মিরাজ, নিদাহাস ট্রফি ও টিম কম্বিনেশন

মিরাজ প্রসঙ্গে সারা দেশ জুড়েই বেশ একটা আলোড়ন। আমি নিজেও অতীতে মিরাজকে ছোট ফরম্যাটে দেখতে চাইনি। কিন্তু এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় চলতে থাকা নিদাহাস ট্রফিতে টিম কম্বিনেশনের কথা ভাবলে মিরাজকে বাদ দেয়া কতটুকু যুক্তিপূর্ণ হবে? আমি শুধু নিজের ভাবনাটা শেয়ার করছি, অনেকের ভাবনার সাথে এটা নাও মিলতে পারে।

মিরাজকে বাদ দিতে হলে, মিরাজের রিপ্লেসমেন্ট দরকার। কিন্তু মিরাজের রিপ্লেসমেন্ট কে? মিরাজ থেকে ভালো ডানহাতি অফ স্পিনার বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আছে কি? ব্যাপারটা হতাশার যে, মিরাজের মানের বোলারও আমাদের হাতে আর একটিও নেই এই ফরম্যাটে! এবারে আসি এই সিরিজ প্রসঙ্গে, নিদাহাস ট্রফিতে ইকোনমিক্যালি সফল বোলাররা কিন্তু এই স্পিনাররাই।

অর্থাৎ, তিনটি দলের স্পিনাররাই রান দেবার ক্ষেত্রে পেস বোলারদের থেকে কৃপণ ছিল। ধনঞ্জায়া, সুন্দর এরা ডানহাতি স্পিনার এবং এরা টুর্নামেন্টে সফল। সেদিক থেকে মিরাজ কিছুটা পিছিয়ে, কারন সে উইকেট পায়নি। কিন্তু বাংলাদেশের সব থেকে কৃপণ বোলার কিন্তু মিরাজই। বিপক্ষ দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থাকলে অধিনায়কের কাছে গো টু বোলার কিন্তু ওই ডানহাতি স্পিনাররাই। তাই, মিরাজকে বাতিলের খাতায় ফেলার আগে, এটা ভাবতে হবে একাদশে ডানহাতি অফ স্পিনারের দরকার আছে কি নেই?

এবারে আসি মিরাজের ব্যাটিং সক্ষমতা নিয়ে। তিনি টি-টোয়েন্টি মানের ব্যাটসম্যান নন, বিশেষ করে স্লগ ওভারে তো নয়ই। সে বয়সভিত্তিক দলে টপ অর্ডারে ব্যাট করে এসেছে। তাই তার কাছে ধুম ধারাক্কা ব্যাটিং প্রত্যাশা করাও ঠিক নয়। তাকে অলরাউন্ডার হিসাবে না খেলিয়ে, অ্যাজ অ্যা বোলার হিসাবেই খেলাতে হবে। এরপর ব্যাটে সে কিছু করতে পারলে সেটা হবে বোনাস। শুধু শুধু অলরাউন্ডারের তকমা তার গায়ে লাগিয়ে দিয়ে আবার পরক্ষনেই সেটা নিয়ে ট্রল করার কোন মানেই হয় না।

এই ফরম্যাটে সে কোন ভাবেই অলরাউন্ডার নয়। এমনকি তাকে যখন ক্যারাবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নাইট রাইডার্স ফ্রাঞ্চাইজি কিনেছিল, তখন কিন্তু তাকে বোলার হিসেবেই কিনেছিল। তাই, বোলার হিসেবে তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেবার আগে একটু ভাবতেই হবে। মিরাজকে একাদশে রেখেই কিন্তু একটা ব্যালেন্স দল সিলেক্ট করা যায়। যদিও সাকিব আল হাসানের ফিরে আসাটা এক্ষেত্রে আমাকে বেশ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে।

আমার মতে একাদশটা এমন হতে পারে – 
১. তামিম, ২. লিটন, ৩. সাকিব, ৪. মুশফিক, ৫. রিয়াদ, ৬. আরিফুল, ৭. সাব্বির, ৮. মিরাজ, ৯. রুবেল, ১০. মুস্তাফিজ ও ১১. রনি।

প্রথমেই আসি সৌম্যকে বাদ দেবার প্রসঙ্গে। সৌম্য আসলে এই সিরিজে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছে, সে নিজের রুপে কবে ফিরে আসবে সেই আশায় এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে নামিয়ে দেয়া যায় না। তাছাড়া অরিজিনাল নাম্বার থ্রি ব্যাটসম্যান যেহেতু এসে গেছে, সেহেতু তাকে দলের বাইরেই থাকতে হবে। সাব্বির আগের ম্যাচে কিছুটা রিদমে ছিল, এছাড়া গত তিন ম্যাচের দুই ম্যাচেই সে রান পেয়েছে, সুযোগ সে একটা অবশ্যই পাবে।

আরিফুলের সুযোগও বেশ কিছুদিন ধরে ডিউ, সেই হিসাবে লংকার বিপক্ষে একটা বাজি ধরা যায়, হয়ত সেই হতে পারে আমাদের ট্র্যাম্প কার্ড এবং অবশ্যই সাব্বিরের থেকে আগে ব্যাটিং করবে সে। সাকিব আসাতে বাঁহাতি স্পিনারের কোটা পূরণ হয়ে গেছে, তাই অপুকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বসিয়ে রাখছি। রনিকে এক ম্যাচ খেলিয়ে বসিয়ে দেবার পক্ষে না, দ্বিতীয় সুযোগ সবারই প্রাপ্য।

সেক্ষেত্রে, রনির ওভারগুলো ১৪ ওভারের মাঝেই শেষ করে দিতে হবে, কারন ডেথ ওভারের চাপ নতুন বোলারের উপর না দেয়াই উত্তম। মিরাজকে ছাড়াও এই দলে সাতজন ব্যাটসম্যান রয়েছে এবং সেই সাথে ৫ জন স্পেশালিষ্ট বোলার। ওপেনিং জুটি ফ্লপ করলেও শেষের দিকে তুলনামূলক ভালোই পাওয়ার প্লেয়ার রয়েছে এবং আমার বিবেচনায় এটাই বেস্ট কম্বিনেশন এই সিরিজে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।