ইচ্ছা করে খারাপ খেলেছেন মেসি!

আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে সম্ভবত এত বাজে রাত এর আগে খুব কমই এসেছে। অন্যসব আর্জেন্টাইনদের মত এই ঘটনায় হতবিহবল রিকার্ডো কারুসো লোমবার্দি। আর্জেন্টাইন ঘরোয়া লিগের এই কোচের দাবী হোর্হে সাম্পাওলিকে চাপে ফেলতে ইচ্ছা করেই নাকি খারাপ খেলেছেন লিওনেল মেসি।

কিন্তু কেনই বা মেসি এমন করবেন? কারণটা পরিস্কার। কোচের সাথে মতের অমিল আছে লিওনেল মেসি, সার্জিও অ্যাগুয়েরো, হ্যাভিয়ের ম্যাশেরানোসহ দলের শীর্ষ খেলোয়াড়দের। কোচের ট্যাকটিক্স, ফর্মেশনেও আপত্তি আছে তাঁদের। বিশ্বকাপের মাঝপথেই কোচ পাল্টে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী হোর্হে বুরুচাগাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারেও বলেও গুঞ্জন ছিল। যদিও, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সেই গুঞ্জন একদম উড়িয়ে দিয়েছেন।

রিকার্ডো কারুসো লোমবার্দি

লোমবার্দি বলেন, ‘মেসি তাঁর ক্যারিয়ারে সাতজন কোচকে গিলে ফেলেছেন। আমার কি মনে হয় জানেন, মেসি ইচ্ছা করে বাজে খেলেছেন, যাতে করে সাম্পাওলিকে আগুনের কুণ্ডলীর মধ্যে পড়তে হয়। আর্জেন্টিনার উচিৎ তাঁকে (লিওনেল মেসি) ছুড়ে ফেলা। মেসি কারো জন্য তোয়াক্কা করে না। কোচ যা বলে ও তার উল্টো পথে গিয়ে খেলে। ও তাঁদের সাথেই সব সময় খেলতে চায়, যাদের ও পছন্দ করে না, তারা ভাল খেলোয়াড় কি বাজে খেলোয়াড় তাতে ওর কিছু যায় আসে না।’

আলবিসেলেস্তেদের ১৯৭৮ বিশ্বকাপ হিরো মারিও কেম্পেসও মেসির সমালোচনামুখর। তিনি বলেন, ‘হতে পারে মেসির যা অর্জন আছে তা দিয়েই ও বিশ্ব সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু, সব কিছুর একটা শুরু আর শেষ আছে। ও এখন বিরক্তির, ক্লান্ত আর বিতৃষ্ণ। ও যা করে সব বার্সেলোনার জন্য, আর্জেন্টিনার জন্য কিছুই করে না। আমি জানি মানুষ আমার এই মতের বিরোধীতা করবে, তবে আমি মনে করে এই দলের সিনিয়রদের সবাই নিজেদের ক্যারিয়ারের চক্র পূরণ করে ফেলেছে।

মারিও কেম্পেস

তুলনামূলক দুর্বল দল নিয়ে ভাল করার ক্ষেত্রে আরেক সাবেক আর্জেন্টাইন ডিয়েগো সিমিওনে মেসির চেয়ে এগিয়ে রাখলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। পর্তুগাল-রিয়াল মাদ্রিদের তারকার সাথে লিওনেল মেসির তুলনায় গিয়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই কোচ বললেন, ‘গত চার বছরে যা হয়েছে এখন তারই ফল পাওয়া যাচ্ছে। একটা নৈরাজ্য চলছে, দলে নেতৃত্ব বলছে কিছু নেই। আমি দেখছি দলটা হারিয়ে গেছে। মেসি খুবই ভাল। আসলে ওকে খুব ভাল মনে হয় তখনই যখন একগাদা ভাল খেলোয়াড় ওর আশেপাশে থাকে। ধরেন, রোনালদো আর মেসি, জাতীয় দলে এই দু’জনের মধ্যে একজনকে নিতে হবে, আপনি কাকে নেবেন। আমি তো রোনালদোকে নেবো।’

‘ডি’ গ্রুপ থেকে প্রথম দল হিসেবে শেষ ১৬-তে নাম লিখিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। এখনো কাগজে-কলমে বাকি তিন দলেরই সুযোগ আছে। শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়াকে আর্জেন্টিনার কেবল হারালেই চলবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে আইসল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের দিকে।

ডিয়েগো সিমিওনে

আইসল্যান্ড যদি ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দেয় তাহলে গোল ব্যবধানে যারা এগিয়ে থাকবে তারাই চলে যাবে দ্বিতীয় পর্বে। আর অন্যদিকে আর্জেন্টিনা যদি নাইজেরিয়ার কাছে হেরে যায়, তাহলে ক্রোয়াটদের সাথে দ্বিতীয়পর্বে চলে যাবে আফ্রিকান ইগলরা।

– মার্কা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।