ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে পারে এই ছবিগুলো!

ছুটি মানেই বিনোদন। আর বিনোদন পেতে তো সিনেমার কোনো বিকল্প নেই। এই ঈদের ছুটিতে তাই আপনার জন্য নির্মল বিনোদন হয়ে আসতে পারে এই ছবিগুলো।

  • ১০২ নট আউট (বলিউড-২০১৮)

স্রেফ সিনেমা না, তারচেয়ে ঢের বেশি। মাত্র তিনটি চরিত্র, মাত্র! অমিতাভ বচ্চন, ঋষি কাপুর, জিমিত ত্রিভেদি। শেষেরজন পাল্লা দিয়েই অভিনয় করেছেন প্রথম দুইজনের সঙ্গে। অমিতাভ, যার বয়স কি না ১০২! তিনি ভাঙ্গতে চান সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচার রেকর্ড। মুদ্রার উল্টোপিঠে ৭৫ বছরের সন্তান ঋষি নিজের বয়সকে মেনে নিয়েছেন। বাবা অমিতাভ চান ছেলে বার্ধক্যকে ভুলে ফুরফুরে থাকুক। নচেৎ, ছেলেকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর হুমকি দেয়! হু! বাবা পাঠাচ্ছে ছেলেকে বৃদ্ধাশ্রমে! এমন অদ্ভুত আর মজাদার কনসেপ্ট নিয়েই ২৭ বছর পর একসঙ্গে বড়পর্দায় দুই বলিউড কিংবদন্তি। ছবিতে বাস্তবতার অনেকগুলো দিক ফুটে উঠেছে, যা আমাদের অনেকক্ষণ ভাবাবে। এটা মাস্টওয়াচ মুভি, মাস্টওয়াচ। পরিবার পরিজন নিয়ে দেখার মতোন একটা রিফ্রেশিং গল্পের অনবদ্য চিত্রায়ন। ওহ হ্যাঁ, মুভির রানটাইম? হান্ড্রেড অ্যান্ড টু মিনিটস!

  • কারওয়া (বলিউড-২০১৮)

কারওয়া শব্দের অর্থ ভ্যানগাড়ি। বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে এতটুকু বিচলিত হয় না অবিনাশ (দুলকার)। তাদের মাঝে সম্পর্কের কোন বন্ধনই যেখানে ছিল না, মৃত্যু সেখানে আবেগের জন্ম দিতে না পারাই স্বাভাবিক। শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হবে। লাশ আনতে গিয়ে জানতে পারে বদল হয়ে গেছে বডি! শুরু হয় জার্নি… রোড ট্রিপ সিনেমা। বাবা-ছেলে, মা-মেয়ে, বন্ধুত্ব। সম্পর্কের টানাপোড়েন, সম্পর্কের বোঝাপড়া। কোথাও একটা দায়সারার দায়বদ্ধতা। এসবের সাথে চমৎকার লোকেশন; ইরফান খান, দুলকার সালমান, মিথিলা পালকারের অসাধারণ অভিনয়ে হাস্যরসের মাঝে বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুন্দর সাবলীলভাবে।

  • ভিকি ডোনার (বলিউড-২০১২)

আয়ুষ্মান খুরানার প্রথম মুভি। প্রথম মুভিতেই ভিন্নধর্মী এবং স্ট্রং এক সোশ্যাল কনসেপ্টে অভিনয়। প্রশংসা করতে হবে তার। সিনেমায় ইমোশন, লাভ, ড্রামা সবই আছে। গল্প? ভিকি ইজ অ্যা স্পার্ম ডোনার!

  • দে দে পেয়ার দে (বলিউড-২০১৯)

হালকা চালের ফ্যামিলি ড্রামা। ৫০ বছরের এক একলা লোক অর্ধেক বয়েসী মেয়ের প্রেমে পড়ে! কোটিপতি হলেও কোথাও যেন একাকীত্বে ভোগেন তিনি। তরুণী মেয়েও তা অনুভব করে। লন্ডনে শুরু হয় অসম প্রেম। প্রথম ভাগে অজয় দেবগন-রাকুল প্রীতের রোমান্সে কাটলেও দ্বিতীয়ভাগে শুরু হয় কমেডি যখন অজয় সিদ্ধান্ত নেয় রাকুলকে বিয়ে করবে আর তাই অনুমতি নিতে দেশে যাবে। দেশে বউ বাচ্চা থাকে! অজয়ের স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন টাবু। রোমান্স, কমেডির মিশেলে মাস্টওয়াচ মুভি নয় হয়ত, তবে সোশ্যাল মেসেজ আছে। সিনেমায় ডুব দিতে পারলে বেশ দারুণ সময় কাটবে।

  • হাচি: আ ডগ’স টেল (হলিউড-২০০৯)

সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হৃদয় ছুঁয়ে যায়। মুভিটি কাঁদাবেই! একদিন দুদিন নয়, ৯ বছর ধরে রোজ রেল স্টেশানে অপলক চেয়ে থাকা প্রিয়মুখের ফেরার আশায়। মৃত্যুর আগ অব্দি নিরাশ হয়নি। গল্পটি এক কুকুরের অপেক্ষার, মনিবের জন্যে!

