে-বাইরে শোরগোল উঠছিল তার টি-টোয়েন্টি সক্ষমতা নিয়ে। হ্যা, সেটা এই ফেব্রুয়ারিতে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পরও।

সবাই ভাবে, তার আবেগ বেশী, কিন্তু তার মানসিকতা কতটা শক্ত। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পাওয়া ১৯ টি জয়ে ৬ টি জয়ে তার সরাসরি বা পরোক্ষ অবদান সবাই ভুলেই গেছে। তাই কাল নেমেছিলেন নিজেকে প্রমাণের তাগিদ নিয়ে।

নিজের প্রতি ছুড়ে দেয়া চ্যালেঞ্জটি কি দারুণভাবেই না জিতলেন মুশফিকুর রহিম। কতটা স্বস্তিবোধ করছিলেন ম্যাচ জিতিয়ে, বোঝা যাচ্ছিল তার উদযাপনে। গত কয়েকদিনের চরম দুঃসময়কে ঠেলে মাতলেন ‘নাগিন ড্যান্স’। আহত বাঘ যেন সর্পরাজ হয়ে ছোবল দিল সমালোচকদের উপর।

যখন ব্যাট করতে নেমেছিলেন তখন দল ছিল ভাল অবস্থানে। তামিম-লিটনের ফ্লাইং স্টার্টের পর রানের ফ্লোটাকে ধরে রাখতে দরকার ছিল ঠাণ্ডা মাথার একজন ব্যাটসম্যান। মুশফিক নামার পর যা তাণ্ডব ছোটালেন, স্লান হয়ে গেল লিটনের ঝড়!

যখন যেভাবে দরকার সেভাবে খেলেছেন, সিঙ্গেল নিয়েছেন, বাউন্ডারি হাকিয়েছেন, আস্কিং রেটকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন, পার্টনারকে সেট হবার সুযোগ দিয়েছেন।

স্নায়ুর উপর তার অসাধারণ জোরের প্রমাণ দিলেন ১৯ তম ওভারের পঞ্চম বলে, সাব্বির আউট হওয়ায় কিছুটা স্নায়ুচাপ সৃষ্টি হলেও বিশাল এক ছয় মেরে জয়ের পথ একদম সহজ করে দিয়েছেন, যেই শট ছিল ম্যাচের অন্যতম টার্নিং মোমেন্ট।

ম্যাচ শেষে আগ্রাসী উল্লাস বুঝিয়ে দেয় কতটা চাপে থেকে খেলেছিলেন তিনি। আহত বাঘ খেপে গেলে কি অবস্থা হয়, হাড়েহাড়ে বুঝে গেল লঙ্কানরা। সবাই ভাবে, মুশফিক একটু বেশিই আবেগী, কিন্তু তিনি মানসিক ভাবেও কতটা শক্ত সেটারই এবার প্রমাণ মিললো।

তরুণরা পারফর্ম করলে বাংলাদেশ ডমিনেট করে ঠিকই। কিন্তু ম্যাচ জেতানোর গুরুদায়িত্ব নিজ থেকেই কাধে তুলে নেন মুশফিক-তামিমরাই। স্যালুট মুশফিক, স্যালুট আপনার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাবকে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।