এই মানুষটা ভিনগ্রহের কেউ নন তো?

টেস্ট আর ওয়ানডে দলে খুব বড় রকমের কোনো ওলট-পালট হয়েছে কি? হয়নি! তাহলে ‘হুট’ করে জয়ে ফেরার রহস্যটা কি? এই রহস্য মানবের নাম মাশরাফি বিন মুর্তজা। সম্ভবত ক্রিকেট ইতিহাসে তাঁর মত অনুপ্রেরণাদায়ী এবং প্রভাবশীল অধিনায়ক আগে খুব কমই এসেছেন।

আধুনিক ক্রিকেটে অধিনায়ক হবেন অনুকরণশীল। ঠিক তেমন পারফরম্যান্সই গায়ানায় দেখালেন মাশরাফি। ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান হজম করে চারটা উইকেট। ক্যারিবিয়ান পেস আক্রমণ যে উইকেটে নির্বিষ হয়ে ছিলেন, সেখানে মাশরাফির এমন অতিমানব হয়ে ওঠা অবশ্যই দারুণ একটা ব্যাপার।

অথচ, ১৭৫ দিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এদিনই মাঠে নেমেছিলেন অধিনায়ক। এই মানুষটা ভিনগ্রহের কেউ নন তো? ১৩০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন তামিম, কিন্তু, প্রকৃত ম্যাচ জেতানো কাজটা তো মাশরাফিই করে গেছেন।

অথচ, মাশরাফি যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে পা রেখেছিলেন, একবার সেই সময়টার কথাই ভাবুন না! টেস্ট সিরিজে বাজে হারের বেদনায় জর্জরিত বাংলাদেশ দল। দেশে অসুস্থ স্ত্রী। মাঠের বাইরে বসে বোর্ড সভাপতির অযাচিৎ আস্ফালন। এত কিছুর মধ্যে দলকে এক করে মাঠে নিয়ে মনো:সংযোগ রাখাই কষ্টকর। সেখানে মাশরাফি সেটা তো করলেন বটেই, সাথে জয়ও আনলেন। প্রশংসিত হল তার আক্রমণের বৈচিত্র, ফিল্ডিং প্লেসমেন্টসহ গোটা নেতৃত্ব।

শুধু অধিনায়কত্বের জোরে নয়, নিশ্চিত করে বলা যায়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে মাশরাফি তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা কাটাচ্ছেন। গত পাঁচ বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে কমপক্ষে ৮০ উইকেট পাওয়া পেস বোলারদের মধ্যে মাশরাফির চেয়ে কম রান গুনেছেন কেবল অস্ট্রেলিয়ার মিশেল স্টার্ক। তাঁর ইকোনমি রেট – ৪.৮৯ (৫৩ ম্যাচ, ১০৪ উইকেট)।

অন্যদিকে মাশরাফির ইকোনমি রেট – ৫.০০ (৬০ ম্যাচ, ৮০ উইকেট)। এই তালিকায় পরের দু’জনও বেশ ডাকাবুকো পেসার। সম্প্রতি অবসর নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার মরনে মর্কেল (৫.০৮, ৫৫ ম্যাচ, ৮২ উইকেট) ও নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট (৫.১১, ৫৮ ম্যাচ, ১১৬ উইকেট)।

তবে, শুনতে খারাপ শোনালেও সত্যি যে, মাশরাফি মোটামুটি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছেন। একটা মাত্র ফরম্যাটই খেলেন। বয়স ৩৪ হয়ে গেছে, নিজেই বলে রেখেছেন ২০১৯ বিশ্বকাপের পরই বিদায় বলে দেবেন হয়তো।

এর অর্থ হল, এই এক বছর সময়ের মধ্যেই মাশরাফির অভাবটা পূরণ করে ফেলতে হবে বাংলাদেশকে। কাজটা অবশ্যই কঠিন। কিন্তু, হাজার হলেও এটা সত্যি  যে, পৃথিবীতে সব কিছুরই শেষ আছে। এক মাশরাফিই বা আর কত টানবেন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।