  • আলফা (হলিউড-২০১৮)

বিশ হাজার বছর আগেকার পৃথিবীতে একদল জনগোষ্ঠী শিকারে বের হয়। সেখানে দূর্ঘটনার সম্মুখীন হয়ে হারিয়ে যায় দলপতির ছেলে ‘কেডা’। এরপর শুরু হওয়া গল্পে ওই ছেলেকে দেখা যায় ঘরে ফেরার যুদ্ধে নামতে যে যাত্রাপথে দেখা মেলে ‘আলফা’ নামক এক কুকুরের। এরপরের গল্পটা কেডা এবং আলফার দুর্গম যাত্রার, ওদের বন্ধুত্বের!

  • ইট’স ওয়ান্ডারফুল লাইফ (হলিউড-১৯৪৬)

জন্মিলে মরিতে হইবে, না জন্মিলে? যদি আমাদের জন্মই না হতো? পৃথিবীতে কেউই ব্যর্থ নয় যার বন্ধু আছে! হতাশায় ভুগছেন? সিনেমাটি দেখুন। মন ভীষণ ফুরফুরে? পরিবার নিয়ে বসে পড়ুন। সাদাকালো হলেও একরত্তিও বিরক্ত হবেন না সর্বকালের অন্যতম সেরা এই মুভি দেখে। মাস্টওয়াচ, মোর দ্যান মাস্টওয়াচ!

  • চিলড্রেন অব হেভেন (ইরান-১৯৯৭)

কেউ কেউ অনেক পেয়েও সুখটুকু পায় না। আবার কেউ আছেন, অল্পেই তুষ্ট। একজোড়া স্কুল কেডস কতখানি গুরুত্ব রাখে আমাদের কাছে? ইরানি সিনেমাটি দেখুন, সাধারণ প্রশ্নটিই অন্যরকম হয়ে ঘুরপাক খাবে মনের জগতে! মাঝেমাঝে সিনেমা দেখে কাঁদতে হয়, নিজেকে ফিল করতে হয়! এটি তেমনই এক সিনেমা। ছোট্ট দুই শিশুকে নিয়ে পরিচালক মাজিদ মাজিদি সবার হৃদয় ছুঁয়েছেন!

  • আ মোমেন্ট টু রিমেম্বার (দক্ষিণ কোরিয়া-২০০৪)

সব গল্পের সুখের সমাপ্তি থাকে না, তবুও মানুষ প্রেমে পড়ে! রোমান্টিক ড্রামা। কোরিয়ার থ্রিলারেই বাঙালি বেশি অভ্যস্ত। কোরিয়ান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সেরা রোমান্টিক মুভিটি দেখার পর অবশ্য রোমান্টিক জনরার মুভি দেখতে মন আনচান করবে!

  • ওয়ানডে (থাইল্যান্ড-২০১৬)

পছন্দের মানুষকে মাত্র একদিনের জন্য গার্লফ্রেন্ড হিসেবে পাওয়া, একত্রে গোটা একটি দিন কাটানো, তারপর গার্লফ্রেন্ডের সবকিছু ভুলে যাওয়া! রোমান্টিক ড্রামা সিনেমা। থাইল্যান্ডের মুভিগুলো সবসময়ই একটু ভিন্নধারার। এটিও বেশ উপভোগ্য।

  • দ্বিতীয় কৈশোর (২০১৯)

অপূর্ব আর আফরান নিশোর নাটক মানেই ইদানিং বিরক্তির আরেক নাম হলেও দ্বিতীয় কৈশোর চলচ্চিত্রে স্বস্তি দেবে দুইজন। এদের সাথে তাহসান রয়েছে। তিন বন্ধু, যারা জীবনের নানান বাঁকবদলের পর একটু একটু করে গুছিয়ে নিতে শুরু করেছে, তখনই কোথা হতে যেন ফের ফিরে আসে পুরনো দিন, পুরনো দিনের কর্মফল। তিনজনকে আবার একত্রিত করে! শিহাব শাহীনের পরিচালনায় বাংলাদেশের প্রথম ওয়েব ফিল্ম আপনাকে ভালো কিছুক্ষণ সময় উপহার দিবে।

  • যদি একদিন (২০১৯)

দ্বিতীয় কৈশোর ওয়েব ফিল্ম, সেই হিসাবে বড়পর্দায় তাহসানের প্রথম পরিবেশনা। তাসকিন, শ্রাবন্তীকে নিয়ে বেশ সুন্দর কাজ উপহার দিয়েছেন তিনি। মা মরা মেয়েকে নিয়ে কেটে যাচ্ছে তাহসানের সংসার। হঠাৎ করে আগমন ঘটে অফিসের কলিগ শ্রাবন্তীর। একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। মেয়ের দিকে তাকিয়ে সরে আসতে চায় তাহসান। শ্রাবন্তী খুঁজে নেয় তাসকিনকে যে কি না নামকরা গায়ক। গায়কের বাইরেও তার আরেক পরিচয় আছে, যে পরিচয়ের পেছনে লুকিয়ে পুরনো ইতিহাস। শেষের টুইস্টে অবাক হবেন, তৃপ্তও হবেন! জানবেন, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ!

