নীরব নায়কের গগনবিদারী চিৎকার

আগের ম্যাচটাতেও অধিনায়ক ছিলেন। এবার ভূমিকাটা পাল্টালো। তবে, দায়িত্বটা ঠিক আগের মতই দিলেন রিয়াদ। সেটা এক বল বাকি থাকতে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে ফাইনালে তোলার পর হোক, কিংবা ম্যাচ শেষে নুরুল হাসান সোহানকে আড়ালে নিয়ে শাসন করে দেওয়াতে হোক।

বরাবরই যাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আড়ালের নায়ক বলা হয় এবার তিনিই মূল নায়ক। অনেক নাটকের পর শেষ চার বলে যখন জয়ের জন্য দরকার ১২ রান, তখনও ব্যাকফুটেই ছিল বাংলাদেশ দল।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সেই অবস্থা থেকে দলকে বের করে জয় এনে দেওয়ার কৃতীত্ব তো তো রিয়াদেরই। প্রথম বলে অফ স্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বলে চার, এরপরের বলে আসলো দুই রান। দুই বলে দরকার ছয় রান। ম্যাচটা তখনও দুলছে। বুকটা কাঁপার কথা যে কারোরই।

কাঁপেননি কেবল রিয়াদ। ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে মারলেন। ব্যাস, তাতেই বাংলাদেশ চলে গেল ফাইনালে। নিজেদের স্বাধীনতার ৭০ বছর পূর্তিতে আয়োজিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলা হল না স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার। মোক্ষম জবাব দেওয়া হল চান্দিকা হাতুরুসিংহেকেও। তিনিই তো, এই শ্রীলঙ্কায় বসে টেস্ট দল থেকে বাদ দিয়েছিলেন রিয়াদকে, যার কারণে রিয়াদকে দেখা যায়নি শততম টেস্টের একাদশে। কষ্টটা মনে থাকার কথা রিয়াদের।

এমন চাপের মুখে ১৮ বলে ৪৩ রান করা তো আর মুখের কথা নয়। ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও দু’টি ছক্কা। ডট বল ছিল মাত্র দু’টি। ম্যাচ সেরাও রিয়াদ। এই রাতটা রিয়াদেরই।

অধিনায়কের আর্মব্যান্ড গেলেও, নায়কের মুকুটটার ভাগীদার এবার তিনি। নি:সন্দেহে তাঁর এই ইনিংসটা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা!

১৮ মার্চ, মানে রোববারের নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ভারতের সঙ্গী হয়ে গেল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সাথে ভারতের ম্যাচ মানেই ২০১৬ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরতে বাধ্য। সেবারই তো ব্যাঙ্গালুরুর চিন্বাস্বামী স্টেডিয়ামে মাত্র এক রানে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সেই ম্যাচটা আক্ষরিক অর্থেই ধোনি-পান্ডিয়াদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন মুশফিক-রিয়াদ।

হ্যা, দুই ভায়রা ভাই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের জয়ের নায়ক হয়েছিলেন মুশফিক। এবার নায়ক রিয়াদ। ভারতের বিপক্ষে সেই হারে প্রায়শ্চিত্ব হয়ে গেছে। এবার ভারতকে সেই যন্ত্রনাটা ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। এবার কি পারবে বাংলাদেশ? এবার কি শেষ হাসি হাসবেন দুই ভায়রা-ভাই? অধরা শিরোপার দেখা পাবে লাল-সবুজ?  চলুন, আরেকবার পৃথিবীকে দেখিয়ে দেওয়া যাক।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।