লুকা ছুপ্পি: একটি পুঁজিবাদী বিজ্ঞাপন

প্রথাগত রিভিউয়ের মত রিভিউ আমি লিখছি না। একটা ফিল্ম দেখলে তার মধ্যে আমার যা যা বলবার থাকে, সেটাকেই প্রধান উপজীব্য করে লেখাটা সাজাই। এটাকে রিভিউ বলে কিনা আমি নিশ্চিত না, কিন্তু অন্য কিছুও বলা যায় না, তাই মুভি রিভিউই বলছি।

  • অভিনয়

কার্তিক আরিয়ানকে আমি পছন্দ করি৷ এখানেও সে সাবলীল ছিলো৷ আর কৃতি শ্যাননের কথা কি বলবো! আমার মনে হয় আলিয়ার সমসাময়িক কেউ যদি ওকে টেক্কা দেয়ার মত থাকে, সেটা কৃতি। সমস্যা হলো তেমন ভাল কাজ সে অন্যদের মত পায়নি। তবুও যেসব পেয়েছে, অসাধারণ কাজ করছে। কৃতির মধ্যে নিজেকে সবটা ভেঙ্গে দেখানোর ব্যাপারটা আছে। যা সাধারণত বড় অভিনেতাদের মধ্যে থাকে। লিড রোল ছাড়া অন্যদের অভিনয়ও স্বাভাবিক ছিলো৷ কৃতির মামাতো ভাইয়ের চরিত্রে লোকটা সুন্দর অভিনয় করছে৷

আমার দেখা পঙ্কজ ত্রিপাঠির সব থেকে বাজে কাজ এটা৷ সে এত অ-গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আগে আদৌ করেছে কিনা জানা নাই৷ সে যে মাপের অভিনেতা, এর থেকে অনেক ভাল কাজ আশা করি তার থেকে। মকারি করে লোক হাসাবে জনি লিভার, সঞ্জয় মিশ্র৷ তার ক্ষমতা এদের থেকে ‘মাচ বেটার’।

রেটিং: ৯/১০

  • গল্প

লুকা ছুপ্পির গল্প লিখেছেন রোহান শঙ্কর। গল্পতে আরেকটু মুন্সিয়ানা দেখানোর জায়গা ছিলো। বিশেষ করে কার্তিকের সাথে কৃতির দেখা হওয়া, তারপর প্রেম, এবং সেটা মাখোমাখো প্রেমে যেভাবে রুপ নেয়, সেটা খুবই অস্পষ্ট এই ছবিতে৷ এক প্রকার গোঁজামিল দিয়ে মূল পয়েন্টে যাওয়ার প্রবণতা আছে স্টোরি টেলিংয়ের মধ্যে।

রেটিং: ৭/১০

  • কনসেপ্ট

কনসেপ্ট একদম ফালতু। বিয়ের অপ্রয়োজনীয়তা এবং লিভ ইনকে প্রয়োজনীয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয় এই সিনেমায়। কেউ যদি ধর্মীয় কিংবা সামাজিক কোন আদর্শে বিশ্বাসী না হয়, তাহলে সে চাইলে লিভ ইনে থাকবে, সেটাতে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু কেউ যদি সামাজিক আদর্শের জায়গা থেকে বিয়েকে ভাল ভাবে গ্রহণ করে, সেটাতে সমস্যা কোথায়? কিন্তু না, পুরো ছবিতে আপনাকে দেখাবে বিয়ে নামক ফর্মালিটির প্রয়োজন একদমই কম। আছে, তবে খুব কম ৷ কিন্তু লিভ ইন-ই বেশি দরকারি৷

লিভ ইন এ থাকার গুরুত্ব আলোচনাই এই সিনেমার মূল ব্যাপার৷ মানে একসাথে থাকলে একে অপরকে জানবে, বুঝবে, যাতে বিয়ে করলে সেটাতে পরে সমস্যা না হয়, আরো নানান কেচ্ছা৷ অথচ লিভ ইন যে প্রায় অধিকাংশই যৌনতা প্রধান কারণেই হয়ে থাকে, তা সযত্নে এড়িয়ে গেছে৷ কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ছবিতেই সেটার প্রমাণ পাওয়া যায় যে যৌনতাও অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য থাকে। তা না হলে কার্তিক কেন আগে থেকেই কন্ডমের ব্যবস্থা করে রাখবে?

পুঁজিবাদী বিশ্ব মূলত এটাই চায়৷ নারীকে স্বাধীনতার নামে তারা সবকিছু করার অধিকার দিতে বলে৷ নারীকে সাহসের নামে তারা অপরিচিত পুরুষের সাথে মেলামেশার পরিবেশকে বলছে নারীর ক্ষমতায়ন। একজন মা যখন তার সন্তানের জন্য ঘরে রান্নাবান্না করে, তখন সেটা হয়ে যায় নারীকে বন্দী। অথচ সেই একই নারী যখন বিমান বালায় অন্য পুরুষকে খাবার পরিবেশন করে, তখন সেটা সাহসিকতা। আপনারা ‘তুমহারি সুল্লু’তে দেখে থাকবেন একজন নারী রেডিও জকি কিভাবে হাজার পুরুষের কামনার, কামুকতার স্বাদ মেটায়৷ এবং সেটা নাকি সেই নারীর সাহসিকতা৷

সুতরাং কন্সেপ্টের প্রশ্নে এটা একটা বাজে, ফালতু, বকওয়াজ এবং খারাপ ছবি।

রেটিং: ০/১০

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।