আর্জেন্টাইনরা আমাকে গালি দেয়

আমার ছয় বছরের ছেলে জানতে চায়, কেন আর্জেন্টাইনরা আমাকে চায় না!

লোকে বলে এএফএ (আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) নাকি আমারই নিয়ন্ত্রনে, আমি নাকি ডি মারিয়া, হিগুয়েইন ও অন্যান্যদের নিয়ে বন্ধুদের একটা ক্লাব চালাই। এটা আমাকে রাগিয়ে দেয়। কারণ, লোকে ওই সব কিছু খায় যা মিডিয়া তাদের খাওয়াতে চায়। ওসব খেয়ে ওরা আমাকে গালি দেয়, ‘কুকুরের বাচ্চা’ বলে ডাকে। তবে, এর সব কিছুই মিথ্যা।

আমাদের প্রজন্মকে সবাই ভুল বুঝে। আর ১০ টা জাতীয় দলের ব্যাপারে বাকিদের যে দৃষ্টিভঙ্গী, আমাদের ব্যাপারে সেটা ‍খুবেই বর্বর।

স্থানীয় আর্জেন্টাইন সাংবাদিকদের সাথে সব সময়ই আমাদের গণ্ডগোল বাঁধা। ওরা রোজই আমাদের নিয়ে নানা রকম গাল-গল্প ফাঁদে। প্রতিদিন আমাদের মুখে নতুন নতুন মন্তব্য এঁটে দেয়। ওরা যা চায়, আমরাই সেটাই ওদের বলতে দিতাম। ভাবতাম, এটা জরুরী কোনো ব্যাপার নয়। তবে, এটাই আসলে ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।

আমি জাতীয় দলের হয়ে ট্রফি জিততে চাই। না চাইলে তো ঘরেই বসে থাকতাম, তবে এটা খুব কঠিন। আমার ছেলে এখন ইউটিউব দেখে। ভিডিওগুলো দেখে আর বলে, ‘ওরা কেন আর্জেন্টিনায় তোমাকে পেলেই মেরে ফেলতে চায়?’

আর্জেন্টিনায় আমাদের সবাই ঘৃণা করে। আমি খেলতে চাই আমার জার্সিটার জন্য, জিততে চাই দলের জন্য। তাই আমি সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আর টুর্নামেন্ট খেলতে চাই।

দলের সবার সাথেই আমার দারুণ সম্পর্ক। আমাদের সব সময় স্থীর থাকতে হয়, উইকেন্ডে আমরা যার যার ক্লাবের হয়ে যেমন খেলি, জাতীয় দলেও ঠিক একই কাজটা করতে চাই।

এটা সত্যি যে আমি খুব বেশি কথা বলি না। আমি খেলি, খেলতেই বেশি পছন্দ করি। আমি বিশ্বাস করি যে, খেলতে খেলতেই আমরা শক্তিশালী হবে। আমাদের ধৈর্য্য ধরা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

রাশিয়া থেকে ফিরে ভেবেছিলাম আমার মধ্যেই কোনো কমতি আছে। যা হয়েছে সেটা ভুলে গিয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে চাচ্ছিলাম। আমি জাতীয় দলের হয়ে একটা ট্রফি চাই। এখন শুধু এই দু:স্বপ্নটা ভুলতে হবে, মাথা ঠাণ্ডা করতে হবে। বার বার বাদ পড়ার এই যন্ত্রনাটা খুব তীব্র। প্রতিবার এই চক্র থেকে বের হতে আমার অনেক সময় লাগে।

সম্প্রতি আমি ২০১০ সালের স্পেন বিশ্বকাপের কথা ভাবছিলাম। আমাদের একটা দারুণ দল ছিল। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আমাদের কপালটা ভাল ছিল না। যদিও, এর আগেই আমরা প্যারাগুয়েকে পেনাল্টিতেই হারিয়েছিলাম। ফুটবলে ভাগ্য সহায় থাকাটাও খুব জরুরী।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়াটা জীবনের সবচেয়ে সেরা অনুভূতি। যারা জিতেছে, তারাই আমাকে এটা বলেছে। এটা একজন ‍ফুটবলারের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আমি আমার ক্লাব পর্যায়ে সব জিতে ফেলেছি। কিন্তু, জাতীয় দলের হয়ে কিছু জেতা যে কতটা কঠিন সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

যদি ব্রাজিলেই আমরা বিশ্বকাপটা জিতে ফেলতে পারতাম তাহলে এখনকার দৃশ্যপটটা ভিন্ন হত। আর্জেন্টাইন ফুটবল দলটা এখন আর তেমন শক্তিশালী নয়, যেমনটা কয়েক বছর আগে ছিল। তবে, এখনো বাকি দলগুলো আামদের শ্রদ্ধা করে। তবে, আমাদের মাঠে কিছু একটা জয় করা খুবই জরুরী।

আর্জেন্টিনায় সবাই আমাকে ঘৃণা করে, ব্যাপারটা তেমন নয়। অধিকাংশ লোকই আমাকে ভালবাসে, ঠিক বার্সেলোনার মতই। তবে, কিছু লোক থাকেই যারা সব সময় নেতিবাচকতা খুঁজে। সেসব নিয়ে আমি ভাবি না। তবে, যখন আমার নামে মিথ্যা গাল-গল্প ছড়ানো হয় তখন আমি রেগে যাই। যাই হোক আমি খেলি নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য আর তাদের জন্য যারা আমার খেলা ভালবাসে, তাদের জন্যও যারা আমাকে পছন্দ না করার পরও প্রতিনিয়ত সহ্য করে যাচ্ছে… হা হা!

_______________

আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনা তারকা লিওনেল মেসি কথাগুলো বলেছেন রেডিও ক্লাব অক্টোবরকে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।