মিথিলার নয়, খুব দরকার ছিল আমাদের সমাজের পোস্টমর্টেম

আজ থেকে আড়াই বছর আগে তাহসান মিথিলার ডিভোর্সের পর তাঁরা একত্রে তাহসানের ফেসবুক পেইজে ডিভোর্সের ঘোষণাটি দিয়েছিল এভাবে –

‘বেশ কয়েক মাস ধরে নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ও মতোবিরোধ নিরসনের চেষ্টার পর আমরা মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সামাজিক চাপে একটা সম্পর্ক টেনে নেয়ার চেয়ে আলাদা হয়ে যাওয়া মঙ্গলজনক, আমরা সবসময় নিজেদের সম্পর্ক সম্মান ও মর্যাদার সাথে বজায় রেখেছি এবং ভবিষ্যতেও তেমনি থাকবে।’

এরপর তাহসান কেবল একটা কথাই বলেছিল, ‘সমাজ কী বলবে, এই ভয়ে সারাজীবন অভিনয় করে কাটিয়ে দিতে হবে, আমরা দুজন এ ব্যাপারে এক মত নই।’

ব্যস, এইটুকুই, ‘তাহসান ও মিথিলা’ উপাখ্যান নিয়ে খোদ তাহসান মিথিলা নিজেরাই পরস্পরের প্রতি সম্মান রেখে আর কোন কথা বলেনি, প্রয়োজনই বোধ করেনি।

ওরা নিজেদের ব্যাক্তি জীবনে মনযোগী হলেও পাশের বাড়ির অনলাইন সমাজ ওদের ছাড়েনি। তাহসান কি খাইল, কার সাথে শুইল, কেন শুইল না, মিথিলা কই, মিথিলা জন, মিথিলা সৃজিত, মিথিলা অমুক, মিথিলা তমুক, চলছে তো চলছে তো চলছেই।

একজন ডিভোর্সি মানুষ সম্পর্কে আমাদের সমাজে এক কাল্পনিক মহাপুরুষ ক্যাটাগরির সতী সাবিত্রী চরিত্র জোর পুর্বক বসিয়ে দেয়া হয়।

ডিভোর্সিরা সাদা থান সদৃশ কাপড় পরে চির দুঃখী ‘হেরে গেলাম’ চেহারায় সারাজীবনটা করুনা ভিক্ষা করে কখনও ভাইয়ের বাসায়, কখনও বাপের বাড়ি ঘুরবে। মানুষ তাদের দেখে আহা, বেচারি রে বলে কিছুক্ষন চুক চুক করে চলে যাবে, আর ডিভোর্সি কেঁদে কুটে চোখের নিচে কালি ফেলে একদিন মরে যাবে।

ডিভোর্স থেকে মরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ডিভোর্সি’র শরীর থাকবে গোলাপ জ্বলে ধোঁয়া পবিত্র, ওদের শরীর কেউ ছুঁতে পারবে না, সে কাউকে ছুঁতে দিবেও না! কিন্তু ওদের নিয়ে রাতে বিরাতে দুষ্ট মিষ্টি কল্পনা করা যাবে, ওরা তখন হয়ে যাবে জাতীয় সম্পত্তি। ওদের ছবির কমেন্টের নিচে জমা হয়, ‘হট পিক্স, tamaka kab saxi lagca’!

অদ্ভুত মানসিকতার গ্যাঁড়াকলে মিথিলারা আটকে পড়েছে।

এগারো বছর সংসারের পর দুজন প্রাপ্ত বয়স্কের মিলিত সিদ্ধান্তে বিবাহ বিচ্ছেদের পরও মিথিলাদের কোন ব্যাক্তি স্বাধীনতা থাকতে নেই। ছেলের আগে মেয়ে বিয়ে করতে পারবে না। ডিভোর্সের পর মেয়ে নিজের ইচ্ছেয় প্রেম করতে পারবে না, ভালোবাসোতে পারবে না। ভালোবাসার অপরাধে সমাজের চোখে মিথিলারা হয় নষ্ট মেয়ে!

ভেবে কষ্ট লাগছে, আগামী কিছুদিন মিথিলার পোস্টমর্টেম চলবে, ওর একান্ত ব্যাক্তিগত ছবিগুলো সগৌরভে প্রকাশ করে মেয়েটার জীবনটাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নরক বানিয়ে তোলা হবে

অথচ মিথিলার নয়, খুব দরকার ছিল আমাদের সমাজের পোস্টমর্টেম।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।