বলিউডের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০ অভিনেতা

বলিউডে অভিনেতাদের পারিশ্রমিক মূলত চলচ্চিত্রের ধারা, প্রযোজকের বাজেট কিংবা সিনেমা থেকে পরবর্তীতে লাভ হবার সম্ভাবনা ইত্যাদি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। স্বভাবতই, একজন অভিনেতা প্রতিবছর সিনেমায় কাজ করতে সমপরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন না।

অভিনয়ের মান, জনপ্রিয়তা, দেশীয় বক্স অফিসে তাদের সিনেমার আয় এবং পাশাপাশি বিদেশে আয় – এসব ব্যাপারও এর ওপর প্রভাব রাখে। যেহেতু তাঁরা বিনোদন জগতে মোটামুটি প্রিয় মুখ, পাশাপাশি প্রযোজকের মুখের হাসিও বটে। তাই তারা সিনেমার কাস্টিং এর জন্যে প্রায়ই বেশি পরিমাণ বেতন চেয়ে থাকেন। চলুন পারিশ্রমিক নেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০ অভিনেতার খবর জানা যাক।

  • রণবীর সিং: ১৫ কোটি রুপি

‘রামলীলা’, ‘বাজিরাও মাস্তানি’ এবং ‘পদ্মাবত’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় এবং বক্স অফিসে এই সিনেমাগুলোর গ্রসিং দেখেই বোঝা যায় তিনি ঠিক কতটা ব্যয়বহুল। প্রতিটি সিনেমা করতে তিনি বর্তমানে নেন, ১৫ কোটি ভারতীয় রুপি। অনেকেই বলেন, রনবীর সিং হলেন আগামী দিনের সুপারস্টার। তার বর্তমান সম্পত্তি মোটামুটি ৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মত।

  • সাইফ আলী খান: ১৫ কোটি রুপি

যদিও তাঁকে বর্তমানে বলিউডে তেমন একটা দেখা যায় না, তবুও নবাবী পরিবারের এই সদস্য তাঁর পারিশ্রমিকের দিক থেকে অনড়ই আছেন বলা চলে। তিনি অতীতে অনেক হিট সিনেমা করে থাকলেও তাকে বর্তমানে একজন আন্ডার-রেটেড সুপারস্টার হিসেবে দাবি করা হয়। ছোট নবাব খ্যাত এই অভিনেতার মোট সম্পত্তি প্রায় ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমানের।

  • অমিতাভ বচ্চন: ২০ কোটি রুপি

বলিউড জগতে এতো তুমুল প্রতিযোগীতার মধ্যেও তিনি বিবর্ণ হয়ে যাননি, বরং এখনও তিনি তাঁর অবস্থান ধরে রেখেছেন ঠিক আগের মতই। তিনিই আশির দশকের প্রথম অভিনেতা যিনি তৎকালীন সময়ে বক্স অফিসে এক কোটি রূপি আয় করতে পেরেছিলেন। তার কারণেই একসময় বইউড ইন্ডাস্ট্রি অমিতাভকে ঘিরে তৈরি হয় ওয়ান-ম্যান ইন্ডাস্ট্রিতে।  ‘জাঞ্জির’, ‘শোলে’, ‘দিওয়ার’ সিনেমার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন এই গুণী অভিনেতা।

  • অজয় দেবগন: ২৫ কোটি রুপি

তিনি একজন সফল অভিনেতা এবং অন্যতম একজন সুপারস্টার হিসেবে নিজের অবস্থান সবসময়ই অটুট করে রেখেছেন বলিউডে। তার অভিনীত একাধিক সিনেমা ১০০ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করেছে। তিনি দু’বার সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার অর্জন করেছেন। তিনি ‘সিংঘাম’, ‘গোলমাল সিরিজ’ এসব সিনেমা দিয়ে নিজেকে বাণিজ্যিক ধারার অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর অভিনীত ‘দৃশ্যম’ অসম্ভব দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করে, সেই সাথে তিনি নিজেকে একজন অফবিট অভিনেতা হিসেবেও প্রকাশ করতে সক্ষম হন। এই অভিনেতার মোট সম্পতি ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের।

  • রণবীর কাপুর: ৩০ কোটি রুপি

চকলেট-বয় খ্যাত এই অভিনেতা বিগত সময়ে নানান ব্যবসায় বিফল সিনেমা করে থাকলেও তার বহুমূখী অভিনয় প্রতিভায় মুগ্ধ অনেক দর্শকই। তার কিছু সিনেমা ভালো আকৃতিতেই দর্শক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সাম্প্রতিক ফ্লপ সিনেমাগুলো সত্বেও তার তিনি মোট ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমানের সম্পত্তির মালিক।

