তবু যেতে দিতে হয়…

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন বিশ্বকাপ দিয়েই তিনি যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা শেষ করবেন, তেমন আভাস তিনি অনেকদিন আগেই দিয়ে রেখেছেন। সর্বশেষ মিরপুরে বসে মাশরাফি বিন মুর্তজা নিজেও একই কথাই বলেছেন। বিশ্বকাপের আগে এবং আজকের পরে মিরপুরে আর বাংলাদেশের কোনো ওয়ানডে ম্যাচ নেই। সে ক্ষেত্রে আজকের ম্যাচটিই ‘হোম গ্রাউন্ডে’ বাংলাদেশের সর্বকালের সফল এই অধিনায়কের শেষ ম্যাচ হয়ে যেতে পারে।

তবে, সাথে একটা ‘কিন্তু’ আছে। মাশরাফি বলেছিলেন, ফিটনেস বিবেচনা করে বিশ্বকাপের পর নিজের সিদ্ধান্তটা আরেকবার ভেবে দেখতে পারেন তিনি। সেক্ষেত্রে হয়তো বিশ্বকাপের পর দেশের মাটিতে আরেকটা সিরিজ খেললেও খেলতে পারেন তিনি।

তবে, সেটা যদি না খেলেন তাহলে দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট নায়ক শেষবারের মত নামবেন দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট মঞ্চে। যদি, সত্যি বিশ্বকাপের পর মাশরাফি আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট  না খেলেন, তাহলে আজই শেষবারের মত শেরে বাংলায় খেলতে নামছেন তিনি।

মিরপুরে যতদিন খেলেছেন রাজার মতই খেলেছেন মাশরাফি। এখন পর্যন্ত মিরপুরে শেরে বাংলায় চারটি টেস্ট, ৬৩ টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে এবং ১৫ টি টি-টোয়েন্টি ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ খেলেছেন মাশরাফি। এতে তিনি ১০৯ টি উইকেট শিকার করেছেন। এটা এই স্টেডিয়ামেই কোনো বোলারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের নজীর।

ব্যাট হাতে তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরি (৫১*) এবং টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংসও (৭০) এ মাঠ থেকেই এসেছে। বোঝাই যাচ্ছে, খেলোয়াড় মাশরাফির প্রসঙ্গে আসলেই মিরপুরের কথা আসতে বাধ্য।

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ক্যারিয়ারেও আলাদা একটা স্থান দখল করে থাকবে মিরপুর। এই মাঠে যে ২৬ টি ওয়ানডেতে তিনি বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এর মধ্যে ২০ টিতেই বাংলাদেশ শেষ করেছে জয় নিয়ে।

টি-টোয়েন্টিতে এখানে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন ১০ টি ম্যাচে। এর মধ্যে জিতেছেন পাঁচটিতে। হারও ওই সমান পাঁচটিতেই। তবে, সম্ভবত এই সব কিছুর আজই ইতি ঘটতে যাচ্ছে। আজই শেষবারের মত মিরপুরে টস করতে নামবেন নড়াইল এক্সপ্রেস।

আজই হয়তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেষবারের মত মিরপুরের বোলিং এন্ড থেকে সেই বিখ্যাত দৌড় শুরু করবেন তিনি। আজই হয়তো শেষবারের সাথে মাশরাফির দৌড় আর দর্শকদের চিৎকার মিলিয়ে একটা ঘোরলাগা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। মাশরাফিকেও কি তখন আবেগ ছুঁয়ে যাবে না?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।