মহানতি ও সাবিত্রী-জেমিনির ‘নিষ্ঠুর’ সম্পর্ক

আপনার ভালবাসার মানুষ। আপনার জীবনে সাফল্যের পেছনের কারণ তিনি। আবার একই সাথে বরবাদ হয়ে যাওয়ার পেছনেও দায়ী তিনি। কেমন লাগবে আপনার?

ভেতরে জমে থাকা আবেগটা সবাইকে না বললে, কষ্টটা ভেতর থেকে ফুলে ফেঁপে বাড়ছে। কারণ এটা একটা সত্যিকারের জীবন অবলম্বনে নির্মিত ছবি। বলছি ২০১৮ সালে ছবি ‘মহানতি’র কথা।

সাবিত্রী গানেশান। ছোটবেলা থেকেই অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। নাচ জানে,অভিনয় জানে। ছটফটে দুরন্ত এই মেয়েটার বাবা নেই। কিন্তু তার খালু তাঁর জন্য যা করেছে তা হয়তো বাবার থেকেও বেশি। কারণ ঐ সময়ে এমন বাবা খুব কম‌ই ছিল যারা এই বয়সের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে শ্বশুরবাড়ি না পাঠিয়ে তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতো। তাঁর সামনে তুলে ধরতো মিডিয়ার মতো এত বড় মঞ্চ।

প্রথমদিকে সাবিত্রী সেরকম সুযোগ পায়নি সিনেমায় কাজ করার। নিতান্তই গ্রাম থেকে উঠে আসা সাধারণ মেয়েকে নতুন অভিনেত্রী হিসেবে কে আর কাজ দেবে? সেই সময়ে তার ছবি তুলে ম্যাগাজিনে প্রকাশ করে সকলের নেক নজরে এনে দেয় জেমিনি গানেশান‌ই। পরবর্তীতে সাবিত্রী যাকে বিয়ে করে।

সাবিত্রীর সাথে দীর্ঘদিন প্রেম চালিয়ে যাবার পর‌ও জেমিনি বলেনি যে সে বিবাহিত,দুইটা বাচ্চা আছে। এই কথাটা সে সাবেত্রীকে জানায় অনেক পরে। তখন সে জেমিনির প্রেমে এতটা হাবুডুবু খাচ্ছে যে তার আর কোন উপায় ছিল না। তাছাড়া জেমিনি তখন তাকে এটা বলে ভোলায় যে, সাবিত্রীই তার সত্যিকারের ভালোবাসা!

জেমিনিও অভিনেতা ছিল। আগের স্ত্রীকে ছেড়ে সাবিত্রীকে বিয়ে করে সে। কিন্তু ডিভোর্স দেয়নি। আগের স্ত্রী’র সাথে সম্পর্ক রাখার অনুমতি সাবিত্রী তাকে দিয়েছিলো।

যোগ্যতা ও প্রতিভা দ্বারা সাবিত্রী অনেক বড় অভিনেত্রী হয়। এত বড় যে একসময় সে জেমিনিকেও ছাড়িয়ে যায়। এটাই কাল হয়। জেমিনি তাকে হিংসা করতে শুরু করে। আবার মাতে পরনারীতে। জেমিনির এই পরনারী আসক্তির কারণেই সাবিত্রীর সাথে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

তারপর থেকেই বদলে যেতে থাকে সাবিত্রী। নেশা করে, অসম্ভব মোটা হয়ে যাবার কারণে সিনেমায় সুযোগ হয় না, দেনার দায়ে গলা পর্যন্ত ডুবে যায়। সরল সাদাসিধা হবার কারণে বিষয়বুদ্ধি তার ছিল না। তাছাড়া অনেক দান ধ্যান‌ও করতো। সুযোগ পেয়ে চাকর বাকরেরাও টাকা পয়সা সরাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তার এমন অবস্থা দাঁড়ায় যে মহানায়িকা সাবিত্রী একটা ছোট রোল পর্যন্ত করতে রাজি থাকে।

কাহিনী এই পর্যন্ত‌ই থাক। বাকিটা দেখে নিয়েন‌। ছবিটা দেখে আমি যতটা না কষ্ট পেয়েছি তারচেয়ে বেশি পেয়েছি সাবিত্রী আর জেমিনি গানেশান সম্পর্কে গুগল সার্চ করে পড়াশোনা করে। প্রথম স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়ে সাবিত্রীকে বিয়ে করার পরেও জেমিনি আলাদা ভাবে একটা ‘রক্ষিতা’ পুষতো। এই রক্ষিতার‌ই মেয়ে হচ্ছে বলিউড অভিনেত্রী রেখা। রেখার মা হলেন তেলেগু অভিনেত্রী পুষ্পবালি।

তামিল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে জেমিনিকে ডাকা হত ‘কাধাল মান্নান’ নামে। এর অর্থ হল ‘ভালবাসার রাজা’ বা কিং অব রোম্যান্স।

সাবিত্রী মারা যাবার পর জেমিনি আবার‌ও বিয়ে করে। তাঁর কারণে বরবাদ হয়ে যাওয়া সাবিত্রীর বিষয়ে তাঁর মনে যদি এতটুকু দু্ঃখবোধ থাকতো তাহলে এটা সে করতে পারতো না। কিছু কিছু মানুষ সত্যিই অসম্ভব নিষ্ঠুর হ‌ওয়ার ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়।

সাবিত্রীর ভূমিকায় কির্তি সুরেশ আর জেমিনি গানেশান হিসেবে দুলকার সালমানের অভিনয় জাস্ট ফাটাফাটি ছিল। কির্তির লুকটা যেন পুরোই সাবিত্রীর ফটোকপি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।