সিমপ্যাথি নয়, কলিজার জোর

এই লেখাটা আপাতত কর্তব্যের মধ্যে পড়ে গেল! সকাল থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে বেশ কয়েকটা ‘নেতিবাচক’ লেখা চোখে পড়লো। তাই, প্রচণ্ড বিতৃষ্ণা নিয়ে লিখতে বসলাম।

মাশরাফি নাকি বেশি আবেগ দেখান। যার উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে তাসকিন আর মুস্তাফিজের কিছু কথা।অথচ তাসকিন আর মুস্তাফিজ আসার অনেক অনেক আগে থেকেই মাশরাফি আছেন। তিনি আমাদের দেশের অনন্য একজন ক্রিকেটারই না একজন মানুষও।

মাশরাফি নাকি সিমপ্যাথির জোরে টিকে আছেন। তিনি নাকি ১৩০ কিমি বেগে বোলিং করা অর্ডিনারি বোলার। প্রথমত মাশরাফিকে অর্ডিনারি কোনো ভাবেই বলা যায় না। সাকিবের পর তিনিই আমাদের সেরা বোলার। আর পেস বোলার হিসেবে দেশের এক নম্বর।

এত ইনজুরির পরও টিকে আছেন স্রেফ নিজের যোগ্যতায়। দ্বিতীয়ত, পুরো বিশ্বের পরিপ্রেক্ষিতে মাশরাফির অবস্থানের কথা আছে। তাহলে, একবার একটু ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে চোখ বুলান। ক’দিন আগেও তিনি ওয়ানডের সেরা ১০ বোলারের একজন ছিলেন। এখন আছেন ১৮-তে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবার ওপরে। সাকিবও ২০-এ। এই মাশরাফিকে অর্ডিনারি মনে হয় কোন যুক্তিতে? তার জনপ্রিয়তাকে সিমপ্যাথি বলে চালি দেন কিসের জোরে?

অধিনায়ক হিসেবে তার সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব না কি সাব্বির, সৌম্য কিংবা মুস্তাফিজদের মতন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য! আমার মাশরাফিকে উচু করতে যেয়ে দেশের অন্যান্য খেলোয়াড়দের নীচু করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই!

কিন্তু সত্যি করে বুকে হাত দিয়ে বলেন দেখি মাশরাফি না থাকলে এসব প্রতিভা দিয়ে কয়টা ম্যাচ জিততাম? এখনো নিয়মিত বাংলাদেশের প্রথম ব্রেক থ্রুটা মাশরাফিই এনে দেন নিয়মিত। এই যে তাসকিনকে আগলে রাখা, মুস্তাফিজকে বুঝিয়ে দেওয়া, সাব্বিরে ফিল্ডিং প্লেসমেন্ট ঠিক করে দেওয়া, সৌম্যর কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার কাজটা করেন মাশরাফি। দলকে চার্জড আপ করেন মাশরাফি। এই তরুণদের সবাই তো টেস্টেও আছে।

মাশরাফির ভুর ডিসিশন নিয়ে নাকি কোনো কথা হয় না!

প্রথমত মাশরাফিও মানুষ। তিনি ভুল-ত্রুটির উর্ধ্বে নন। মাশরাফির ভুল নিয়ে কথা বলা না হলে তো এই লেখাটা লেখাই লাগতো না। সমালোচনা না হলে তো আর তাকে কিছুদিনের জন্য ফেসবুক ডিঅ্যাক্টিভেট করে রাখতে হত না। সমালোচনা না হলে তো আর তার অধিনায়কত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতো না।

অনেকের দাবী, পত্রপত্রিকায় নাকি মাশরাফির সমালোচনা ছাপা হয় না! তাই যদি হয় তাহলে তো আর ২০১১ সালের বিশ্বকাপ থেকে মাশরাফির ছিটকে যেতে হয় না। অবসরের আগেই তো তাহলে কেউ আর ‘আজই কি শেষ, মাশরাফি?’ নামে লেখা ছাপাতো না!

শুধুমাত্র মাশরাফির বাজে পারফর‌ম্যান্সের জন্য আমরা ক’টা ম্যাচ হেরেছি? হারলেও তো সেই দায় তিনি কখনো অস্বীকার করেননি। অস্বীকার করবেন কি, তিনি তো অন্য ক্রিকেটারদের দায়ও নিজের কাঁধে তুলে নেন।

মাশরাফি নাকি সাংবাদিকদের বানানো হাইপ!

নি:সন্দেহে। সাংবাদিকরা তাদের নিয়েই হাইপ তৈরি করেন যারা তার যোগ্য। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, শচিন টেন্ডুলকার কিংবা নিউটন-আইন্সটাইন যদি স্রেফ হাইপ হন, তাহলে মাশরাফিও তাই।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, মাশরাফি শুধু মাত্র সিমপ্যাথির জোরে খেলেন না। মাশরাফি নি:সন্দেহে দলের সবচেয়ে পারফরমিং বোলার। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা অধিনায়ক। তিনি টেল এন্ডে ব্যাট করে বাংলাদেশের জন্য যত রান করেছেন, সেটা দিয়েও বাংলাদেশ অনেক ম্যাচ জিতে গেছে। এটা আমার না, খোদ সাকিবের কথা।

আর ক্রিকেট ভুলে যান। মাশরাফির জনপ্রিয় হতে সিমপ্যাথি লাগে না। তিনি তার কলিজার জোর দিয়েই অনেক কিছু করতে পারেন। তিনি মানুষ হিসেবে অনেক বড়, এই সব স্টারডম-জনপ্রিয়তা তার না হলেও কিছু যায় আসে না!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।