মাধুরী দীক্ষিত: ওল্ড ইজ গোল্ড

মাধুরী দীক্ষিত এই একটি নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে বলিউডের সর্বকালের অন্যতম সেরা এক সুন্দরী অভিনেত্রীর কথা যার  অভাবনীয় সৌন্দর্য, মোহনীয় হাসি, দক্ষ অভিনয় এবং নজর কাড়া , সাথে অসাধারণ এক্সপ্রেশন রাজত্ব করে চলেছে আশির দশকের শেষ থেকে এই ২০১৯ সালে এসেও। অনেকের মতে প্রখ্যাত অভিনেত্রী মধুবালার পরে এখন পর্যন্ত মাধুরীই একমাত্র পুরোদস্তুর ভারতীয় নায়িকাদের সৌন্দর্যের প্রতীক।

তাঁর সৌন্দর্য এবং হাসিতে এখনো মাতোয়ারা পুরো বিশ্ব। তবে শুধু সৌন্দর্য নয় অভিনয়েও যে তিনি তার সময়ের সেরা তা একাধিকবার প্রমাণ করেছেন মাধুরী। ১৯৮৪ সালে অবোধ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিষেক ঘটে তবে ১৯৮৮ সালে ‘তেজাব’ ছবির মাধ্যমে দর্শকমহলের সর্বত্র বিপুল সাড়া ফেলেন।

বিশেষ করে ‘এক দো তিন’ গানের সাথে তার নাচ তাকে রীতিমতো একদিনেই তারকা খেতাব এনে দেয়। তারপর একে একে ‘রাম-লক্ষ্মন’, ‘সাজন’, ‘থানেদার’, ‘দিল’, ‘বেটা’, ‘রাজা’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘আঞ্জাম’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘মৃত্যুদন্ড’, ‘পুকার’, ‘দেবদাস’ – সহ একাধিক বক্স অফিস সুপারহিট দিয়েছেন তিনি। স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচবার ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি।

একটা সময় বলিউডে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া তারকা। এমনকি ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ সিনেমার জন্য তিনি সালমান খানের চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। সিনেমা হোক, স্টেজ অথবা রিয়ালিটি শো মাধুরীর নাচে এখনো মন্ত্রমুগ্ধ দর্শক। মূলত একজন কত্থক শিল্পী তিনি তাই নাচের মুদ্রায় তিনি যেমন অনাবিল আনন্দ খুঁজে পান, তেমনি তাঁর নাচ এবং এক্সপ্রেশন জয় করেছে সব শ্রেনীর দর্শকের মন।

‘এক দো তিন’, ‘ধাক ধাক’, ‘চোলি কে পিছে’, ‘রামজি বড়া দুখ দি’, ‘হামকো আজকাল হ্যায়’, ‘দিদি তেরা দেবর দিওয়ানা’, ‘চান্নে কে খেত ম্যায়’, ‘হাম্মা হাম্মা’, ‘দেখা হ্যায় পেহেলিবার’, ‘আখিয়া মিলাও কাভি’, ‘কে সারা সারা’, ‘মাখনা’, ‘মারডালা’, ‘ডোলা রে ডোলা’, ‘আজা নাচলে’ বা সাম্প্রতিক ‘ঘাঘরা’ – মাধুরী তার প্রতিটি গানেই প্রমান করেছেন যে, আল্টিমেট ড্যান্সিং ডিভা খেতাবটা তারই এবং বলিউডের ‘ধাক ধাক’ গার্ল এখনো তিনিই। শুধু তাই নয় কারিনা থেকে আলীয়া বা হ্নতিক থেকে রনবীর পরের দুই জেনারেশনের প্রায় সব তারকার প্রিয় অভিনেত্রী তিনি।

পাঁচ বছর আগে ‘গুলাব গ্যাং’ সিনেমায় তাঁকে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল। তারপর নানা ড্যান্সিং রিয়েলিটি শোতে বিচারক এবং ইউটিউবে তার নিজস্ব চ্যানেলে ‘ড্যান্স টিচার’ হিসেবে দেখা গেলেও ২০১৮ তে এসে আবারো সিনেমায় ফিরেছেন এই কিংবদন্তী অভিনেত্রী। এই যুগে অভিনেত্রীরা পঞ্চাশের পরেও একটি সিনেমা নিজের কাঁধে নিয়ে হিট করানোর যোগ্যতা রাখেন তা প্রমান করেছেন মাধুরী। প্রথমবারের মতো মারাঠি চলচ্চিত্র ‘বাকেট লিস্ট’ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন এই গুনী এবং সুন্দরী অভিনেত্রী।

