মোস্তফার বইয়ের দোকানটা আর নেই!

মোস্তফার কাছে গেলে কেউ খালি হাতে ফিরত আসে না।

প্রায় একযুগ আগে ধ্রুব এষের কাছে নাম শুনে সোভিয়েতস্ক কৌতুকভ বইটা খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম, বইটার লেখক প্রকাশক কারো খবর জানিনা। নীলক্ষেতে মোস্তফার কাছে খোঁজ নিতে গেলাম, তিনি বললেন সামনের সপ্তাহে আসেন, পেয়ে যাবেন।

পরের সপ্তাহে গিয়ে দেখি দোকানের সামনে বিরাট হল্লা। শামসুর রাহমান অটোগ্রাফ দিয়ে নিজের বই উপহার দিছিলেন নব্বই দশকের একজন তরুন কবিকে। তরুন কবি গাঁজা খাইতেন, সেই বই সেরদরে বেচে দিছেন। অবশেষে বইটা চলে আসছে মোস্তফার হাতে। এখন পাঠকদের উপস্থিতিতে সেই বই নিলামে উঠছে।

মুহুর্তের মধ্যে সেই খবর পুরো শাহবাগ ছড়ায়ে গেল। বইটা সংগ্রহ করে আজিজ মার্কেটে গাঁজাখোর কবিদের নিন্দাসভা বসলো। মোস্তফা একটা ইতিহাস।

মোস্তফার লগে আমারে পরিচয় করায়ে দিছিলেন সলিমুল্লাহ খান। নীলক্ষেতে চিপায় তার এই পুরান দোকানটা ঘিরে সারাবছর বইপ্রেমিদের আড্ডা থাকত। আমরা তারে গালাগালি করতাম, দাম বেশি নেয়। নতুন বইয়ের দামে পুরান বই বেচে। কিন্তু না কিনে উপায় নাই, মোস্তফা ছাড়া এই বই আর পাব কই? সোভিয়তস্কি কৌতুকভের একটা ছেড়া ময়লা কপি আমার নতুন বইয়ের দামেই কিনে আনতে হইছিল।

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত যে কোন রেয়ার বই, প্রিন্ট আউট বই, হারায়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বইটা দরকার হইলে একমাত্র ভরসা ছিল মোস্তফা।

মোস্তফা হয় একজন অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন লোক। যে কোন বইয়ের নাম বললেই সে চোখ বন্ধ করে সেই বইটার লেখকের নাম, প্রকাশনীর নাম, গায়ের দাম গড়গড় করে বলে দিতে পারে। তার চেয়ে বড় কথা, যেইখান থেকেই হোক বইটা ঠিকই জোগাড় করে এনে দিতে পারে!

শাহবাগ কাটাবন এলাকায় ৪টা বড় বড় বইয়ের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়া যতটা শঙ্কার, তার চেয়েও ভয়াবহ ব্যপার নীলক্ষেতে মোস্তফার ছয় ফুট সাইজের দোকান বেঁচে দেয়ার খবরটা।

এই দোকানটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দেশের সাহিত্য বাজারের একটা বৈচিত্রময় যুগের পরিসমাপ্তি ঘটে গেল। মোস্তফা ভাল থাকুক।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।