  • শাহরুখ খান: ৪০ কোটি  রুপি

তিন খানের এক খান শাহরুখ। ‘বাজিগর’ খ্যাত এই অভিনেতা মোট ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমানের সপত্তির মালিক। তার চলচ্চিত্রগুলো, ব্র্যান্ড এডওয়ার্ডস এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) তাঁর দল কলকাতা নাইট রাইডার্স, এসব মিলিয়ে তাকে একজন সুপারস্টার থেকেও বড় উপাধি দেয়া যায়। আর সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রগুলোতে তার নিম্নমানের অভিনয় তাঁর পারফমেন্সে খারাপ প্রভাব ফেলছে। ফোর্বসের শীর্ষ ১০ জনের তালিকায় তিনি নেই। সে তালিকায় তার অবস্থান ১৮ তম।

  • হৃতিক রোশন: ৪০ কোটি রুপি

২০০০ সালের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’ এর দ্বারা ছুটে চলেছেন এই অভিনেতা। তিনি বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথম সুপারহিরো ‘কৃষ’ হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।  ভারতের কিছু গণমাধ্যমের দাবী তিনি ‘মাহেঞ্জোদারো’ সিনেমার জন্য ৫০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন।

  • অক্ষয় কুমার: ৪০-৪৫ কোটি রুপি

যখন বিশাল অংকের টাকার ব্যাপার আসে তখন পাঞ্জাবের এই অভিনেতার কথাই সবার মাথায় আসে। যদিও তিনি সালমান খানের থেকে কম টাকা নেন, কিংবা অন্যান্য সুপারস্টারদের একটা নির্দিষ্ট ভ্যালু আছে। তিনি ২০০৪ সাল থেকে বলিউডের সবচেয়ে বেশি করদাতা।

গত বছরের হিসাব অনুযায়ী তিনি ১৮ কোটি রুপি আয়কর দেন, যেখানে সালমান খান দেন ১১ কোটি এবং শাহরুখ দেন ১০.৫ কোটি। ২০১৪ সালের ছবি ‘হলিডে’র জন্য তিনি ৫০ কোটি পেয়েছিলেন। শোনা যাচ্ছে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা রোবট সিরিজের ‘২.০’ চলচ্চিত্রে তিনি সুপারস্টার রজনীকান্ত’র থেকে বেশি অর্থ পেয়েছেন। তিনি মোট ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের সম্পত্তির মালিক।

  • আমির খান: ৫০ কোটি রুপি

 

মিস্টার পারফেকশনিস্ট প্রতিটি নতুন প্রোজেক্টের জন্যেই ৫০ কোটি চেয়ে থাকেন। বক্স অফিস দেখলেই বোঝা যায় ছবিগুলো কত বড়। পিকে, ধুম-৩ এবং থ্রি ইডিয়িটের মত চলচ্চিত্রগুলো তাঁকে খ্যাতিমান অভিনেতার স্থানে ধরে রাখে। ‘গাজনি’তে প্রতিশোধ সন্ধানী কোটিপতি বা থ্রি টি ইডিয়টের বা তালাশের মত সিনেমাগুলোতে ভিন্নধর্মী চরিত্রগুলো ফুঁটিয়ে তুলতে তিনি একটুও কার্পণ্য করেন নি। তার অভিনয় দেখলেই সেই ব্যাপারগুলো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়।

  • সালমান খান: ৬০ কোটি রুপি

তিনি প্রতিবছর দু’টি সিনেমার জন্য অন্তত ৬০ কোটি চেয়ে থাকেন। এই তারকা মূলত তাঁর পেশিবহুল শরীর এবং কমনীয় চেহারার জন্য পরিচিত। যা সিনেমা এবং রোম্যান্টিকতা উভয়ের জন্যেই উপযুক্ত করে তোলে। তিনি মোট ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক।

এই হলো ২০১৮ সালে বলিউডের সবথেকে ব্যয়বহুল দশজন অভিনেতার তালিকা। এটি মূলত তাঁদের প্রতিটি সিনেমার জন্য নির্ধারিত বেতন কিংবা চাহিদাকে কেন্দ্র করে বানানো হয়েছে।  তাদের অবস্থান প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়।

– ওয়ার্ল্ডসটপমোস্ট.কম অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।