তাঁদের ‘অবাকনেস’ দেখে আমি অবাক!

বিশিষ্ট কেউ হলে কাজীদা আর প্রিয় অনুবাদক শেখ আবদুল হাকিমের (পুজোর গডফাদারের অনুবাদক, আমার মতে সেবার সেরা তো বটেই পুরা বাংলা সাহিত্যের সেরা পাঁচটা অনুবাদের একটা) এই দ্বন্দ্ব বিষয়ে বলতাম, তোমরা ঝামেলা মিটিয়ে ফেলো। তোমাদের মধ্যে একটা আস্থার সংকট আমার গোচরে এসেছে সেটা দূর করো।

যারা আবদুল হাকিম মাসুদ রানা লেখে শুনে অবাক হয়েছে, তাঁদের ‘অবাকনেস’ দেখে আমি অবাক! এটা তো ওপেন সিক্রেটও না, পুরাই ওপেন যে কাজী আনোয়ার হোসেন লেখেন না, শুধু দেখেন মোটামুটি, তাও এই বয়সে কতদূর কি দেখতে পারেন আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে। আর হাকিম ভাই বাদে আরো কয়েকজন লেখেন যদ্দুর মনে পড়ে। এই প্রাকটিস বহুদিনের!

পুরো বিষয়টা আসলে আস্থা বা বিশ্বাসের সংকটই। আইন দিয়ে এর প্রতিকার পাওয়া কঠিন হবে। কাজীদা মৌখিক চুক্তিতে এমন করে বই ছাপান শুরু থেকেই। পান্ডুলিপি জমা দিলে এক দফা, ছাপালে এক দফা পরে পুন:মুদ্রনে রয়্যালিটি এমন করে। এবং সেবার এই সিস্টেমই বহু উঠতি লেখককে প্লাটফর্ম দিয়েছে, লেখককে বাঁচিয়ে রেখেছে।

পান্ডুলিপি জমা দিলেই টাকা, এমন এখনো পর্যন্ত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান করেছে বলে শুনিনি। সেবার লেখকরা এই পদ্ধতির প্রশংসা বহু জায়গায় করেছে। প্রিয় লেখক রওশন জামিল (প্রত্যয় বাথান ফেরা ওয়ানটেড’র লেখক! উফ গুজবাম্পস!) অনীশ দাস অপু (হরর অপু) বা হুমায়ুন আহমেদ (অমানুষ (অনুবাদ) বইটার ভূমিকায় আছে, যেটা কিনা আবার মাসুদ রানার বিখ্যাত অগ্নিপুরুষের ঐ গল্পই) এই পদ্ধতির উচ্চ মানের প্রশংসা করেছেন। জামিল ভাই সর্বশেষও কবে যেন লিখেছিলেন উনি বহু দিন পরে দেশে আসার পর পুরনো কোনো বইয়ের টাকা তাকে দেয়া হয়েছে এমন!

এখন সমস্যা হচ্ছে কপিরাইট আইন বলে ভিন্ন কথা। বইয়ের লেখক স্বত্ব নাকি হস্তান্তকযোগ্য নয়। কিন্তু কাজীদার যে সিস্টেমে লেখকরা এতদিন উপকৃত হয়েছেন তাতে কিন্তু তার নিজের উপকার তেমন হচ্ছে না। আইনে নাকি নির্দেশনা আছে যে সবকিছু পূর্নাঙ্গ লিখিত চুক্তি থাকতে হবে!

আবার আড়াইশো মাসুদ রানার স্বত্ব আবদুল হাকিম পেলেন, এখন উনি কি অন্য উনার পছন্দের প্রকাশনী থেকে এই বই ছাপতে পারবেন? আইন অনুযায়ী পারার কথা সম্ভবত, কিন্তু সেইটা রীতিমতো পরাবাস্তব মনে হচ্ছে আমার কাছে! মাসুদ রানা, কাজীদার সৃষ্টি সেবার জিনিস আর সেটা ছাপা হবে অন্য প্রকাশনী থেকে! কিন্তু বইতো আবার হাকিম ভাইর, বইর স্বত্ব তাঁর!

হাকিম ভাইর দেখাদেখি এখন অন্য সবাই যদি আইনের আশ্রয় নেয় তাহলে কি সব বইয়ের মালিকানা কাজীদা হারাবেন? ৫০০ অ্যারাউন্ড বইয়ের মধ্যে উনার বাকি থাকবে সেই ধ্বংস পাহাড় ভারত নাট্যম স্বর্ণমৃগ কয়েকটা? আইন অনুযায়ীতো তেমনই হবার কথা!

সব মিলে একারনেই মনে হইছে আইন দিয়ে প্রতিকার পাওয়া কঠিন এইখানে। আস্থার সংকট মনে হবার আরেকটা কারণ হচ্ছে বই একচুয়াল যে পরিমান ছাপা হয় সে পরিমান রয়্যালটি না পাওয়া বিষয়ক হাকিম ভাইর দাবী। এইটা সত্য হবার সম্ভাবনা বেশী কীরণ অর্ধ শতকের লিটারেরি পার্টনারশিপ নিশ্চয়ই সামান্য কারনে ভাঙ্গে না!

কাজীদার রাজনৈতিক কিছু দৃষ্টিভঙ্গীর বিষয়ে একমত না হলেও তার কাছে আমাদের বা কয়েক প্রজন্মের এক আকাশ ঋণ! বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে একটু অগ্রসর সমাজ হলে স্টিফেন কিংদের মতো পপুলার কালচারে মাসুদ রানা উনি দুজনেই সাইটেড হতেন আমি নিশ্চিত। দুই পক্ষই যেন ক্ষতির হাত থেকে বাঁচে এমন বেআইনী ( নৈতিকতা বা সমঝোতার মাধ্যমে) পন্থায় সমাধান করা গেলে খুব ভালো লাগতো! একারনেই নিজেরে বিশিষ্টজন মনে লাগাইলাম।

লেখা পড়ে আমাকে সেবা প্রকাশনী বিশেষজ্ঞ মনে হতে পারে। আমার ধারনাও আমি তাই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।