লড়াইটা তাঁর একার নয়

ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘ইমপ্যাক্ট’ ক্রিকেটার বলতে যা বোঝায় তিনি পুরোটাই তাই। বল হাতে ক্যারিয়ারের সোনালী সময়ে তাঁকে বলা হত আগামী দিনের মোহাম্মদ রফিক। লোয়ার অর্ডারে তাঁর ব্যাটের মূল্যবান রানের দিকে তাকিয়ে থাকে দলগুলো। তিনি হলেন মোশাররফ হোসেন রুবেল।

তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন যোদ্ধা। ৩৪ বছর বয়সেও যে সংগ্রাম করে জাতীয় দলে ফেরা যায়, সেটা বাঁ-হাতি এই স্পিনার প্রমাণ করেছেন ২০১৬ সালে। তবে, এর চেয়েও বড় একটা লড়াই তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে। শরীরে ধরা পড়েছে ব্রেন টিউমার। এক স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে সুখের সাজানো জীবনটা এখন এলোমেলো।

সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রুবেল ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে। একটা ম্যাচও খেলেছিলেন। তবে, ওই সময়টা থেকেই তিনি অসুস্থ। বেশ কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে পড়েও গিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডাক্তার দেবাশীষ চৌধুরী জানালেন, মোশাররফকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। অস্ত্রোপচারের পরই বোঝা যাবে টিউমারটি এখন কোন পর্যায়ে আছে। তিনি বলেন, ‘টিউমারটি কোন পর্যায়ে আছে সেটা অস্ত্রোপচারের পর বায়াপসি রিপোর্ট দেখেই জানা যাবে। তবে, যতদূর বোঝা যাচ্ছে টিউমারটি প্রাথমিক পর্যায়েই আছে। তবে, আর যাই হোক টিউমার তো, আর ব্রেইন অনেক সেন্সিটিভ জায়গা।’

উচ্চতর চিকিৎসার জন্য রুবেল যাচ্ছেন সিঙ্গাপুর। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে তাঁর আলাপ হয়েছে। সংস্থাটি মোশাররফের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল আছে।

রুবেল পাশে পাচ্ছেন সতীর্থদের। তামিম নিউজিল্যান্ডে বসে ফোন করেছেন। সব ধরণের খবরাখবর রাখছেন। দেশে বসে সাকিব আল হাসানও পাশে দাঁড়িয়েছেন রুবেল। মাশরাফি বিন মুর্তজাও যে তাঁর পাশেই আছেন, সেটা ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়। তিনি লিখেছেন, ‘রুবেল, তুমি ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্। আমরা তোমার সাথেই আছি বন্ধু।’

রুবেল এখন সিঙ্গাপুরের ভিসা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু’ খেতাবধারী রুবেল বললেন, ‘ভিসা পাওয়া মাত্রই আমি দেশ ছাড়বো। একটু স্বস্তি পাচ্ছি এটা ভেবে যে টিউমারটা এখনো আর্লি স্টেজে আছে। আমার পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।

অস্ত্রোপচারে রুবেলের ব্যয় হবে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এরপর অস্ত্রোপচারের পরও তো কিছু খরচ থাকেই। ক্রিকেট খেলে আয় করা অর্থ আছে। সাথে সতীর্থ ও বিসিবিকে পাশে পেলে হয়তো আর্থিক ভাবে কোনো সমস্যা হবে না তাঁর। তবে, শরীরকে যে বিশাল একটা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেতে হবে সেটা অকল্পনীয়। আর সেই লড়াইটা লড়তে হবে রুবেলকে একাই। সেই লড়াইয়ে অন্তত বাংলাদেশ ক্রিকেট ও সমর্থকদের যে রুবেল সর্বদা পাশে পাবে সেটা চোখ বন্ধ করেই বলে দেওয়া যায়।

রুবেলের লড়াইটা এখন গোটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের লড়াই। ক্যান্সার থেকে ফিরে এসে যুবরাজ সিং যখন আবারো ২২ গজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারেন, তাহলে ব্রেন টিউমার থেকে রুবেল কেন ফিরতে পারবেন না। রুবেলকে পারতেই হবে!

রুবেল জিতলে জিতে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।