মেগাস্টার চিরঞ্জীবী: বিগার দ্যান বচ্চন!

১৯৯২ সাল। তেলেগু ছবি ‘ঘারানা মগুডু’ ব্লকবাস্টার হয়। টলিউডের প্রথম ছবি হিসেবে নাম লেখায় ১০ কোটির ঘরে। পরের ছবির জন্য চিরঞ্জীবী পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন কত জানেন? এক কোটি ২৫ লাখ রুপি! সেই নব্বই দশকে সেটা কোনো দক্ষিণী অভিনেতার জন্য ছিল অকল্পনীয় একটা ব্যাপার।

এর চেয়েও বড় কথা হল তখন ‘বিগ বি’ খ্যাত স্বয়ং অমিতাভ বচ্চনই সিনেমাপ্রতি নিতেন এক কোটি রুপি। কিন্তু, চিরঞ্জীবী ছাড়িয়ে গেলেন বচ্চনকে। গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে তোলপাড়। খ্যাতনামা ‘ফিল্মফেয়ার’ ম্যাগাজিন তাঁকে কভার স্টোরি করলো। তাতে শিরোনাম ছিল ‘বিগার দ্যান বচ্চন’। ‘দ্য উইক’ লিখলো – ‘দ্য নিউ মানি মেশিন’।

বচ্চনকে পেছনে ফেলার অচলায়ন ভাঙার কাজটা এই চিরঞ্জীবীর হাত ধরেই শুরু হয়েছিল ভারতে। তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালের ২১ আগস্ট। আসল নাম কোনিডেলা শিভ শঙ্কর ভর প্রসাদ। বাবা ছিলেন পুলিশের কনস্টেবল। পর্দায় নাম হয় চিরঞ্জীবী। নামটা আসলে মায়ের দেওয়া ছিল। আর ভক্তদের কাছে তিনি পরিচিত চিরু নামে।

তিনি হলেন প্রথম দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা, যিনি সেই ১৯৮৭ সালে অস্কারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ পান। ভারতীয় গণমাধ্যম আইবিএন লাইভ তাঁর ব্যাপারে বলে, ‘চিরঞ্জীবী হলেন সেই ব্যক্তিদের একজন যারা ভারতীয় চলচ্চিত্রের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন।’

ইংরেজি ভাষায় ডাবিং হওয়া প্রথম দক্ষিণ ভারতীয় ছবিরও নায়ক ছিলেন চিরঞ্জীবী। ১৯৯০ সালের সেই ছবিটা ছিল কে. মুরালি মোহন রাওয়ের ‘কোডাম সিমহাম’। ইংরেজিতে নাম দেওয়া হয় ‘হান্টারস অব দ্য ইন্ডিয়ান ট্রেজার’। এর আগে ১৯৮৭ সালে তাঁর দু’টো ছবি রুশ ভাষায় ডাবিং করা হয়েছিল। সেগুলো হল ‘পাসিভাদি প্রানাম’ ও ‘সয়্যামক্রুশি’। ১৯৮৮ সালে ‘মারানাম্রুদাঙ্গাম’ ছবি করার পর তাঁর নামের সাথে যোগ হয় ‘মেগাস্টার’।

হলিউডের ছবিতেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু, ‘দ্য রিটার্ন অব থিফ অব বাগদাদ’ নামের সেই ছবিটি অজানা কারণে মুক্তি পায়নি। তিনিই ভারতের প্রথম অভিনেতা যিনি নিজের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট চালু করেন।

রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যটন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন প্রায় তিন বছর। ২০০৬ সালে পান ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মভূষণ। সিনেমা জগতে চারবার নন্দী পুরস্কার ও নয় বার ফিল্মফেয়ারের পুরস্কার পান। এই বয়সেও তাঁর স্টাইল, নাচ, অ্যাকশন ও অভিনয় তরুণদের জন্য আদর্শ।

বলা যায়, চিরঞ্জীবির পরিবারই এখন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা জগতের নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিয়ে করেছিলেন তেলেগু ছবির কিংবদন্তি কমিক অভিনেতা আল্লু রামালিঙ্গিয়াহ’র মেয়ে সুরেখাকে। তাঁদের ছেলে হলেন রাম চরণ। একাধারে তিনি অভিনেতা ও প্রযোজক। চিরঞ্জীবির দুই ছোট ভাই নগেন্দ্র বাবু ও পবন কল্যান – দু’জনই অভিনেতা ও প্রযোজক।

চিরঞ্জীবি আবার হলেন তেলেগু অভিনেতা আল্লু অর্জুন ও আল্লু শিরিষের ফুফা। বোন বিজয়া দুর্গার ছেলে সাই ধরম তেজও অভিনেতা বনে গেছেন। ভাই নগেন্দ্রর ছেলে বরুণ তেজ ও নিহারিকাও অভিনয় করেন।

মেগাস্টার চিরঞ্জীবী সম্পর্কে যে কথাটি সবচেয়ে বেশি শোনা যায় তা হল – তিনি হলেন রজনীকান্ত এবং কমল হাসানের মিশ্রন। অর্থাৎ ‘ক্লাস’ এবং ‘মাস’ – দু’টোই বজায় রাখেন তিনি। কথাটা বলেছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা কাইলাশ্যাম বালাচন্দ্র। মানে, অ্যাকশন ও নাচ-গান দিয়ে দর্শক টানা, আর তুখোড় অভিনয় – সবই জানেন তিনি। তাই, নামের মতই তাঁর কাজগুলো অমর হয়ে থাকবে!

– টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়া টিভি অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।