অভিনব উদ্ভাবনে আধুনিক জীবন

ক্যারিয়ারের সেকেন্ড টেস্টেই ১৯২ রানে অপরাজিত ছিলেন স্যার ভিভ রিচার্ডস। তাঁরই মেয়ে ডিজাইনার মাসাবা গুপ্তা অভিনয়ের অভিষেকেই করলেন ডাবল সেঞ্চুরি। তিনি যে শুধু ভিভ নন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ারজয়ী নীনা গুপ্তারও মেয়ে, সেটাও আর বুঝতে বাকি রইলো না।

বলছি, নেটফ্লিক্সের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘মাসাবা মাসাবা’র কথা। মুখ্য ভূমিকা তে নীনা গুপ্তা এবং তাঁর কন্যা মাসাবা। এই সিরিজটি দেখতে দেখতে মনে হলো আমি নীনা গুপ্তার বাড়িতে বসে আছি। এতটাই স্বাভাবিক কাহিনী এবং অভিনয়।

নীনা গুপ্তা অভিজ্ঞ ও বলিষ্ট অভিনেত্রী। বহু পুরস্কার প্রাপ্তি ও সফল অভিনয় সত্ত্বেও আজও আশঙ্কায় আছেন যদি কাজ না পাওয়া যায়। মুম্বাইতে রয়েছেন শুধুমাত্র কাজ পাওয়ার আশায়। বিভিন্ন বিষয়ে মেয়ের সঙ্গে মনো মালিন্য লেগেই আছে , যা আমাদের সাধারণ বাড়িতে প্রায়ই হয়।

কন্যা মাসাবার আবার নিজস্ব ব্রান্ডের পোশাকের ব্যবসা। তাঁর প্রেম , স্বামী বিনয় (সত্য দীপ মিশ্র) সঙ্গে বিচ্ছেদ, বন্ধু ধৈর্যা’র (নীল ভূপালম) সহায়তা এ নিজস্ব একক জীবন যাপন। বন্ধু জিয়া, মানব এবং ধৈর্যা – এদের জীবন আজকের আধুনিক মানুষের প্রতিচ্ছবি। ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের উত্তেজনা, মন্তব্য, লাইক সবই উপস্থিত।

মা মেয়ের কথা বন্ধ। কিন্তু, মা অপেক্ষায় কখন মেয়ের কমেন্ট আসবে ইনস্টাগ্রামে! আজকের সমাজে বিচ্ছেদের ঘটনা প্রথমে ঘোষণা হয় ইনস্টাগ্রামে, তার পর পরিবারের ঘনিষ্ঠ জন খবর পায় এই গণমাধ্যমে। না, এর জন্য কোন নাটকীয়তার কোনো প্রয়োজন নেই। এই ছোট ছোট মুহুর্তের জন্য খুব ভালো লাগলো ‘মাসাবা মাসাবা’। অবশ্যই অভিনব এক আইডিয়াকে কৃতীত্ব দিতেই হয়।

অন্য দিকে নির্মাতা ফারাহ খানের ডাকে নীনা গুপ্তার দেখা করতে যাওয়ার সময় মেয়ের পোশাক পছন্দ করে দেওয়া মা-মেয়ের রসায়ন জোরালো করে। ফারাহ খান তৈরি করবেন ‘শওকিন’ সিনেমার নারী রূপায়ন। একটি চরিত্রে নিয়েছেন কিরণ খেরকে। অন্য চরিত্রে নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল নীনা গুপ্তা’র। পাঠক মনে পড়ছে তো পুরোনো সিনেমাটির কথা? অভিনয়ে ছিলেন উৎপল দত্ত , একে হাঙ্গল, অশোক কুমার। নায়িকা ছিলেন রতি অগ্নি হোত্রী।

পরে অবশ্য নীনার কাজটি করা হয়নি। তবে, নির্বাচিত হওয়া নিয়ে নীনার উৎকণ্ঠায় সামিল হবেন, আপনি ও অজান্তে।

বিভিন্ন চরিত্রের পোশাক পরিকল্পনা মাসাবার। বৈচিত্র্য পূর্ণ এই কাহিনীকে বর্ণ বহুল করে তুলেছে এই অসাধারণ কাজ। আজকের যুব সমাজ , যেখানে যৌনতা কোনো কিছুই চোখ এড়ায়ন।

অভিনয় খুব স্বাভাবিক নীনা গুপ্তা এবং মাসাবা গুপ্তার। সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত সব অভিনেতা অভিনেত্রী যেমন রিত্যাসা রাঠোর, সুনিতা রাজ ওয়ার , স্মরণ সাহু , রানা এবং অন্যান্যদের । বিশেষ করে আমার ভালো লেগেছে ছোট্ট মাসাবার চরিত্রে’র মিষ্টি মেয়ে টিকে। এই সিরিজ টি প্রযোজনা করেছেন অস্বিনী ইআরডি।

আরও ভালো লাগলো নীনা গুপ্তার মিউজিক ভিডিও আর ‘বাধাই হো’ সিনেমার শুটিং। এখানে মাসাবার ফ্যাশন শো’র ঘটনা, মডেল দের জগৎও এসেছে। তবে, এই একটি জায়গায় আমার অতি রঞ্জিত এবং খারাপ লেগেছে। কেন না, আজকের প্রতিযোগিতা র দিনে, এই অপেশাদার কাজ আমার অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে।

অনেক দিন পরে পূজা বেদী এবং সুচিত্রা পিল্লাইকে দেখা গেলো ছোটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। পরিচালনা সোনাম নায়ার , সিনেমাটোগ্রাফি আদিত্য কাপুর। ছয় পর্বে তৈরি এই সিরিজ। সব ধরণের দর্শকেরই উপভোগ করার কথা।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।