নজরকাড়া হাসির সেই মোনালিসা

বিজ্ঞাপন ইন্ডাস্ট্রিতে বাংলাদেশের ভূবনভোলানো জুটি ছিলেন নোবেল ও মৌ। নাটক বা সিনেমা ছাপিয়ে সেটাই দেশের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও জনপ্রিয় জুটি। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ – টানা চার বছর এই জুটি সেরা মডেলের পুরস্কার জিতেছেন মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারের মঞ্চে।

একচ্ছত্র আধিপত্ত ছিল তাঁদের। আদৌ তাঁদের জনপ্রিয়তার ভাঁটা পড়বে কি না – সে নিয়ে ছিল বিস্তর তর্ক বিতর্ক!

তবে, সেসবের অবসান হয় ২০০২ সালেই। মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারে সেবার সেরা মডেলের নামে ছিল চমক। সাব্বিরকে সাথে নিয়ে সেই আসরে চমকে দিয়েছিলেন মোনালিসা।

পুরো নাম মোজেজা আশরাফ মোনালিসা। তিনি বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় এসেছিলেন ধূমকেতুর মত। মায়াভরা একটা হাসি দিয়ে জয় করেছিলেন দর্শকদের হদয়। জন্ম ১৯৮৪ সালের পাঁচ অক্টোবর। বাবা আশরাফ হোসেন ও মা মমতাজ বেগম। তিন বোনের মধ্যে মোনালিসা সবার ছোট। তার বড় দুই বোন মুনিরা ও মারিয়া। বাবা ১৯৯৯ সালে মারা যান।

মোনালিসা একাধারে মডেল ও নৃত্যশিল্পী। শৈশব থেকেই গান শিখতেন। পরে নাটকও করেন। মডেলিং ক্যারিয়ার শুরু হয় মাত্র ১০ বছর বয়সে। পরে র‌্যাম্পেও হেঁটেছেন।

পর্দায় প্রথম আসেন ১৯৯৭ সালে। বিজ্ঞাপনটা ছিল ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির। নির্দেশনায় ছিলেন তারিক আনাম খান। তবে, সবার নজরে আসেন ২০০০ সালে। সেবার তিনি মিস ফটোজেনিকের পুরস্কার জিতে যান।

এরপরই তাঁর ঠিকানা হয় বিজ্ঞাপনের জগৎ। মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার জয়ী ‘লিলি বিউটি সোপ’ তো ছিলই, সাথে ফিজ আপ, জনি প্রিন্ট শাড়ি, তোসিবা টেলিভিশন, মেরিল লেমন সোপ, বাংলালিংক দেশ, গোয়ালিনী ইত্যাদি ছিল বিজ্ঞাপনে মোনালিসার সেরা কাজ। বাংলালিংকের সাথে দীর্ঘকাল ছিলেন, কাজ করেছিলেন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে।

অভিনয় জগতে খুব আলোচিত কখনোই হননি। যদিও, তিনি প্রথম সারির সব অভিনেতার সাথেই কম বেশি কাজ করেছেন। ছোট পর্দার জন্য তিনি অ্যাভারেজ আসলাম, সিকান্দার বক্স এখন বিরাট মডেল, বয়স যখন একুশ, কাগজের ফুল, রিভিশন পুত্রদায়, তৃষ্ণা, একটু ভালোবাসা, রোমেরা, টি-শার্ট, শহর ভরা কাঁচের কোকিল, রঙতুলি, প্রেম একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া, ফাইভ পয়েন্ট ফাইভ, অন্তর্লোক, বাস নাম্বার, বৃষ্টি এবং তুমি, অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ ইত্যাদি কাজ করেন।

২০০৭ সালে শেষবারের মত মডেলিংয়ে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার দেওয়া হয়। সেবার বাংলালিংক দেশ বিজ্ঞাপনটা করে পুরস্কারটা জিতেছিলেন মোনালিসা।

বিয়ে করেন ২০১২ সালে। বিয়ের পর ২০১৩ সালে তিনি আমেরিকায় চলে যান। নিউ ইয়র্কে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক বাংলা চ্যানেল টাইম টিভির অনুষ্ঠান বিষয়ক প্রধান ছিলেন। বছর তিনেক পর দেশে ফিরেন। ধীরে ধীরে আবারো ব্যস্ততায় ফিরে আসছেন তিনি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।