মালামাল উইকলি: আন্ডাররেটেড, কিন্তু দমফাঁটানো কমেডি!

বলিউডের কমেডি সিনেমা মাত্রই জোরপূর্বক সুড়সুড়ি আর অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি দিয়ে হাসানোর যে প্রচেষ্টা থাকে। তবে, সেদিক থেকে ব্যতিক্রম বলা যায় পরিচালক প্রিয়দর্শনের সিনেমাগুলো। আর প্রিয়দর্শনের কমেডি মুভিগুলোর মধ্যে আমার অন্যতম পছন্দ হলো- ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মালামাল উইকলি’। খুব আন্ডাররেটেড ছবি হলেও সিনেমায় কমেডির কোনো কমতি নেই। রীতিমত দমফাঁটানো হাসির ছবি।

দূর্দান্ত সব শক্তিমান অভিনেতা যারা কমেডিয়ান হিসেবে বলিউডে আলাদা একটা জায়গা করেছেন তাদের সমন্বয়ে দারুণ একটি কমেডি মুভি এটি। মুভিটির প্রাণ হলো প্রধান চরিত্রদের অনবদ্য অভিনয়। মুভির গল্পটাও বৈচিত্র্যময়।

গ্রামীন পটভূমির সহজ-সরল মানসিকতার মানুষদের জীবনাচার মুভির বৈশিষ্ট্য। হাস্যরসাত্মক মুভির জন্য সিকোয়েন্স বা পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরীর ক্ষেত্রে পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার দারুন মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। মোটের উপর মুভিটির পরতে পরতে কমেডি। যে কারণে তথাকথিত তারকা শিল্পী ছাড়াই ছবিটি সুপারহিট ব্যবসা করে।

ভারতের এক অজ-পাঁড়া গা। এক কোটি টাকার লটারি মিলেছে সেখানে। যে পেয়েছে সেই এন্টনি লটারি পাবার খবর শুনে খুশীতে হার্ট এটাক করে পটল তুলেছে। বিষয়টা জানতে পারে গ্রামের একমাত্র অল্প শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান লটারি বিক্রেতা লীলারাম (পরেশ রাওয়াল)। সে লটারির টাকা টাকা মেরে দেবার ফন্দি ফিকির করে। কিন্তু সেটা জেনে যায় দুধ বিক্রেতা বল্লু (প্রয়াত ওমপুরি)।

আর এতেই নানা কারসাজি কসরত। একে একে একান-ওকান করে ছড়াতে থাকে লটারির কথা, ভাগীদারও বাড়তে থাকে দেদার। ধীরে ধীরে গোটা গ্রামই কমবেশী জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। ঘটতে থাকে নানান মজার কাণ্ড-কারখানা।

মুভিতে কমেডিয়ান হিসেবে পরেশ রাওয়াল একাই একশ ছিলেন। তার সামনের পাটির বড় বড় দাঁত আর গ্রাম্য ভাষায় এক্সপ্রেশানগুলো সহজে ভুলার মত নয়। অভিনয়ে তাকে যোগ্য সাহাচার্য দিয়েছেন ওমপুরি। গির্জার পাদ্রী জোসেফের চরিত্রে শক্তি কাপুর, ঠাকুরাইনের ভাই বাজের চরিত্রে রাজপাল যাদব, চোখেলালের চরিত্রে আশরানি দারুন কমেডিতে হাসিয়েছেন।

রাজপাল যাদব সব সময়ের মতোই আলাদাভাবে দৃষ্টি কেড়েছেন। নায়ক কানহাইয়ার চরিত্রে রিতেশ দেশমুখ, নায়িকা সুখমনির চরিত্রে রিমা সেন, ঠাকুরাইন চরিত্রে সুধা চন্দ্রন ও লটারি ইন্সপেক্টরের চরিত্রে আরবাজ খান সবাই চরিত্রানুগ অভিনয় করেছেন।

মুভিটির কিছু কিছু দৃশ্য এখনো মনে পড়লে একা একা হাসি আসে। লটারি পাবার পর এন্টনির হাসিমুখে স্ট্রোক করে মারা যাওয়া আর সেই একই অবস্থার লাশকে নানা জায়গায় লুকানোর কসরত, নকল এন্টনিরুপে বল্লুর অন্তেষ্টিক্রিয়া, লটারি ইন্সপেক্টর হাজির হলে বাড়ীর ছাদ বেয়ে নেমে দুধের ঘটিতে পা আটকে থাকা বল্লুর উপস্থিতি, চলন্ত সাইকেলের সিট কভার খুলে পড়ায় সিটের লোহার খোলা দণ্ডে নিতম্ব বসাতে গিয়ে ব্যাথায় রাজপালের শূন্যে উড়ে যাওয়া, ঠাকুরাইনের গাড়ী পানিতে পড়ে যাবার পর হতভম্ব লটারি ইনসপেক্টরকে সকলের জিজ্ঞাসা করা ‘আপনি কিছুই দেখেন নাই’ ইত্যাদি কোন দৃশ্য থেকে কোনটার কথা বলবো!

মুভির প্রায় সব দৃশ্যই দুরন্ত হাস্য কৌতুকময়। তবে শেষের সেই ভয়ঙ্কর হাসির মানব রেসের দৃশ্য তো সহজে ভুলার নয়। নির্মল বিনোদনের জন্য এই ছবির কোনো বিকল্প নেই!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।