মেটালিকা-মেগাডেথ ও ডেভ মাস্টেইনের মধুর প্রতিশোধ

১৯৮৩ সালে একটা আমেরিকান ব্যান্ড খুব বাজেভাবে তাঁদের তরুণ গিটারিস্টকে বের করে দেয়। ব্যান্ডটি কেবল একটা রেকর্ডের চুক্তি করেছে। দুয়েকদিনের মধ্যেই তাদের প্রথম অ্যালবামের কাজ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই কোন আলোচনা কিংবা সতর্ক করা ছাড়াই ওই গিটারিস্টকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এক প্রকার তাঁকে ঘুম থেকে তুলেই বাসের টিকেট ধরিয়ে দেয়া হয়।

নিউ ইয়র্ক থেক লস আঞ্জেলস যাওয়ার পথে প্রচণ্ড অপমানিত সেই গিটারিস্ট নিজের মনকে খালি জিজ্ঞেস করেছে, ‘কেন এমন হলো? আমি কী ভুল করেছি? এখন আমি কী করব?’ রেকর্ডের চুক্তি হঠাৎ করেই হাজির হয় না। বিশেষ করে নবাগত মেটাল ব্যান্ডের জন্য তো আরও নয়। তার জীবনের একমাত্র সুযোগ কি তবে হাতছাড়া হয়ে গেল?

তরুণ ডেভ মাস্টেইন

কিন্তু বাস লস আঞ্জেলস পৌঁছানো মাত্র সে নিজেকে সামলে নেয়। নতুন ব্যান্ড করার শপথ নেয়। নতুন ব্যান্ডকে এমন সফল করতে চায়, যেন তার পুরাতন ব্যান্ড তাদের সিদ্ধান্তের জন্য আফসোস করে। পুরাতন ব্যান্ড সদস্যরা চারিদিকে তার পোস্টার দেখে আক্ষেপে জ্বলতে থাকবে। যখন ওরা মদ পান করে চুর হয়ে থাকবে, তখন সে কোনো স্টেডিয়ামে কনসার্ট মাতাবে।

তো ওই গিটারিস্ট উদয়াস্ত পরিশ্রম করতে শুরু করল। অনেক সময় নিয়ে সে ভালো ভালো মিউজিশিয়ান খুঁজে বের করল, যারা আগের ব্যান্ড সদস্যদের থেকে অনেক ভালো মিউজিশিয়ান। একের পর এক গান লিখে চলল সে। নিজের ক্রোধ তার উচ্চাভিলাষকে জাগিয়ে তুলল। প্রতিশোধের নেশায় ফুঁসত প্রতিনিয়ত। কয়েক বছরের মধ্যেই তার নতুন ব্যান্ডও রেকর্ডের চুক্তি পায়। এবং প্রথম রেকর্ডটা বেশ ভালোভাবেই নেয় শ্রোতারা।

তখন মাস্টেইন মেটালিকার সদস্য

এই গিটারিস্টের নাম ডেভ মাস্টেইন। আর তার প্রতিষ্ঠা করা নতুন কিংবদন্তি ব্যান্ডের নাম মেগাডেথ। দুনিয়া জুড়ে মেগাডেথ ২৫ মিলিয়ন অ্যালবাম বিক্রি করে এবং অসংখ্য ট্যুর দেয়। এখন মাস্টেইনকে হেভি মেটাল জগতে পৃথিবীর অন্যতম মেধাবী এবং প্রভাবশালী মিউজিশিয়ান ধরা হয়।

তাকে দল থেকে বের করে দেওয়া ব্যান্ডটার নাম আবার মেটালিকা। তারা পৃথিবীব্যাপী ১৮০ মিলিয়নের অধিক অ্যালবাম বিক্রি করেছে। অনেকের কাছে মেটালিকা সর্বকালের সেরা হেভি মেটাল ব্যান্ড।

একালের মেটালিকা

মাস্টেইনের প্রথম ব্যান্ড অবশ্য মেটালিকা নয়। ৭০-এর দশকের শেষে তিনি ছিলেন ‘প্যানিক’ নামের একটি ব্যান্ডের সদস্য। ড্রামসে ছিলেন মাইক লেফটউইচ, বেজে বব ইভান্স, টম কুইকে ছিলেন রিদম গিটারে, আর ভোকাল ছিলেন প্যাট ভোয়েকস। প্যানিকের দ্বিতীয় শে-এর পরেই এক গাড়ী দুর্ঘটনায় মাইক লেফটউইচ ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার মারা যান। ১৯৮১ সাল থেকেই তাই ব্যান্ডটা অগোছালো হয়ে যায়। তখনই প্যানিক ছেড়ে মেটালিকায় যোগ দেন মাস্টেইন।

মেটালিকায় তাঁর যোগ দেওয়ার পেছনেও একটা গল্প আছে। পত্রিকায় লিড গিটারিস্ট চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন মেটালিকার ড্রামার লারস আলরিচ। বিজ্ঞাপন দেখে পৌঁছে যান মাস্টেইন। দেখা হয় জেমস হেটফিল্ড ও আলরিচের সাথে। ওয়ার্ম আপ শেষে মাস্টেইন জিজ্ঞেস করেন, ‘কখন আমাকে অডিশন দিতে হবে?’ হেটফিল্ড ও আলরিচ হেসে বলেন, ‘আরে না, তুমি তো কাজটা পেয়েই গেছো!’

একালের মেগাডেথ
অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।