এই সিনেমার জন্য এই ৫১ বছর বয়সে এসে বাইক চালানো শিখেছেন তিনি। মাত্র ৫ কোটি রুপি বাজেটের এই আঞ্চলিক সিনেমা প্রায় ১৩ কোটি রুপি ঘরে তুলেছে। এবং প্রমান করেছে যে, মাধুরী এখনো ফুরিয়ে যাননি। এই সিনেমায় তার অভিনয় এবং হ্যা এবং অল্প সময়ের জন্য হলেও অসাধারন নাচও মন জয় করেছে সবার।

রুপ-গ্ল্যামার আর অভিনয়ের দক্ষতার জোরে নব্বই দশকের বলিউড মাতিয়ে রেখেছিলেন। অনিল কাপুর, শাহরুখ খান, আমির খান, সালমান খানসহ সমসাময়িক প্রায় সব নায়কদের সঙ্গেই সুপার ডুপার হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে এই নায়িকার ক্যারিয়ারে নেই ১০০ কোটি আয় করা কোনো সিনেমা।

অবশেষে সেই আক্ষেপ ফুরিয়েছে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ইন্দ্র কুমার পরিচালিত  মাল্টিস্টারার ‘টোটাল ধামাল’ সিনেমা। ‘টোটাল ধামাল’ সিনেমা দিয়েই শতকটি ক্লাবের এই সাফল্য অর্জন করলেন তিনি। এই সিনেমা দিয়ে ১৮ বছর পর একসাথে ফিরেছেন বলিউডের ‘ধাক ধাক’ জুটি চিরসবুজ অনিল-মাধুরী। সাথে আছেন অজয় দেবগন, আরশাদ ওয়ার্সি, রিতেশ দেশমুখ, জনি লিভার সহ আরো অনেকে। এরই মধ্য সিনেমাটি একশো কোটির ক্লাবে এন্ট্রি নিয়ে ফেলেছে। এককথায় নব্বই দশকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় শিল্পীদের নিয়ে পরিচালক ইন্দ্রকুমারের এই সিনেমা সুপারহিট তকমা পেতে যাচ্ছে শ্রীঘই।

এছাড়া এরই মধ্যে কাজ শেষ করেছেন করন জোহরের ড্রিম প্রজেক্ট ‘কলঙ্ক’ সিনেমার। যার কাস্ট হলেন সঞ্জয় দত্ত, মাধুরী দীক্ষিত, সোনাক্ষী সিনহা, বরুণ ধাওয়ান, আলিয়া ভাট আর আদিত্য রয় কাপুর। এই সিনেমায় প্রায় ২৪ বছর জুটি হিসেবে কাজ করতে চলেছেন একসময়ের জনপ্রিয় সঞ্জয় দত্ত এবং মাধুরী। যা এই সিনেমার মূল আকর্ষন বলে গন্য হচ্ছে। ১৯৪০ সালের একটি ঘটনা নির্ভর সিনেমাটির সুপার কাস্টিংই বলে দেয় এটি একটি ম্যাগনাম ওপাস হতে যাচ্ছে।

তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন কীভাবে ব্যক্তিগত রাখতে হয় তা বোধহয় মাধুরীর কাছ থেকে শেখা যায় অনায়াসেই। গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড বা মিডিয়া থেকে ব্যক্তিগত জীবনকে একেবারে আলাদা করে রেখেছেন মাধুরী। স্বামী ডা. শ্রীরাম নেনে এবং দুই পুত্র নিয়ে তার সুখের সংসার। নিজে কিংবদন্তি অভিনেত্রী কিন্তু মিডিয়া থেকে সন্তানদের সবসময় দূরে রেখেছেন তিনি।

তার মতে, বড় হয়ে যাবার পর তার সন্তানরা যদি চায় তাহলে এই ইন্ডাস্ট্রিতে তারা আসতেই পারেন কিন্তু এখন আর দশটা বাচ্চার মতোই আগলে রাখছেন তিনি তার দুই সন্তানকে। তাই যতই কাজ থাকুক নিজের পরিবারের জন্য আলাদা একটা সময় বরাদ্দ রাখেন তিনি সবসময়।

বর্তমানে ‘কলঙ্ক’ সিনেমায় পোষ্ট প্রোডাকশনের কাজ ছাড়াও অনেকগুলো প্রোডাক্টের ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। সামনে এই ইন্ডাস্ট্রিতে তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু শাহরুখ খানের সাথেও একটি সিনেমায় অভিনয় করার কথা চলছে।

এছাড়াও এই সময়ের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মাধুরী দীক্ষিতের জীবনকে নির্ভর করে একটি টেলিভিশন শো নির্মান করার পরিকল্পনা করছেন। তাই সেটা নিয়েও ব্যস্ত এই মহানায়িকা। আর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে নাচের প্রোগ্রামতো আছেই। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে নিচ্ছেন এই মেগাস্টার অভিনেত্রী।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।