স্রেফ বিয়ে করিয়েই কোটিপতি!

আমাদের উপমহাদেশীয় সংস্কৃতিতে বিয়েশাদী সবসময়ই বিরাট একটা ব্যাপার। কিছু কিছু বিয়ে তো রীতিমত এলাহী কারবার। বলিউড ধারা অনুসরণ করে বিবাহ কিংবা ব্যক্তিগত নানান অনুষ্ঠান দিনকে দিন আরো জাঁকজমকপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। অনেক সময় দেখলে, মনে হয় বিয়ে কিংবা পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠান নয়, এটা মহাযজ্ঞ এক ব্যাপার যা হার মানায় বলিউডকেও।

এমনকি একটি সাধারণ বিবাহ অনুষ্ঠানেও এখন সূক্ষ্ম পরিকম্পনাকারীদের স্বরণ করা হয়। যাইহোক না কেন, এটা একটা দিন যেটাতে সব কাজ নিখুঁত হওয়া চাই। এটার অর্থ এই দাড়াচ্ছে যে, বিবাহ কাজে বেশ ক্লান্তিকর একটা পরিস্থিতি ফিয়ে যেতে হয় সবাইকে, পাশাপাশি বিয়ের নানানরকমের কেনাকাটা তো আছেই। সাথে যোগ হয় আত্মীয়দের বাসায় আমন্ত্রণ প্রেরণ করা ইত্যাদি। তবে, যদি আপনার সাথে সাথে মিনাট লাল পুরিয়ার মুম্বাই ভিত্তিক প্রতিষ্ট ৭ভ্যাস্যান, তাহলে এসবই হয়ে যাবে চোখের পলকে।

মিনাটের উদ্যোগ অন্যান্যদের থেকে বেশি জনপ্রিয়তা পায় কারণ, তাঁর কাজটা অনেকটা বিবাহ পরামর্শকের মত ছিলো। এটি মূলত বিবাহে একে অপরের সম্পর্কে জানা সহজ করে তোলে, পাশাপাশি ফটোগ্রাফার নিয়োগ, বিবাহ মঞ্চ সাজানো এসব কাজ দেখাশোনা করে থাকে। তার প্রারম্ভটি নিশ্চিত করে যে গ্রাহকরা সস্তার দামে সর্বোত্তম পরিষেবাগুলি পায়। তিনি প্রতিটি সেবা জন্য একটি দুই শতাংশ কমিশন লাগে।

মিনাট তার স্কুলের পড়াশোন শেষ করেন করেন জুহুতে অবস্থিত বিদ্যা মন্দিরে। এরপর ইঞ্জিনিয়ারিং করেন, এসপি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে। তিনি ছয় মাসের জন্য টিসিএসে কাজ করেন এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিভাগে কাজ শুরু করেন। পাঁচ বছর কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর, তিনি ইন্ডিয়ান স্কুল অব বিজনেস থেকে এমবিএ করেছেন।

তারপর মিনাট তাঁর নিজের  ব্যবসা শুরু করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন এবং অতিদ্রুত বিবাহ পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি মুলত তাঁর রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী পিতার থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই কাজ করার সিদ্ধান্ত  গ্রহণ করেন এবং তার পরিবাআর সম্পূর্ণরূপে তাকে সহযোগিতা দিয়েছেন।

তিনি নিজের গল্প বলার সময় বলেছিলেন, ‘আমরা কোন মিলবন্ধনকারী নই কিংবা পরিকল্পনাকারী নই। বিবাহ পরামর্শদাতা থিমভিত্তিক বিবাহ অনুষ্ঠান পালন করতে কাজ করে।’

৭ভ্যাস্যান প্রতিটি গ্রাহকের জন্ন্য কিছু বিকল্প পোষাক-পরিচ্ছদ ব্যবস্থা করে রাখে, সাথে গহনা, মেকাল ইত্যাই জিনিসও  যুক্ত থাকে। মিনাটের কোম্পানি নানান ব্র্যান্ডের সাথে কথা বলে তাদের গ্রাহকের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করে রেখেছে।

মিনাট ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার কোম্পানি ৭ভ্যাস্যান প্রতিষ্ঠা করেন এবন একই বছরে তিনি ৩০০টি বিবাহের জন্য সেবা প্রদান করেন। তিনি এখন পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি বিবাহের জন্য সেবা প্রদান করেছেন। তিনি প্রতিবছর ৩৫০০ টিরও বেশি বিবাহের পরিষেবা করেন এবং ৬৫০০ হোটেলের সাথে অনশীদারিত্ব গড়ে তুলেছেন। কোম্পানিটি মাত্র একজন কর্মচারি নিয়ে চালু হয়, বর্তমান সময়ে এর কর্মচারি সংখ্যা ১২ জন।

প্রতিষ্ঠানটি মাত্র দু’লাখ ভারতীয় রুপি পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রথম বছরেই সেটা ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে, মিনাতের কোম্পানি প্রতিবছর ১০-১২ কোটি টাকা লাভ করে এবন মিনাত আশাবাদী খুব শীঘ্রই তাঁদের প্রতিষ্ঠানটির লাভের পরিমাণ ১৮-২০ কোটি ছাড়াবে।  চেষ্টা আর আইডিয়া থাকলে কি না হয়!

– ইওর স্টোরি অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।