  • বেঙ্গলি বিউটি (২০১৮)

রাশান নূর। অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত এই বাঙালি তরুণ ১৯৭৫ এর অশান্ত বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন সিনেমায়। পিরিয়ডিক ড্রামা জনরার সিনেমার তিনি পরিচালক, তিনিই লিড রোলে। টয়ার সাথে রাশানের মিষ্টি প্রেমের রসায়ন গৎবাঁধা বাংলা সিনেমার বাইরে ভিন্ন এক জগতে ডুব দেয়াবে। প্রতিটি গান চমৎকার, ক্যামেরার কাজও দারুণ

  • গহীন বালুচর (২০১৭)

সিনেমায় মজে গেছেন কখন বুঝবেন? যখন মন থেকে চাইবেন এমনটা না হোক, ঘৃণা করবেন ভিলেনকে কিংবা কোন এক চরিত্রে উপলব্ধি করতে থাকবেন নিজেকে! সরকারি অনুদানের ছবি গহীন বালুচরে এগুলিই ঘটবে। প্রেম, রাজনীতি, সুবিধাবাজি এসবকে পরিচালক বদরুল আনাম সৌদ এক ফ্রেমে তুলে এনেছেন। অভিনয়শিল্পী কারা কারা? ফজলুর রহমান বাবু, সুবর্ণা মোস্তফা, রাইসুল ইসলাম আসাদ; তিনটি নামই যথেষ্ট। এছাড়াও নাটকের কয়েকজন তারকা- জিতু আহসান, শাহাদাত হোসেন, লুৎফর রহমান জর্জ, নীলাঞ্জনা নীলারা পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন।

  • মাছের ঝোল (২০১৭)

মা, মাছের ঝোল ও বাঙালি শেফ সন্তানের গল্প। মাছের ঝোল সিনেমা দেখা শেষ হলে নানান স্বাদের মাছের ঝোল খেতে ইচ্ছে করবে কিন্তু। শেষ হয়েও টক ঝাল মিষ্টি রেশ রেখে দেবে এটি।

  • রসগোল্লা (২০১৮)

রসগোল্লার মতোন টসটসে রসালো মিষ্টি একটা প্রেমের কাহিনী। যাবতীয় চাপ, ব্যস্ততা ভুলে নিজেকে একটু সময় দিতে রসগোল্লা পারফেক্ট চয়েজ!

  • পোস্ত (২০১৭)

এই পোস্ত…!

সিনেমার ট্যাগলাইন বলা যায় লাইনটিকে। যার আড়ালে রয়েছে হাই প্রোফাইল সোসাইটির মা বাবার দায়িত্ব এড়ানোর নির্মম বাস্তবতা আর পরিণাম। সৌমিত্র, যিশু, মিমি, বরাবরের মতো দুর্দান্ত।

  • হাম্বল পলিটিশিয়ান নগরাজ (কান্নাড়া-২০১৮)

পলিটিকাল স্যাটায়ার ফিল্ম। ফ্রেশ কমেডি। ক্ষমতা পেতে রাজনীতিবিদরা কী কী করতে পারে হাস্যরসের মাধ্যমে তা তুলে ধরা হয়েছে। লিড রোলে ‘দানিশ সাইত’ নিঁখুত অভিনয় করেছেন। কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির এক মাস্টারপিস বলা যায় অনায়াসেই।

  • সাথামানাম ভাভাতি (তেলেগু-২০১৭)

বেলাশেষে যদি যদি দেখে থাকেন, যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে এই ছবিটি আপনার জন্য। অসম্ভব চমৎকার পারিবারিক সিনেমা, একদম পরিবারের সবাই মিলে উপভোগ করা যাবে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী সিনেমাটি দারুণ কয়েকটি সামাজিক মেসেজ রেখেছে দর্শকের জন্য।

  • আনান্দাম (মালায়ালাম-২০১৬)

বাংলা করলে অর্থ দাঁড়ায় আনন্দ। একদম সার্থক নামকরণ! একদল পোলাপানের ভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারে যাওয়া স্টাডি ট্যুরের গালগপ্পো। স্যারদের ফাঁকি দিয়ে ড্রিংকস করা, ঘুরতে যাওয়া, প্রেমিকাকে মনের কথা জানানো, ইচ্ছেপূরণের খেরোখাতা খুলে বসা! অনবদ্য এক মুভি। প্রতিটি চরিত্র নতুন অথচ কী সাবলীল। মন ভালো করে দিতে, নস্টালজিয়ায় ফিরিয়ে নিতে এই রোমান্টিক ড্রামা মুভিটি হতে পারে ফ্রেশ চয়েজ।

 

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।