এমটিভি রোডিজ বিজয়ীরা কে কোথায়?

বিশ শতকের তরুণরা কমবেশি ‘এমটিভি রোডিজ’ – নামটির সাথে পরিচিত। জনপ্রিয় এক রিয়েলিটি শো এই এমটিভি রোডিজ। অ্যাডভেঞ্চার আর নানা রকম স্টান্টের সুবাদে শো’টি তরুণ-তরুণীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ২০০৩ সাল থেকে চলে আসা এই শো-এর বদৌলতে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়ে গেছেন অনেকেই। আবার অনেকে হারিয়ে গেছেন। সেসবের খতিয়ান নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।

রানভিজে সিং (২০০৩)

রোডিজের প্রথম আসরের বিজয়ী। বিজয়ী হওয়ার পর তিনি এমটিভিতে ভিডিও জকি বা সঞ্চালকের কাজ শুরু করেন। রোডিজ ও স্প্লিটসভিলাসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠানে কাজ করেছেন তিনি। বিচারকও ছিলেন। বেশ কিছু সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে কাজ করলেও সঞ্চালনার মত এখানে থিঁতু হতে পারেননি।

আয়ুষ্মান খোড়ানা (২০০৪)

বলিউডের সময়ের অন্যতম সেরা নবীন তারকাদের একজন তিনি। তাঁর শুরুটাও হয়েছিল রোডিজ থেকে। একটা সময় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতেন। এরপর আসেন বলিউডে। জনপ্রিয়তা পান। প্রশংসা পান সমালোচকদের কাছ থেকেও। গানের গলাও দারুণ। বেশ কিছু সিনেমায় তিনি প্লে-ব্যাক করেছেন।

পারুল শাহী (২০০৫)

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে আসা প্রথম প্রতিযোগী ছিলেন তিনি। প্রথম নারী হিসেবে তিনি এই রিয়েলিটি শো জিতে যান। দর্শকদের মধ্রে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। তবে, তাঁর ব্যাপারে আর কিছু জানা যায়নি। কারণ, তিনি সকল ধরণের লাইম লাইট থেকে দূরে আছেন।

অ্যান্থনি ইয়েহ (২০০৬-০৭)

অ্যান্থনি ছিলেন রোডিজের ইতিহাসে সবচেয়ে নম্র প্রতিযোগীদের একজন। চতুর্থ আসরে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। তিনিও লাইম লাইট থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর বসমান কানাডায়।

আশুতোষ কৌশিক (২০০৭-০৮)

আশুতোষ কৌশিক রোডিজের পঞ্চম আসরের বিজয়ী। এরপর বিগ বসের দ্বিতীয় আসরেও তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর তিনি শো-বিজ ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন। ‘জিলা গাজিয়াবাদ‘ ও ‘শর্টকাট রোমিও’ সিনেমায় কাজও করেন। তবে কখনোই নিজের জায়গা স্থায়ী করতে পারেননি।

নওমান সেইট (২০০৮-২০০৯)

রোডিজের সুবাদে নিজের শহর ব্যাঙ্গালুরুতে তিনি বেশ খ্যাতি পান। স্থানীয় এই ক্রিকেটার ওখানে স্থানীয় এক ক্রিকেট কোচিং ক্যাম্পের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরও হন। রোডিজের আরেক প্রতিযোগী তামান্নার সাথে তাঁর এমএমএস তাঁর খ্যাতি হ্রাসের কারন হয়ে দাঁড়ায়। ক্রিকেটের সাথে তাঁর দূরত্ব সৃষ্টি হলেও এমটিভির অন্যান্য কয়েকটি শো-তে তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

আনোয়ার সাঈদ (২০০৯-১০)

এমবিএ গ্র্যাজুয়েট ছিলেন। দেখতে-শুনতেও খারাপ ছিলেন না। তবে, কোনো ভাবেই তিনি বিনোদনের জগতে পরবর্তীতে জায়গা করে নিতে পারেননি। তবে, মন দিয়েছিলেন পড়াশোনায়। তিনি এখন সিএফএ ডিগ্রিধারী।

আঁচল খোড়ানা (২০১১)

রোডিজ বিজয়ী দ্বিতীয় নারী তিনি। রোডিজ যাত্রা শেষ করে তিনি একটা হিন্দি ড্রামা সিরিজে কাজ করেন। প্রশংসিতও হন। এখন অবশ্য কাজ থেকে কিছুটা বিরতি নিয়েছেন।

বিকাশ খোদার (২০১২)

বিকাশের অডিশন রাউন্ডটা সুবিধার ছিল না, তারপরও তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। তিনি মডেলিং করেন এখন। বিনোদন জগতে নাম লেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যথেষ্ট আশাবাদী তিনি।

পলক জোহাল (২০১৩)

রোডিজের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত বিজয়ী তিনি। যথেষ্ট রহস্য ঘেরা একজনও বটে। জয়ের পরও তিনি গণমাধ্যমে গিয়ে বলেছিলেন, রোডিজ আসলে কোনো রিয়েলিটি শো নয়। এটা একটা সাজানো নাটক। যা দেখানো হয়, সবই আগে থেকে পরিকল্পনা করা। রোডিজের পর তিনি কিছু মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেন। এখনও পায়ের নিচে শক্ত মাটি পাননি বিনোদন জগতে।

নিখিল সাচদেবা (২০১৪)

সেবারই শেষবারের মত শোটির সাথে ছিলেন রাঘু রাম ও রাজিব লক্ষ্মণ। সেই আসরে অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন নিখিল সাচদেবা। এরপর থেকে তিনি আছেন এমটিভির সাথেই। সিনেমাতে কাজ করারও ইচ্ছা পোষণ করেছেন তিনি।

– বিয়িং ইন্ডিয়ান ও রেডিফ.কম অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।