তিনি টিকে আছেন রাজার মতন

সেই ২০০১ সালের ২৩ নভেম্বর ওয়ানডে অভিষেক। চট্টগ্রামে। দুরন্ত গতির সঙ্গে ইনসুইঙ্গারে গ্রান্ট ফ্লাওয়ারের মিডল স্টাম্প হাওয়ায় ভাসিয়ে প্রথম উইকেট। এখনও আমি স্টাম্পটা উড়তে দেখি।

ট্রেভর গ্রিপারকে রানআউট করিয়ে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে গালিতে ফাহিম মুনতাসির সুমিতের ক্যাচ বানিয়ে জিম্বাবুয়েকে ২০ রানে তিন উইকেটের দল বানিয়ে ফেলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। আগে ব্যাট করে মাত্র ১৫৬ রানে অলআউট হওয়া দলকে জেতাতে পারেননি ১৭ বছরের কৌশিক। কিন্তু বার্তা দিয়েছিলেন, তিনি অন্যরকম একজন।

এখন ২০১৮ এর সেপ্টেম্বর চলে। তাঁর সময়ে শুরু করা তো বটেই, পরেও কতজন এলেন-গেলেন হিসাব নেই। ১৭ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে আছেন মাশরাফি। টিকে আছেন রাজার মতন।

দুই হাঁটুতে সাতটি সার্জারি করে। হাঁটুতে সাপোর্ট ব্যান্ড পরে তিনি বল করার জন্য দৌড়ান। ফিল্ডিংয়ে ঝাঁপান। এখনও তিনি সেরা বোলার। ইনজুরির সঙ্গে লড়ে ক্যারিয়ারে অন্তত ৪-৫ বছর হারিয়েছেন। সে কারণেই ১৭ বছরে ওয়ানডে খেলেছেন মাত্র ১৯ ৪টি। ১৯৪ তম ওয়ানডেতেই আবুধাবিতে ২৫০ উইকেট হয়েছে।

আরো পড়ুন

ভাগ্যবান ব্যাটসম্যানটির নাম আফগানিস্তানের হাসমতুল্লাহ শাহিদি। দুর্ভাগ্য মাশরাফিকে না ভোগালে এতদিনে হয়ত ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৪০০ উইকেটের মালিক থাকতেন।

কিন্তু কোন পরিসংখ্যান আর সংখ্যা কী ক্রিকেটার মাশরাফিকে ধারণ করতে পারে? পারে না। এই দেশ মানসিক দিয়ে মাত্র তিনজন চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার পেয়েছে। বাকী দুজনের পথপ্রদর্শক তিনি।

আগামীর চ্যাম্পিয়নদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার জায়গাটাও তিনি। সেটা শুধু ক্রিকেটে না, সবকিছুতেই। কিভাবে জিততে হয়, ধ্বংসস্তুপ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হয় ব্যক্তি আর ক্রিকেটার মাশরাফির চেয়ে ভাল উদাহরণ এই দেশে আর ক’জন আছেন?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।