ম্যাডাম’স প্লেস

| শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে |

রমা কিংবা সুচিত্রা অথবা মিসেস সেন থেকে নিজের একটাই নাম করে দিয়েছিলেন তিনি। সেটা হল ‘ম্যাডাম’। এই নামের বাইরে ওঁকে ডাকা যেতনা। ব্যতিক্রম অবশ্যই ছিল। সেটা উত্তম কুমার সহ দুই-একজন।

সেই দেবী’র বাড়ির সামনে উপস্থিত হলাম, হুট করেই। বেদান্ত। ৫২/৪/১ বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি স্টপে নেমে হাঁটা পথ। বহুতল অট্টালিকা।

সুচিত্রার বাড়ির সদর দুয়ারে লেখক

হ্যাঁ, দেবীর মন্দিরে দেবী নেই। দোর আটকালেন এক দারোয়ান। একটু সুচিত্রা সেনের গল্প বললাম দারোয়ানকে। ও মা! তারপর সে দারোয়ান গড়গড় করে ম্যাডামের বাড়ির গল্প বলে যেতে আরম্ভ করলেন। আমারও জানা তবু সুচিত্রা সেন যে দারোয়ানকে বহাল করেছিলেন সে বলছে।

এই এখান থেকে এত দূর হাত দিয়ে মেপে দেখালো সুচিত্রা সেনের আগের বাড়ির পরিধি। কোন তলায় থাকতেন সম্রাজ্ঞী।

বেদান্ত। ৫২/৪/১ বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড।

তৎকালীন এক মন্ত্রীর কাছ থেকে বালিগঞ্জ সার্কুরাল রোডের এই জায়গার সাতমহলা বাড়ি কেনেন সুচিত্রা সেন। বাড়ির সামনে বাগান ঝরনা দেবদারু গাছ বিশাল বারান্দা কত কী। সারমেয় থেকে টিঁয়া পাখি শিপাঞ্জি বাঁদরও পুষেছিল এই বাড়িতে রমা।

কিন্তু কালের নিয়মে সেই বাড়ি ভেঙে হল ফ্ল্যাট।

নিজের বাগানে সুচিত্রা সেন

আমি কোথায়ও পড়েছিলাম সুচিত্রা সেন বলেছিলেন, ‘শুধু মিষ্টি খাবে? মাঝে মাঝে কচি নিম পাতাও খেতে হয়।’

রাজেন্দ্রাণীর একাধিপত্য খর্ব হয়ে গেল ষোলোটি মাড়োয়ারি পরিবারের মধ্যে। বাড়ির আবহাওয়াও দূষিত হয় প্রচুর গাড়ি অবিরত ঢোকায়। কিন্তু, এই ফ্ল্যাট খুবই অভিজাত। যার তিনতলা জুড়ে সম্রাজ্ঞীর আধিপত্য।

সদা পাহাড়ায় প্রহরী, শুধু মন্দিরেই আর দেবী নেই

এখন ওনার ঘর ওঁর ছবি দিয়ে সাজিয়েছেন মুনমুন সেন, সুচিত্রা সেনের কন্যা। যদিও জীবিতকালে নিজের ফ্ল্যাটে নিজের একটাও ছবি লাগাতে দিতেননা।

সুচিত্রা ভক্তদের কাছে এই বাড়ি পূণ্যভূমি তীর্থক্ষেত্র আজও।

পোষা কুকুরের সঙ্গে বাড়ির বারান্দায়

এই পথ দিয়ে যেতে যেতে মনে হল রিনা ব্রাউন, অচলা, রাধা মিত্র, অর্চনা,সুপর্ণা, দেবযানী এই পথ দিয়েই কতবার হেঁটে গেছেন কখনও বোরখায় কখনও রুমালে মুখ ঢেকে কি রাতের দিকে হাঁটতে বেরিয়েছেন।

আক্ষেপের ব্যাপার হল, ভারতবর্ষে শিল্পীতের স্মৃতি সংক্ষরণের কোনো বালাই নেই। এর মধ্যেও শিল্পীদের স্মৃতিচিহ্ন যেটুকু পাওয়া যায় সেটুকুই জীবনের পরম প্রাপ্তি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।