গালি বয়: রণবীরের যুগে বসবাস

উচ্চ মাধ্যমিকের বাংলা শিক্ষকরা নাকি নাম্বার দিতে কার্পণ্য করেন। এই নিয়ে অনেক হাস্যরসের প্রচলনও আছে। তবে, যারা বাংলা শিক্ষকদের কৃপণতার উদাহরণ দেন, তারা সম্ভবত বলিউড সমালোচকদের ব্যাপারে ধারণা রাখেন না।

বলিউডের স্বীকৃত সমালোচকরা খুবই খুঁতখুঁতে ঘরানার মানুষ। কম নম্বর দিতে পারাকেও যেন একটা ক্রেডিটের বিষয় তাঁদের চোখে। আমার তাঁদের নিজেদের মধ্যে মতের অমিল তো আছেই। তবে, এবার অনেকদিন পর কোনো নির্দিষ্ট একটি সিনেমার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন তারা।

সিনেমার নাম ‘গালি বয়’। রণবীর সিং, আলিয়া ভাট ও জয়া আখতারের নয়া মাস্টারপিস। সমালোচকদের অতি উচ্ছ্বাসই বলে দেয় সম্ভবত এই ছবিটিই এই দশকের অন্যতম আলোচিত ছবি হতে যাচ্ছে।

রাজীব মাসান্দ, অনুপমা রাহুল দেসাইয়ের মত খুঁতখুঁতে সমালোচকরা ছবিটিকে পাঁচে দিয়েছেন চার। তারাণ আদর্শ তাঁর ‘ওয়ান ওয়ার্ড রিভিউ’-এ বলেছেন – ফ্যান্টাস্টিক। রেটিং দিয়েছেন চার। যার ২.৫ বা ৩ রেটিং পয়েন্ট দেওয়াকেও বিশাল কিছু ভাবা হয় সেই শুভ্রা গুপ্তা দিয়েছেন ৩.৫।

এটুকুতেই বলে দেওয়া যায় রণবীর সিং তাঁর সমসাময়িকদের তুলনায় অনেক দ্রুত গতিতে দৌঁড়ে চলেছেন। ‘গালি বয়’ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বায়োপিক নয়। এটা ডরভি বস্তির প্রতিটি মানুষের রোজকার যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে ‘মুরাদ’ নামের চরিত্র করা রণবীরের অস্ত্র হল র‌্যাপ মিউজিক। আর এই পথে সবচেয়ে ভরসার মানুষটি হলেন সাফিনা, যার চরিত্রটি করেছেন আলিয়া ভাট।

কেন্দ্রীয় চরিত্রে রণবীর যে অভিনয়টা করেছেন, তা বলিউডের অন্য কাউকে দিয়ে আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। পদ্মাবত, সিম্বা, এরপর গালি বয় – তিনটি ভিন্ন ঘরাণার ছবির প্রতিটিতেই নিজেকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন রণবীর সিং।

আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা একজন সুপারস্টারের শুণ্য থেকে বৃহতে পরিণত হওয়ার ব্যাপারটা সামনে থেকে দেখতে পাচ্ছি। আর ভবিষ্যতের এই সুপার স্টারের সাথে সময়ের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের ‍যুগলবন্দী বেশ জমেছে।

গালি বয় ছবির সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল সিনেমার ভাষা, সিনেমাটির বিশালত্ব। সিনেমা মানেই হল ‘সামথিং বিগ’, সিনেমা মানেই বিশাল এক ক্যানভাস। এখানে সেই বিশাল ক্যানভাসটা হল ডরভি বস্তির মানুষ। এখানে প্রতিটা মানুষই একেকটা গল্প। সিনেমাটিতে যারা ছিলেন, তারা কেউই স্রেফ পর্দা ভরানোর জন্য ছিলেন না, প্রত্যেকেই এখানে এমন কিছু ভূমিকা রেখেছেন, যা না হলে আসলে সিনেমাটিই পূর্ণতা পেত না। নি:সন্দেহে পরিচালক জয়া আখতারের সেরা ছবি এটি। মুরাদের সাফল্য-ব্যর্থতাকে ঘিরে যে টেনশন তার স্টোরি টেলিংয়ে রিমা কাগতিকে সাথে নিয়ে পুরোপুরি সফল তিনি।

চমকে দিয়েছেন সিদ্ধান্ত চতুর্বেদি। ওয়েব সিরিজ ‘ইনসাইড এজ’-এ যে মানুষটা লাজুক, স্বল্পভাষী এক চরিত্র করেছিলেন, এবার তিনি যে আমূল পাল্টে ফেললেন। রণবীরের সাথে রীতিমত পর্দায় পাল্লা দিয়ে অভিনয় করলেন। কালকি কোচলিনের মত অভিনেত্রীর স্বল্প সময়ের উপস্থিতি সিনেমাটিতে আরো নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।

তবে, এই সব কিছুর শেষে একটা কথা বারবারই বলতে হয় যে, এই ছবিটা রণবীর সিংয়ের, এই ছবিটা রণবীরের স্টারডমকে আরো একধাপ ওপরে নিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার। কিংবা ছবিটা মুম্বাইয়ান স্পিরিটের প্রতি পরিচালকের ভালবাসায় মাখা এক প্রেম পত্র।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।