অবশেষে নিখোঁজ মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স রহস্যের সমাধান!

১২ মার্চ, ২০১৪। ২৩৯ জন যাত্রীতে সাথে নিয়ে চীনের বেইজিং থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর যাওয়ার পথে ‘গায়েব’ হয়ে যায় মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ৭০ বিমানটি। এরপর চার বছর ধরে চলেছে অনেক জল্পনা কল্পনা, এই নিখোঁজ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলেছে অনেক রহস্য।

অবশেষে কিছু এভিয়েশন এক্সপার্ট এই রহস্যের সমাধান করলেন নতুন কিছু তথ্য দিয়ে। কিভাবে বিমানটি হারিয়ে গেল, তার একটা মোক্ষম ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাঁরা।

সম্প্রতি ‘৬০ মিনিটস অস্ট্রেলিয়া’ নামের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন শীর্ষ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কানাডার ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডে কাজ করা ল্যারি ভ্যান্স। আরো ছিলেন অস্ট্রেলিয়া ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি বোর্ডের (এটিএসবি) চিফ কমিশনার মার্টিন ডোলান ও ক্যাপ্টেন জন কক্স। তারা মনে করেন, বিমানটিকে নিখোঁজ করার পরিকল্পনা ক্যাপ্টেন জাহারি আহমেদ শাহ’র নিজের।

বিমানটির কিছু ধ্বংসাবশেষ ভারত মহাসাগরের তীরে ভেসে এসেছিল। এটিএসবি’র সমন্বয়ে এই বিমানটিকে খুঁজতে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অনুসন্ধান অভিযান চালানো হয় সাগরের তলদেশে। বছর দুয়েক খোঁজার পর নিষ্ফল ওই অভিযান ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

ওই অনুসন্ধানে নেতৃত্ব দেওয়া মার্টিন ডোলান বলেন, ‘এটা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত, ইচ্ছাকৃত। দীর্ঘ সময় নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে এটা করা হয়েছে।’

ব্যাখ্যা করে তিনি বলে, ‘বোয়িং ৭৭৭ এই পাইলট ও ইন্সট্রাক্টর সাইমন হার্টির মতে, ক্যাপ্টেন জাহারি মালয়েশিয়া ও থাই মিলিটারির রাডার ও দু’টো দেশের বিমানসীমা অতিক্রম করে যান। ফলে ওদের ট্রেস করার উপায় নেই। যাত্রীরা শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান। এটা খুবই পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। খুব দক্ষ হাতের কাজ। মৃত দেহগুলো আদৌ আর কখনো খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

পাইলট ও প্রশিক্ষক সাইমন হার্ডি মিলিটারি রাডার ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার এমআইচ ৩৭০-এর উড়বার পথ পুনঃনির্মাণ করেন। তিনি নিশ্চিত হন পাইলট জাহারি আহমেদ শাহ পর্যবেক্ষকদের বিভ্রান্ত করতে পালাক্রমে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে থাকেন ও বেরিয়ে  আসেন। ফলে, মিলিটারি ওদের পধরোধ করেনি। তিনি মনে করেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ বিমানটি নিয়ন্ত্রন করছিল।

বিমানের যাত্রী ও ক্রুদের অচেতন করতে জাহারি ভিতরের বাতাসের চাপ কমিয়ে দেন। করার আগে নিজে অক্সিজেন মাস্ক পরে নেন। বিমান ওড়ানোর দায়িত্বে ছিলেন অনভিজ্ঞ ফার্স্ট অফিসার ফারিক আব্দুল হামিদ। এটা আবার ছিল কোনো প্রশিক্ষকের অধীনে তাঁর প্রথম ফ্লাইট।

কিন্তু জাহারি কেন একটা করতে যাবেন? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। ভ্যান্স বলেন, ‘তিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছিলেন। আর সেটা করতে গিয়েই দুর্ভাগ্যক্রমে তিনি বিমানের সব আরোহীকেও হত্যা করছিলেন। আর বলাই বাহুল্য এটা তিনি ভেবেচিন্তেই করেছেন।’

আর তাদের এই বক্তব্যের পেছনে প্রমাণ হল, ছয় দিন পর জাহারি ও ফারিকের বাড়ি থেকে তাদের কম্পিউটার নিয়ে আসে তদন্তকারীরা। তারা দেখতে পান ক্যাপ্টেন জাহারি ফ্লাইট সিমুলেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিমানটির গতিপথ বদলানোর পরিকল্পনা করেন।

– দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও সিবিসি অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।