পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই!

‘যার সঙ্গে এত বছর প্রেম করেছি, তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি, এতেই আমি খুশি।ওর (সানজারি) সঙ্গে পরিচয়ের প্রথম থেকে বুঝতে পেরেছি, সে-ই আমাকে সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারবে। পথচলার সঙ্গী হিসেবে তাঁকে আমার সেরা মনে হয়েছে। আমি একটু চঞ্চল প্রকৃতির। আর ও তো খুবই শান্ত। স্বভাবের এ বৈপরীত্যের কারণে নিজেদের সমন্বয়ও হয়ে যায়।’- পপ তারকা মিলা দৈনিক প্রথম আলোকে ২০১৭ সালের ১৩ মে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেছিলেন।

যিনি দাবী করেছেন তিনি দীর্ঘ দশ বছর প্রেম করেছেন তার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারির সাথে। কিন্তু, সন্দেহ আছে যে, আদৌ সেটা প্রেম ছিল কিনা। কারণ, ওপরের স্টেটমেন্ট মিলার বিয়ের পরের দিন দেওয়া। আর তার ঠিক ১৩ দিনের মাথায় দাম্পত্য কহল শুরু হয়। পাচ মাসের মাথায় স্বামীর নামে মামলা করেন, স্বামীকে জেলে পাঠান।

আহারে, ১০ বছরের প্রেম আমি বলবো না, বলবো ১০ বছরের পরিচয়ের কি করুণ মৃত্যু! ১০ বছর একসাথে উঠা বসা করলে শত্রুর প্রতিও মায়া জন্মে, অথচ যাকে তাঁরা প্রেম দাবী করেন তার মধ্যে সামান্য মায়া তো পরের কথা সেই সম্পর্কের প্রতি একটু সম্মান জন্মে নাই।

তাই বিচ্ছেদের দেড় বছর পরেও আবার মৃত সম্পর্কটাকে মাটির নিচ থেকে টেনে তোলা হয়েছে, অবশিষ্ট সম্মানটুকুও বাজারে নিলাম করার জন্য।

এরপরে আসি সানজারি সাহেবের স্টেটমেন্টে। তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমাদের বিয়ে হয় ২০১৭ সালের ১২ মে। সঙ্গীত তারকা মিলার সাথে আমার পরিচয় তারও আগে। কিন্তু বিয়ের পরই তিনি পারিবারিক জীবন সম্পর্কে তার নিজস্ব অস্বাভাবিক ধারণাগুলো আমার ও আমার পরিবারের উপর চাপিয়ে দিতে থাকেন| একটি যৌথ পরিবারে কখনই ঘরের বউ-এর তার কাজের বুয়া-দাড়োয়ানকে দিয়ে সিগারেট আনানো, অশালীন কাপড়ে মুরব্বি-মেহমানদের সামনে যাওয়া, তুচ্ছ কথায় বাড়িতে ভাংচুর করা ও প্রতিবেশীদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলা – মেনে নেওয়া যায়না। তার প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল আমার চিরায়ত মূল্যবোধের বিরুদ্ধে।’

বুঝলাম মিলা যা করেছেন তা খুব অন্যায়। অন্তত আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় তা অগ্রহনযোগ্য। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল সানজারি সাহেব কি বিয়ের আগে জানতেন না যে মিলা ধূমপান করেন! মিলা যে অস্বাভাবিক ধারনা গুলো তার পরিবারের ব্যপারে চাপিয়ে দিলেন সেই বিষয়ে তাঁর আগে ধারনা ছিল না! অথবা উনি কি এটা জানতেন না যে মিলা কেমন পোশাক পরেন!

তাহলে বিয়ে কেন করেছিলেন?

মিলার প্রতিটি পদক্ষেপ যে তাঁর চিরায়ত মূল্যবোধের বিরুদ্ধে তা উনি বিয়ের পরের পাচ মাসে (পড়ুন মাত্র) বুঝে ফেললেন অথচ আগের ১০ বছরেও (পড়ুন দীর্ঘ) বুঝেননি। কেন?

তাঁরা একে অপরের সাথে কি হায়ারগ্লিফিক্সে প্রেম করেছেন? মনের কথা কি হিব্রু ভাষায় এক্সপ্রেস করেছেন? বুঝেন নাই কেন প্রেমের সময়?

কারণ, তাঁরা প্রেমেই ছিলেন না। ছিলেন একটা রিলেশনশিপে। রিলেশনের সেই শিপ এতই ঠুনকো ম্যাটেরিয়াল দিয়ে বানানো যে ১০ বছর ধরে তৈরি হবার পরেও বিবাহ নামক সমুদ্রে ভাসানোর সাথে সাথেই ডুবে গেছে। অ্যাডজাস্টমেন্ট, কম্প্রোমাইজ, স্যাক্রিফাইস, ট্রাস্ট, রেস্পেক্ট নামের ঢেউয়ের সামনে তাঁদের তথাকথিত ‘এম ভি প্রেম’ প্রেম নামের জাহাজ টিকতেই পারেনি।

তারা বোঝেন নাই যে বিয়ের আগে জান, বেবি, লিভার, কিডনি বলে মেসেজ পাঠানো; রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া; হাই প্রোফাইল পার্টি অ্যাটেন্ড করা, আর দিনের ২৪ ঘণ্টা একসাথে এক ছাদের নিচে থাকা এক না। তাই দশ বছর আলাদা আলাদা একসাথে থাকা গেলেও পাচ মাস একসাথে থাকতেই আলাদা হয়ে গেলেন।

শুধু তাই না, বিচ্ছেদের দেড় বছর অতিবাহিত হবার পরেও তাদের প্রতিহিংসা প্রশমিত হয় নাই। কী দুঃখজনক!

আমার ইচ্ছা করে তাদের কাছে করজোড়ে অনুরোধ করি – এবার ছেড়ে দেন একজন আরেকজনকে। অন্তত এই জেনারেশন যাতে প্রেম এবং দাম্পত্য সম্পর্কে একটা ভুল শিক্ষা না পায় সেজন্য মাফ করে দেন একজন আরেকজনকে। ভালবাসা ছড়াতে না পারেন, অন্তত ঘৃণা ছড়াবেন না!

আপনাদের দেখে প্রেম শব্দের উপর সন্দেহ জন্মায়। মনে হয় সুবীর নন্দী ঠিকই গেয়েছিলেন -পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই, কিছু নেই, কিছু নেইইইই…’।

পৃথিবীতে প্রেম অবশ্যেই আছে! কঠিন ভাবেই আছে। আর প্রেম আজীবন কারো প্রতি থাকে সেটাও না। প্রেম চলে গিয়ে ঘৃনাও তৈরী হয় ভালবাসার মানুষের প্রতি। তবে প্রেমের বিপরীতে যে ঘৃনা তার ও একটা সৌন্দর্য আছে।প্রেমের মত সেই ঘৃনাটাও ব্যক্তিগত। গভীর প্রেমের মত গভীর ঘৃনাও মানুষকে দেখানো যায় না।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।