কান্নার একাল-সেকাল: শাবানার পর মেহজাবিন

বাংলাদেশে মেহজাবিন নামে একটা মেয়ে আছে। সম্ভবত ঢাকায় থাকে৷ লাক্স সুপারস্টার। বাংলা নাটকে অভিনয় করে। মেয়েটা যেমন সুন্দরী, তেমন তার কথা -বার্তা, চাল চলন, আচার-ব্যবহার।

কথা সেটা না। কথা হল অন্যটা। এই মেয়েটাকে আমি যতবার টিভিতে দেখি,অবাক হই। ম্যাক্সিমাম টাইমে মেয়েটাকে দেখার আগে গামছা সঙ্গে নিয়ে বসতে হয়। কাঁদার জন্যে।

একটা মেয়ে এত্ত ভাল! এত্ত ভাল! কিভাবে হতে পারে! আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি! আর কাঁদি। আর তাকিয়ে থাকি!

মেয়েটা এত সুন্দরী অথচ জীবনে কোন বয়ফ্রেন্ড কে এক ফোটা প্যারা দেয়না।

মেয়েটার ভাগে সব বয়ফ্রেন্ড-ই জুটে গরীব ঘরের। অভাবী৷ তাতে তার বিন্দুমাত্র আফসোস থাকেনা।

কোনদিন ভুলেও বলেনা দামি একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাও। সামান্য পাঁচ টাকার বাদাম চিবুতে চিবুতে মেয়েটা খুশ। তাও ঐ পাঁচ টাকা নিজের গাট থেকে দেয়। ভাইরে বয়ফ্রেন্ডের যে কোন প্রব্লেমে মেয়েটা এত কুল কিভাবে থাকে কে জানে! বয়ফ্রেন্ড না খেয়ে আছে, এটা সে ফোনে জাস্ট একটু কথা বললেই বুঝে যায়৷ ব্যস, সোজা বাসা থেকে খাবার দাবার রান্না করে নিয়ে বয়ফ্রেন্ডের বাসায় চলে আসে।

একদিন খেয়াল করলাম মেয়েটার ম্যাক্সিমাম জামার ওড়না থাকে। এবং বেশ লম্বা লম্বা, প্রথমে বুঝতে পারিনি এত লম্বা ওড়না কেন পড়ে। চোখ খুলে গেল যেদিন দেখলাম ওড়না দিয়ে সে তার বয়ফ্রেন্ডের কপাল, গলা, নাক, কানের ঘাম মুছে দিচ্ছি। স্পিচলেস হয়ে গেলাম জাস্ট! এমনো মেয়ে আছে?

বয়ফ্রেন্ড এত বকা দেয়! এত বকা দেয়! ছেড়ে দিতে বলে তবু মেয়েটা রাগেনা। মারে মা! কি অপার ধৈর্য্য মেয়েটার! ঠিক ই বয়ফ্রেন্ড কে আবার কল দেয়! মিস কল না! ডাইরেক্ট কল।

বয়ফ্রেন্ডের বোনের মেয়ের বড় ছেলের মুসলমানি পর্যন্ত মনে রাখে মেয়েটা। শুধু যে মনে রাখে তা না, এমনকি গিফট পর্যন্ত নিয়ে আসে৷ একজনের জন্যে আনেনা, বয়ফ্রেন্ডের জন্যেও আনে। বয়ফ্রেন্ডের গরীব বাবা-মার জন্যেও আনে। কি স্মরণ শক্তি! আর কি উদার!

একদিন দেখলাম অপূর্ব নামের এক ছেলের সাথে মেয়েটার ব্রেক আপ হয়ে যাচ্ছে যাচ্ছে ভাব। কারণ মেয়েটার রাগী চৌধুরী সাহেব টাইপ বাবা ওর বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে সিঙ্গাপুরের মগবাজারে থাকা এক ওয়েল সেটেলড ফেসবুক স্পেশালিস্ট এর সাথে। হায়রে কি দেখলাম! এত ওয়েল সেটেলড একটা জামাই পাবার পরেও মেয়েটা বয়ফ্রেন্ড কে ছাড়তে চাইল না।

খুব সম্ভবত এটা পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের পার্ট-২। কিন্তু মেয়েটার নিয়তি ই খারাপ শালার। প্রায় সব সময় দেখেছি মেয়েটার সাথে এমন হতে। তবুওতো সে হুট করে আর দশটা মেয়ের মতন বয়ফ্রেন্ডের সাথে ব্রেক আপ করে ফেলেনা, বরং বয়ফ্রেন্ডকে ডেকে এক গাদা গিফট ধরিয়ে দেয়। অপূর্ব কে সেদিন টিস্যু পেপার থেকে শুরু করে, রিচার্জ কার্ড, বেল্ট, মানিব্যাগ, লুংগি, সাবান, তোয়ালে এবং একটা লাল জামা দিল!

মেয়েটার কপাল এতটাই খারাপ! ভাগে সব চাকরী প্রত্যাশী অপূর্ব-নিশোরা জুটে। কিন্তু ছেলেগুলার চাকরী হয়না। হবে কিভাবে? ইন্টারভিউ বোর্ডে যে একজন মেহজাবিনের বড় অভাব! তবু ও তো মেয়েটা সাহস করে তার বাবাকে বলে তার বয়ফ্রেন্ডদের কথা। কিন্তু তার বাবা? তার বাবা চৌধূরী সাহেব। তার বাবা যে মেনে নেয়না। শেষে মেয়েটা মেনে নেয় নিয়তি কে। সংসার পাতে অন্য কারোর সাথে।

এত কষ্ট নিয়ে কিভাবে একটা মেয়ে বেঁচে থাকে। কিভাবে! আমার জানা নেই, জানিনা দেশের কোন বড় পরিচালক, গল্পকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এটা জানেন কিনা!

বাংলাদেশে সাবানার পরে এমন ত্যাগের নজিরবিহীন উদাহরণ স্থাপন করল মেহজাবিন মেয়েটা।

পার্থক্য দুইটা শাবানার ত্যাগ ছিল স্বামীদের জন্যে। আর মেহজাবিনের ত্যাগ বয়ফ্রেন্ডদের জন্যে।

শাবানা করত সিনেমা, আর মেহজাবিন করে নাটক।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।