মাইক হেসন, তুমি কার!

উপমহাদেশের সবগুলো ক্রিকেট দলই এখন কার্যত কোচশূণ্য অবস্থায় আছে। ভারত অবশ্য একটু এগিয়েই আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য ভারতের রবি শাস্ত্রীর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের মিকি আর্থারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। শ্রীলঙ্কা থেকে বরখাস্ত হয়েছেন চান্দিকা হাতুরুসিংহে। অন্তবর্তীকালীন কোচ হিসেবে সদ্যই নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক ফাস্ট বোলার রুমেশ রত্নানায়েকে। আফগানিস্তানের কোচ ফিল সিমন্স বিশ্বকাপের পর থেকেই নেই।

আর বাকি থাকলো বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের পর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্টিভ রোডসকে বিদায় করে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তার পরিবর্তে শ্রীলঙ্কা সফরে কোচিংটা সামলেছেন ‘অনেক কিছুতে পারদর্শী’ খালেদ মাহমুদ সুজন। সুজন অবশ্য ‘সামলেছেন’ বলা যাবে না, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ভরাডুবিই হয়েছে।

এখন তাই হন্যে হয়ে কোচ খুঁজছে বাংলাদেশ। সাক্ষাৎকার দিয়ে গেছেন রাসেল ডোমিঙ্গো। যদিও, তার বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্য এইচপি বা ‘এ’ দলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বাংলাদেশ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কোচিং শুরু করা চান্দিকা হাতুরুসিংহেও আছেন এই তালিকায়। তাঁর সাক্ষাৎকার নাকি ফোন মারফত হবে।

যদিও, হাতুরুকে নিয়ে বিসিবির মধ্যেই স্পষ্ট দু’টি পক্ষ আছে। একদল কোনো ভাবেই তাকে আর ফেরাতে চায় না। এর মধ্যে স্বয়ং বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও আছেন। যদিও, কয়েকজন বোর্ড পরিচালক কমিশনের আশায় আবারো হাতুরুতেই আস্থা রাখতে চান।

এই সব কিছুর মধ্যেও এখন অবধি বাংলাদেশের কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি যাকে ঘিরে বেশি আলোচনা হচ্ছে তিনি হলেন মাইক হেসন। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হল তিনি নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোচ। তাঁর অধীনেই ২০১৫ সালে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে ব্ল্যাকক্যাপরা। নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসেরই তিনি সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী কোচ।

গেল জুনে তিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি কোনো একটা জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে মরিয়া। সেজন্য দু’বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পাঞ্জাবের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। বিসিবিতে আবেদন করার আগেই তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআইয়েও প্রধান কোচ হতে চেয়ে আবেদন করেছেন। সেখানকার নাকি সংক্ষিপ্ত তিনজনের তালিকায় টম মুডি ও রবি শাস্ত্রীর সাথে আছেন হেসন। সেখানেও তাকে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সম্ভবত সাক্ষাৎকার দিতে যেতে হবে। বাংলাদেশেও আসবেন ক’দিনের মধ্যে।

এমন যখন অবস্থা, তখন শোনা যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি) নাকি হেসনের ব্যাপারে আগ্রহী। এমনটা জানিয়েছে নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যম। বোঝাই যাচ্ছে, হেসনকে পাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে শীর্ষ তিন এশিয়ান দল।

এর মধ্যে ভারতে অবশ্য রবি শাস্ত্রীকে রেখে দেওয়ার ব্যাপারেই গুঞ্জনটা বেশি। আর পাকিস্তান এখনও কোচ চেয়ে বিজ্ঞাপনই দিতে পারেনি। ফলে, বাংলাদেশের পাল্লাটাই এখন পর্যন্ত ভারি। তবে, কে জানে! পাশার দানটা তো ক্রিকেটে পালটে যেতে বেশিক্ষণ লাগে না!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।