সুনজর নয়, চাই সম-নজর

ডেভিড আর গোলিয়াথের গল্প মনে আছে?ছোট্ট ডেভিড অজেয় গোলিয়াথকে হারিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ঠিক তেমনি ভারতীয় মেয়েদের সাম্রাজ্যে প্রথমবারের মত মেয়েদের এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি জয়লাভ করে দেশবাসীকে এনে দিয়েছেন আনন্দের উপলক্ষ। এই ট্রফি জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন বলতেই হবে।

ভারতীয় প্রমীলা ক্রিকেট দল প্রমীলা ক্রিকেট দুনিয়ায় এক পরাশক্তি। এশিয়া কাপের টানা ৬ বারের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন তারা। পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কার নারী ক্রিকেট দলের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেছে গত শতাব্দীতে। আর,বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রার একযুগও হয় নি এতদিনে। তারাই কি না আজ এশিয়ার সেরা।

ভারতীয় প্রমীলা ক্রিকেটারা ছয় জুন যখন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে টানা ৩৪ ম্যাচ পর আমাদের মেয়েদের কাছে পরাজিত হল তখন অনেকে এটাকে ‘অঘটন’ বলেছিলেন। কিন্তু, যখন ভারতীয় নারী দল একই টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয়বারের মত বাংলাদেশ প্রমীলা ক্রিকেট দলের কাছে পরাজিত হবার পর সেটাকে আপনি আর ‘অঘটন’ বলতে পারেন না, সেটাকে আপনার ‘অবিশ্বাস্য’ বলতেই হবে।

বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সাথে কেন্দ্রীয় চুক্তি রয়েছে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়ের সাথে। ভারতীয় দলে খেলেন মিতালি রাজ, ঝুলন গোস্বামী, হারমান প্রীত কৌরের মত বিশ্বমানের খেলোয়াড়েরা। ঝুলন গোস্বামী ২০০৭ সালে আইসিসি ওমেন্স ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হয়েছিলেন। মিতালি রাজ মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের অধিকারী।

হারমানপ্রীত কৌর গত বছর প্রমীলা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দলের বিপক্ষে অপরাজিত ১৭১ রান করেছিলেন,যা রেকর্ডবুকে স্থান করে নিয়েছে।ভারতীয় নার ক্রিকেট দল প্রমীলা বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সর্বশেষ আসরে ফাইনাল খেলেছে। সেই দলটাকে যখন যৎসামান্য সুবিধা ও পারিশ্রমিক প্রাপ্ত বাংলাদেশের মেয়েরা একই আসরে দুবার হারায়, বিসিবির কি উচিত নয় তাদের প্রতি নজর দেওয়া?

বিসিবি টুর্নামেন্ট জয়ের পর দলকে ২ কোটি টাকা বোনাস দিয়েছে। রবির সৌজন্যে প্রত্যেক নারী ক্রিকেটার আইফোন পাবেন।এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। আমাদের অবশ্যই তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় বের করে আনতে হবে।স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মত মেয়েদের স্কুল ক্রিকেট আয়োজন করতে হবে। মেয়েদের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য একাডেমী তৈরি করতে হবে। নারী ক্রিকেটারদের বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বেতন-ভাতার পরিমান বাড়ানো হবে। পারিশ্রমিক ও ম্যাচ ফির পরিমাণ বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে দেশ বিদেশে আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিমাণও। নিয়মিত আয়োজন করতে হবে নারী ক্রিকেট লিগও। মোট কথা, পুরুষ দলের একই নিক্তিতে পরিমাপ করতে হবে নারী ক্রিকেটারদেরও।

১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কিলাত ক্লাব গ্রাউন্ডে আইসিসি ট্রফি জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলে দিয়েছিল। তার ২১ বছর পর সেই মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের কিনরারা একাডেমি ওভালে এশিয়া কাপের ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।এই ট্রফিটাও কি বাংলাদেশের প্রমীলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলে দিবে?সেটা সময়ই আপনাকে বলে দিবে!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।