লুকা ছুপ্পি: ফুল অন এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ!

নতুন প্রেম, সেটা জমছে ধীরে ধীরে, সেই প্রেম ডালপালা মেলে পাখা গজানোর আগেই ব্যাকগ্রাউন্ডে বিয়ের সানাই বাজবে- আজকালকার যুগে এটা হয় নাকি? দুটো মানুষের একে অন্যকে জানতে বুঝতেও তো সময় লাগে, তাই না? আর সেই বোঝাপড়াটার জন্যে কাছাকাছি থাকতে হবে, সস্তা হোটেলের বদ্ধ কেবিন কিংবা লিটনের ফ্ল্যাটের দু-চার ঘন্টা কি আর সেই বোঝাপড়াটা তৈরি করে দিতে পারে? সেজন্যে চাই লিভ ইন রিলেশনশিপ!

সিনেমার শুরুর প্লটটা বেশ কনভিন্সিং, অবিশ্বাস্য কিছু নেই সেখানে। ছোট শহরের গল্প, একদিকে লোকাল চ্যানেলের তারকা সাংবাদিক গুড্ডু, অন্যদিকে দিল্লী থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা সাংবাদিকতার ছাত্রী রশ্মি। আর দু’টো মানচিত্র এঁকে দু’জনের মাঝে কাঁটাতার হয়ে দাঁড়িয়ে দু’জনের পরিবার, আরও খোলাসা করে বললে, রশ্মির বাবা বিষ্ণু ত্রিবেদী।

যার আরেকটা পরিচয় তিনি সংস্কৃতি রক্ষা কমিটির সর্বেসর্বা, এলাকার ছেলেমেয়েরা যাতে বখে না যায়, সেদিকে তাঁর কড়া নজর। আর তাই প্রেমিকদের ধরে তাঁর দলের লোকেরা মুখে কালি মেখে দেয়, লিভ-ইন করা সিনেমার নায়ককে রাজ্যে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে!

সেই জায়গা থেকে দু’জনের সম্পর্কের শুরু, ক’দিন বাদে শুরু হলো অবিবাহিত দাম্পত্য জীবনও। এরপর সেটা নিয়েই প্রেমের ক্ষেতে রৌদ্র-ছায়ার লুকোচুরি খেলা, যে খেলাটা বিয়ের পরেও শেষ হয় না। আর তাই সিনেমার নামও লুকা ছুপ্পি।

সোয়া দুই ঘন্টার বিনোদন যদি চান, লুকা ছুপ্পি তবে ফুল অন এন্টারটেইনমেন্টের প্যাকেজ। হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ার মতো একেকটা সংলাপ, সেই দুর্দান্ত সংলাপগুলোই টেনে নিয়ে গেছে সিনেমার গল্পকে। জোর করে হাসানো, বা ভাঁড়ামীর লক্ষণ চোখে পড়েনি খুব বেশি, যেটুকু ছিল সেটা সহনীয় পর্যায়ের।

সিনেমার মূল দুই চরিত্রের চেয়েও আকর্ষণ বেশি জাগিয়েছিলেন পোস্টারে পেছনে পড়ে থাকা তিনজন। অপরাশক্তি খুরানা, পঙ্কজ ত্রিপাঠি, এবং বিনয় পাঠক- মাস্টারক্লাস তিন অভিনেতার দারুণ কম্বিনেশনে দুর্দান্ত কিছুই আশা করেছিলাম।

অপরাশক্তি দারুণ করেছেন, বিনয় পাঠকও চমৎকার; তবে পঙ্কজ ত্রিপাঠীর চরিত্রটা মোটেও গুরুত্ব দিয়ে লেখা হয়নি। এমন অসাধারণ একজন অভিনেতাকে পুরোটা সিনেমাজুড়ে শুধু কমেডিয়ান বানিয়ে রাখাটা পাপের পর্যায়েই পড়ে। সেটার দায়ভার চিত্রনাট্যকার আর পরিচালক, দুজনকেই নিতে হবে।

কৃতি শ্যাননের অভিনয় সহনীয়, কার্তিক আরিয়ানের কমিক টাইমিং দারুণ, তবে অভিনয়টা তিনি পুরোপুরি আয়ত্ব করতে পারেননি এখনও। এক্সপ্রেশনলেস ডায়লগ ডেলিভারিগুলো বিরক্তির উদ্রেক করে, সেই তুলনায় ছোট ছোট চরিত্রগুলোতে যারা অভিনয় করেছেন, তাদের পারফরম্যান্স অনেক বেশি সাবলীল ছিল। পাশের বাসার আন্টি থেকে শুরু করে পিচ্চি চিকু – সবার অভিনয়ই ভালো হয়েছে। গানের টাইমিংও ভালো, জোর করে ঢুকিয়ে দেয়া বলে মনে হয়নি।

তবে কার্তিক-কৃতির জুটিটাকে কেন যেন পর্দায় মানানসই লাগলো না। রোমান্টিক কমেডিতে ওদের রোমান্সটাই জমলো না ঠিকঠাক, দুজনের মাঝে সবকিছুই কেমন যেন আরোপিত। ‘দুজন দুজনার’ টাইপের ফিলিংসটাও সিনেমার কোথাও এলো না তাই। তবুও দিনশেষে সিনেমাটা ভালো লেগেছে, কারণ নিখাদ বিনোদনের যোগান দিতে পেরেছে লুকা-ছুপ্পি। এই বিনোদনটাই যে আজকাল বড্ড দুর্লভ হয়ে উঠেছে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।