তিন যুগ ধরে আবেগ নিয়ে খেলছেন তিনি

ইদায়া কভিল থেকে নায়াকান, গীতাঞ্জলী থেকে থালাপথি কিংবা রোজা থেকে কাধাল কানামানি- সময়ে সময়ে গত তিন যুগে তিনি দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে দিয়েছেন দু’হাত ভরে। দক্ষিণী ছবির অনেক ব্যাপারেই তর্ক-বিতর্ক থাকালেও তাঁর ব্যাপারে এসেই সবাই একমত হন। সেই ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে আজো ঠিক একই বেগে চলছে তাঁর গাড়ি।

তামিল ইন্ডাস্ট্রির সর্বকালের সেরা নির্মাতা হলেন এই মনি রত্নম। পুরো নামা গোপালা রত্নম সুব্রামানিয়াম। রোমান্টিক ছবির ডিরেকশনে মনি রত্নম নামটা শুনলে, সেটা দেখতে আর রিভিউ এর প্রয়োজন পড়েনা। তাঁরই খ্যাতনামা সব ছবি নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • পাগাল নিলাভু (১৯৮৫)

অভিনয়ে ছিলেন মুরালি, রেভাথি। রোমান্টিক জেনরের এই মুভি দিয়ে তামিল অভিষেক হয় ওনার। যদিও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে মুভিটি।

  • ইদায়া কভিল (১৯৮৫)

এর অর্থ হৃদয় মন্দির। হ্যা,রোমান্টিক জেনরের মুভিটিতে অভিনয় করেন মোহন, অম্ভিকা। বক্স অফিসে মনি রত্নমের প্রথম সাফল্য এই মুভিতে।

  • মৌনা রাগাম (১৯৮৬)

রোমান্টিক ড্রামাটিতে আবার জুটি গড়েন মোহন, রেভাথি। তবে এবার বক্স অফিসে মোটামুটি সাফল্য পান।

  • নায়াকান (১৯৮৭)

ক্রাইম থ্রিলার এই মুভিটি মনি রত্নমের ক্যারিয়ারের সেরা একটা কাজ। বিখ্যাত ক্রাইম থ্রিলার গড ফাদার থেকে ইন্সপায়ার্ড বলা হলে এটা একজন মুম্বাইয়ের ডনের জীবন থেকে নেওয়া। কমল হাসান এই মুভির জন্য একাধিক এওয়ার্ড পান।মনি রত্নম এই ছবির জন্য অমর হয়ে থাকবেন, কেননা ভারতের সর্বকালের সেরা ২০ টি ছবির তালিকায় এটা স্থান করে নিয়েছে। তাছাড়া প্রচুর পুরস্কার পায় মুভিটি।

এই মুভির জন্য কমল হাসান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। মুভিটির হিন্দী রিমেকও আছে। এটি ভেলু নায়াকান নামে ডাব করা হয়েছিল।

  • অগ্নি নাটচাথিরাম (১৯৮৮)

অ্যকশন থ্রিলার এই ছবিটির কাস্টে ছিল প্রভু এন্ড কার্থিকা। ব্লকবাস্টার সাফল্যও পায়।

  • গীতাঞ্জলী (১৯৮৯)

তেলুগু মুভি হলেও এই তালিকায় যোগ করে দিয়েছি। নাগার্জুনাকে নিয়ে এই সিনেমাটি ব্যাপক সাফল্য পান মনিরত্নম। নন্দী, ন্যাশনাল সহ বিভিন্ন পুরস্কার আসে এই মুভির জন্য। নাগার্জুনার ট্রেন্ডসেটার একটা মুভি।

  • ছত্রিয়ান (১৯৯০)

কাল্ট ক্লাসিক এই মুভিটিতে ভিক্রায়ান্ত, রেভাথি ছিলেন। ক্রাইম ড্রামার এই মুভিটি ক্রিটিক্যালি প্রশংসা পায়।

  • অঞ্জলি (১৯৯০)

এই মুভির জন্য তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আসে। অস্কারে মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচিত হয়েছিল প্রাথমিকভাবে। রেভাথি আর রঘুভরন ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। এটি বিখ্যাত কম্পোজার ইলিয়ারাজার ৫০০তম মুভি। উপরে যতগুলো মুভির নাম বলা হয়েছে সব উনার কম্পোজের।

  • থালাপতি (১৯৯১)

ক্রাইম ড্রামা এই মুভিটির জন্য আজীবন স্মরণীয় থাকবেন তিনি। দুই বন্ধুর বন্ধুদ্বের অনন্য দৃষ্ঠান্ত আছে এখানে। জনগনের হিরো রজনীকান্ত, অভিনেতা হিসেবেও কেমন দুর্দান্ত ছিলেন তার প্রমাণ এখানেই আছে। সাথে ছিলেন আরেক কিংবদন্তি ম্যামুট্টি! তাদের বন্ধুত্বের জন্য বক্স অফিসে ব্যাপক সাড়া ফেলে মুভিটি। অরভিন্দ সোয়ামীর অভিষেক হয় এই মুভিতে। মুভিটি দালাপথি নামে ডাবিং করা হয়েছিল।

  • রোজা (১৯৯২)

অরভিন্দ স্বোয়ামীর ব্রেকথ্রু এই মুভিটি। রোমান্টিক থ্রিলারের এই মুভিটি অর্জন করে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এমনি এমনি তো আর মনি রত্নম ভারতের সর্বকালের সেরা সিনেমা পরিচালকদের একজন হননি!

