মাধুরীর জীবনের অজানা যত অধ্যায়

বলিউডের মিষ্টি হাসির নায়িকা মাধুরী দীক্ষিত। আশির দশকের শেষে, নব্বই দশকের প্রায় পুরোটাই মাধুরী জ্বরে আক্রান্ত ছিল বলিউড। সব নায়কই চাইতেন তার সাথে অভিনয় করতে, সাংবাদিকরা চাইতেন তাকে নিয়ে সংবাদ ছাপতে, দর্শক চাইতেন তাকে পর্দায় দেখতে। আজো মাধুরীর সেই ক্রেজ বিদ্যমান। সেই মাধুরী যে অভিনেত্রী হওয়ার চেয়ে মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়তে আগ্রহী ছিলেন তা কি জানেন? চলুন মাধুরীর অজানা কিছু তথ্য জেনে আসি।

  • মাইক্রো‌বায়োলজিস্ট মাধুরী!

১৯৬৭ সালের ১৫ মে মহারাষ্ট্রের একটি পরিবারে জন্ম নেয়া মাধুরী মাইক্রোবায়োলজিস্ট হতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে তার ডিগ্রীও আছে!

  • কত্থক নৃত্যে পারদর্শী

শৈশব হতেই মাধুরী নাচের প্রতি আগ্রহী। তিন বছর বয়স থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি কত্থক নাচে দক্ষতা অর্জন করেন। পন্ডিত বিরজু মহারাজ মাধুরীকে বলিউডের সেরা নাচিয়ে অভিনেত্রীতে পরিণত করতে সহযোগিতা করেন।

  • সাফল্যের আগে একগাদা ফ্লপ ছবি!

মাধুরীর শুরু হয়েছিল ১৯৮৪ সালে, ছবির নাম ‘অবোধ’; বিপরীতে ছিলেন তাপস পাল। ছবিটি ফ্লপ হয়। এরপর একে একে সাথী, হিফাজত,দয়াবান,  খাতরো কি খিলাড়ি ফ্লপ হয়। ১৯৮৮ সালে একক নায়িকা হিসেবে ‘তেজাব’ থাকে খ্যাতি এনে দেয়। এ ছবির ‘এক দো তিন . . .’ গানটিই মূলত মাধুরীকে দর্শকের হৃদয়ে ঠাঁই পাইয়ে দেয়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

  • ১৪ বার ফিল্মফেয়ারের মনোনয়ন!

মাধুরী দীক্ষিত একমাত্র অভিনেত্রী যিনি ১৪ বার ফিল্মফেয়ার মনোনয়ন পেয়েছেন। যার মধ্যে চারবার তিনি পেয়েছেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। দু’বার অন্য ক্যাটাগরিতে।

  • ৩০ কেজির কস্টিউম!

মাধুরী সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’ ছবির ‘কাহে ছেড় মোহে’ গানের জন্য গায়ে জড়িয়েছিলেন ৩০ কেজি ভরের কস্টিউম! ডিজাইনার নীতা লুলা ছিলেন এর পেছনে!

  • সবচেয়ে পারিশ্রমিক নেয়া অভিনেত্রী

শোনা যায় ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ ছবির জন্য ২.৭ কোটি রূপির চেক পেয়েছিলেন মাধুরী। সহশিল্পী সালমান খানের চেয়েও ছিল যা ঢের বেশী। ক্যারিয়ারের মধ্যগগণে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী।

  • পদ্মশ্রী পুরস্কার

মাধুরী দীক্ষিত ২০০৮ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘পদ্মশ্রী’ পেয়েছিলেন।

  • মকবুল ফিদা ছিলেন মাধুরীতে

প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হোসেন মাধুরীর প্রেমে পড়েছিলেন। এতোটাই মাধুরীতে মজেছিলেন যে ৬৭ বার তাঁর ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ ছবিটি দেখেছিলেন। এরপর মাধুরীকে নিয়ে পুরো একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রই বানিয়ে ফেলেন এ শিল্পী। ২০০০ সালে নির্মিত ‘গজগামিনী’ ছবিতে মাধুরীর বিপরীতে ছিলেন শাহরুখ খান।২০০৭ সালে মাধুরীর ‘আজা নাচলে’ দেখার জন্য পুরো থিয়েটার ভাড়া করেন তিনি।

  • ড্যান্স উইথ মাধুরী

২০১৩ সালে মাধুরী গড়ে তোলেন ভার্চুয়াল ড্যান্স একাডেমি, ‘ড্যান্স উইথ মাধুরী’। এখানে তিনি নাচের ভিডিও আপলোড করেন, যা দেখে যে কেউ নাচ শিখতে পারবে নির্দিষ্ট নিয়মাবলি অনুসরণ করে।

  • শুভেচ্ছাদূত মাধুরী

২০১৪ সাল থেকে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে শিশু ও নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন মাধুরী।তিনি ভারত সরকারের নারীদের অধিকার বিষয়ক ক্যাম্পেইনেরও শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও এশিয়ার বিপন্ন প্রাণীদের রক্ষায় নিযুক্ত চ্যারিটিতে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে আছেন তিনি।

  • প্রযোজক মাধুরী

মাধুরীর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘আরএনএম মুভিং পিকচার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ এর ব্যানারে প্রথম প্রযোজনা ’১৫ আগস্ট’। নেটফ্লিক্সের জন্য নির্মিত এ মারাঠি ছবিটি মুক্তি পায় ২৯ মার্চ। শোনা যাচ্ছে মাধুরী হিন্দী ছবিও প্রযোজনা করতে পারেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।