মুগ্ধতার দেবী দর্শন

আবছা আঁধারঘেরা একটি ঘরের জানালার গ্রীল ধরে দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণী। ঝিরঝির বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি, জানালার গ্রীল ধরে তার দোল খাওয়ায় দুলছে কিছুটা তার শাড়ির আঁচল‌। সেই তরুণী আবার বসে আছে পুরনো এক দালানের ছাদে, তার পাশে গুটি গুটি পায়ে হাঁটছে একটি পেঁচা। এমন কিছু দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে জয়া আহসানের প্রযোজিত প্রথম ছবি ‘দেবী’-তে।

‘দেবী’ চলচ্চিত্রের টিজার এসেছে। যারা প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘দেবী’ উপন্যাসটি পড়েছেন তারা জানেন কোন চরিত্রটিকে পর্দায় তুলে ধরেছেন জয়া। হুমম, ঠিকই ধরেছেন। তার চরিত্রের নাম ‘রানু’। মিসির আলী গল্পের প্রধান নাকি রানু প্রধান তা জানতে হলে কটা দিন অপেক্ষা করুন।

মিসির আলী সিরিজের প্রথম দিককার বই ‘দেবী’ সিনেমায় নিয়ে আসার সাহস দেখানো সহজ কথা নয়। হুমায়ূনকে ঠিক পাওয়া যায়না বলে বিশাল রিস্ক ফ্যাক্টর কাজ করে সকলের জন্য। যারা নিজের উপর আস্থাশীল তারা সাহসটি দেখাতে পারেন। শাওন দেখিয়েছেন হয়তো একজন স্ত্রীর অধিকারবলে। আরেকজন দেখালেন, তিনি জয়া আহসান।

নিজের প্রযোজনা সংস্থার প্রথম প্রজেক্ট হিসেবে বেছে নিলেন হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলীকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ট টাইম প্রফেসর আধ-পাগলা বুড়ো মিসির আলী কত পাঠককে যুক্তি দিয়ে পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করতে শিখিয়েছেন তার হিসেব নেই। তাকে বড় পর্দায় নিয়ে এসে একটা জুয়াই খেললেন জয়া। ১৫ই এপ্রিল ২০১৮, ২রা বৈশাখ ১৪২৫ সনে প্রায় দুই মিনিটের টিজারে মিসির আলীকে পাওয়া না গেলেও পাওয়া গেল রানুকে। যে চরিত্রে আছেন জয়া স্বয়ং।

সাধারণত সাহিত্যকে সিনেমায় রূপান্তর করলে বইয়ের স্বাদটুকু হারিয়ে যায়, হুমায়ূন আহমেদ বাদে যারাই তার বইকে পর্দায় এনেছেন তারাই হোঁচট খেয়েছেন। তাই বিষয়টা জয়ার জন্য চ্যালেঞ্জিংও বটে।

আপনি যদি গল্পটি পড়ে থাকেন তাহলে টের পাবেন জয়া কি করেছেন। তার মতো অত্যন্ত সাবলিল অভিনয় এ প্রজন্মের খুব কম অভিনেত্রীই পারেন। জয়া তার স্বভাবসুলভ অভিনয় সত্ত্বা দিয়ে আরো একবার নিজের জাত চেনালেন। তার বসে থাকার ভঙ্গি, আনমনে হেঁটে যাওয়া, সংলাপ প্রক্ষেপণ কিংবা মনে মনে ভাবনার দৃশ্যায়ন আপনাকে বলতে বাধ্য করবে, ‘ওয়াও’।

টলিউড জয়ার ব্যবহার করতে পারছে কিন্তু ঢালিউড পারছেনা এ আক্ষেপ হয়তো ঘুচতে যাচ্ছে ‘দেবী’ দিয়ে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য শবনম ফারিয়াকে দেখে মনে হলো তিনিও ভাল করেছেন এ ছবিতে, কিংবা বলা ভাল পরিচালক তার সুপ্ত অভিনয় প্রতিভাকে বের করে এনেছেন নিপুণ কারিগরের মতো।

ছবিটির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সিনেমাটোগ্রাফি টিজারেই তৃপ্তি দিয়েছে। মূল ছবিতে তার ব্যাপকতা বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস। ‘দেবী’ চলচ্চিত্রটিতে জয়ার সঙ্গে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, ইরেশ যাকের, শবনম ফারিয়া প্রমুখ। ছবির পরিচালনায় ছিলেন অনম বিশ্বাস। পরিবেশনায় আছে জাজ মাল্টিমিডিয়া, ছবিটি সরকারী অনুদানও পেয়েছে।

পরিশেষে বলতেই হয় জমজমাট একটি ছবি পেতে যাচ্ছি আমরা, এমন মনোমুগ্ধকর টিজার স্বপ্ন দেখাতে বাধ্য করে, প্রত্যাশাকে ঠেলে নিয়ে যায় দিগন্তে। কেন যেন বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে জয়া আহসান ও তার টিম হুমায়ূন আহমেদের প্রতি অবিচার করেননি, তার সাহিত্যের পূর্ণমর্যাদা দিতে পেরেছেন। তাই অপেক্ষাটাও হয়ে উঠছে ভালোলাগার, ভালোবাসার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।