অরভিন্দ আর মাধোর প্রেম চোখে লেগে থাকার মতো ছিল। এ আর রহমান কম্পোজার হিসেবে অভিষিক্ত হন এই মুভিতে। এসেই জিতে নেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এই মুভির সাউন্ডট্র‍্যাক ভারতের সেরা ১০ এর একটি হিসেবে লিস্টেড আছে।

  • থিরুদা থিরুদা (১৯৯৩)

কমেডি মুভি! হ্যা, মনি রত্নম কমেডি ছবি বানিয়েও সমালোচকদের সাড়া ফেলেন। প্রাসান্ত আর আনান্দ দুই চোরের গল্প। বেশ হিলারিয়াস কমেডি আছে, তবে কোনো অতিরঞ্জন নেই। মুভিটি সাইলেন্ট হিট হয়।

  • বোম্বে (১৯৯৫)

অরভিন্দ স্বোয়ামি আর মনিশা কৈরালাকে নিয়ে অ্যাকশন থ্রিলার দিয়ে বেশ সাড়া ফেলেন সে বছর।ওই বছরের হাইয়েস্ট গ্রোসিং তামিল মুভি ছিল এটি। মিউজিকে ছিলেন এ আর রহমান। এই মুভির সাফল্যে টানা চারবার অভিষেকের পর সেরা সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ফিল্মফেয়ার পান!

  • ইরুভার (১৯৯৭)

তামিল ইন্ডাস্ট্রির এপিক পলিটিক্যাল ড্রামা। সারাবিশ্বের সেরা ১০০০ ছবির তালিকায় এটি আছে। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পায়, দেখানো হয় টরেন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালেও। অভিনয় করেছিলেন মোহনলাল, ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চন, প্রকাশ রাজ, রেভাথি। এছাড়া পার্শ্ব চরিত্রে ছিলেন সব বাঘা বাঘা অভিনয় শিল্পী। এই সিনেমাটিও পায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

  • আলাইপায়ুথে (২০০০)

আর মাধবন, শালিনীকে নিয়ে বানান আরও একটি রোমান্টিক ক্লাস মুভি। বিবাহোত্তর সমস্যা আর ভালবাসার ম্যাচুরিটি নিয়ে মনকাড়া মুভি। সাথিয়া নামে দু’বছর পর বলিউডে রিমেক করা হয়।

  • কান্নাথিল মুথামিত্থাল (২০০২)

মাধবন এর সাথে ছিলেন কীর্তনা এবং সিমরান। প্রকাশ রাজও বড় চরিত্রে ছিলেন। মিউজিকে এ আর রহমানের আরো একটা ভাল কাজ ছিল। বেশ ভাল এবং ক্রিটিক্যালি প্রশংসিত মুভি।

  • আয়থা ইঝুথু (২০০৪)

কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন সুরিয়া, সিদ্ধার্থ, মাধবন, তৃষা! সুরিয়ার অন্যতম সেরা একটা মুভি। মনিরত্নম স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ থাকতেই পারেন সুরিয়া। তার অভিষিক্ত নেরেক্কু নেরের প্রোডিউসার ছিলেন মানি রত্নম। এই মুভিটি ‘যুব’ নামে একই সাথে বলিউডেও বানান মনি রত্নম, যেখানে সম্পূর্ণ আলাদা কাস্টিং ছিল!

  • রাভানান (২০১০)

মোটামুটি সবাই জানেন সিনেমাটির ব্যাপারে। বিক্রম- ঐশ্বরিয়া জুটি! সাথে পৃথিবীরাজ। পুলিশ অফিসারের এক উপজাতীয় নেতার লড়াই। ভিক্রমের সেরা একটা কাজ। বক্স অফিসে বেশ সাফল্য আসে। ক্রিটিক্যালিও বেশ প্রশংসিত মুভিটি।

এই মুভিটি রাবন নামে হিন্দীতেও পাশাপাশি বানানো হয়। যদিও সেটা হিট হয়নি। কাস্টিংয়ে পরিবর্তন ছিল সেখানে। অভিষেক বচ্চন ছিলেন, বাদ পড়েছিলেন পৃথিবীরাজ।

  • কাডাল (২০১৩)

অর্জুন সার্জা, অভিষিক্ত কার্থিক, অর্ভিন্দ স্বোয়ামী ছিলেন মুভিটিতে। কয়েকটি ভাষায় ডাবিং হয়েছিল।

  • ও কাদাল কানামানি (২০১৫)

দুলকার সালমানের একমাত্র তামিল মুভি এটি। লিভিং রিলেশনশিপ নিয়ে মুভিতে তার বিপরীতে ছিল নিথিয়া মেনন। যদিও এটার হিন্দী রিমেক ‘ওকে জানু’ খুব একটা প্রশংসা পায়নি। পরিচালনায় মনিরত্নম ছিলেন না।

  • কাট্রু ভেলিইদাই (২০১৭)

কার্থি আর অদিতি রায়কে নিয়ে বেশ ভালো একটা রোমান্টিক ড্রামা বানিয়েছেন। রোমান্টিকে ক্লিন শেভে অন্যরকম কার্থিকে দেখা গেছে। নি:সন্দেহে অভিনয়ে এটা তার সেরা সিনেমার একটি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।