ধোনি বা ভারতীয় বোর্ড কি নীতি লঙ্ঘনের অধিকার রাখে?

খেলাধুলা সব সময়ই শান্তি ও শৃঙ্খলার কথা বলে।

ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি তাঁর কিপিং গ্লাভসে সেনাবাহিনীর একটি প্রতীক ব্যবহার করেছেন। যা স্পষ্টত ক্রিকেটের আইসিসির পোষাক বিষয়ক নির্দেশনার বিরুদ্ধাচার। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আইসিসি তাকে ওই জিনিস পরতে ‘না’ করে দিয়েছে। কিন্তু বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) বলছে, তাদের ক্রিকেটার ওই প্রতীকসম্বলিত গ্লাভসই পরবেন।

ধোনি তাঁর গ্লাভসে ওই প্রতীক কেনো জড়িয়েছেন, তা তিনি বলেননি। আমরা ধরে নিচ্ছি দেশপ্রেম প্রকাশের উদ্যোগ ও পদক্ষেপ হিসেবেই এই কাজ করেছেন তিনি। সুতরাং একে মন্দ বলার সুযোগ নেই। দেশপ্রেমকে কোনোভাবে প্রতীকীকরণ করা বা প্রাতিষ্ঠানিকতা দেয়া যদিও একধরণের লৌকিকতাই।

যা হোক, যেহেতু বিশ্বকাপ ক্রিকেটের একটি আয়োজক সংস্থা আছে এবং অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটদের পোষাক বিষয়ক সুনির্দিষ্ট নীতি আছে, সেহেতু ধোনি বা বিসিসিআই কি জোর করে সেই নীতি লঙ্ঘনের অধিকার রাখেন?

যদি রাখে, তাহলে অন্যদেরও কি সেই অধিকার দেয়া হবে? যদি দেয়া হয়, তাহলে তো হলোই! সবাই যার যার যা খুশি তা পরে, তা জড়িয়ে মাঠে নেমে পড়বে এবং খেলাধুলাকে যে কারণে শান্তি প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার মনে করা হয়, সেই কারণটাই হয়ে যাবে নিঃশ্বেষ!

শেষ কথা হলো, আইসিসির নিয়ম ভেঙে জোর করে পোষাকে অননুমোদিত প্রতীক ব্যবহারে বিসিসিআই যে অবস্থান নিয়েছে, তা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু এবং একই সাথে শিষ্টাচার ও ভদ্রতা বহির্ভূত। বিষয়টি যদিও আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যকার বিরোধ, তারপরও এ ধরণের পদক্ষেপের বিষয়ে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করা বা অবস্থান জানানো জরুরী।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।