লাভ, সেক্স অওর ধোকা: সাহসী অসুন্দরের কঠিন বাস্তবতা

একটা সময় ছিলো যখন তরুণ-তরুণীর মধ্যে যৌনমিলন হত, কারণ তারা একজন আরেকজনকে ভালবাসতো, নিজেদের মধ্যে আকর্ষণ বোধ করতো, নিজেদের মধ্যে ভালবাসা প্রকাশের মাধ্যম ছিল সেক্স। আর এখন, তারা সেক্স করে ভিডিও বানাতে না হলে বন্ধুত্ব করতে।

নিজের তৃতীয় ছবি ‘লাভ, সেক্স অওর ধোকা’-তে এই ব্যাপারটাকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন বলে দাবী করেন বলিউডের গবেষণামূলক নির্মাতা দিবাকর ব্যানার্জি। নিজের দেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভারতে দুই-তিনটা জগতের প্রভাব দেখা যায়। এক জগতে তাঁরা উন্নত যোগাযোগ মাধমের সুবাদে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এই জগত থেকে দূরে আরেকখানে কেউ কেউ ঐতিহ্য, প্রথা আর আধুনিকতার মাঝে আটকা পড়ে আছে, কোনদিকে যাবে বুঝতে না পেরে দুইটারই নিকৃষ্ট দিকগুলো দ্বারা তাড়িত। এসব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা আরেক জগতের বাসিন্দারা কিছুই জানে না, শুধু জানে নিজেদের জায়গা বানাতে হবে, সফল হতে হবে, যেকোনো মূল্যে!’

চারপাশে যত বিজ্ঞাপন, বাজারকরণ প্রতিনিয়ত বলছে – এটাই জীবন। কোথায় পড়ে আছো? সকল সুখ এখানেই! ‘লাভ, সেক্স অর ধোকা’ ছবিটা এই মানুষগুলোকে নিয়েই, যাদের বিভিন্ন দিক থেকে টানের উপর আছে। আমার মনে হয় না, এই শহরগুলোর বাইরে জীবনকে কীভাবে মহৎ করে তুলতে হয় আমাদের জানা আছে।

২০১০ সালের এই ফিল্ম যখন বের হয় আমার মনে আছে অফবিট বলিউডের সাথে পরিচিত হয়ে টগবগিয়ে দেখতে বসেছিলাম ফিল্মটি। দিবাকরের ‘খোসলা কা ঘোসলা’ তখনো দেখা হয়নি। নামের মাঝেই উদ্দীপক কিছু তরুণ মনে দেখার আকাঙ্খা না জাগিয়ে কই যায়? তাছাড়া প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটি’র সাফল্যে হ্যান্ডি ক্যাম কিংবা ফাউন্ড ফুটেজ ঘরানা তখন বেশ জমজমাট।

দেখতে বসে শুরুটা একটু এলোমেলো লাগলেও শুরুর গল্পের শেষে যেই ধাক্কা খাই, সেটা আজ অবধি নাড়া দেয়। ওই ধকল দ্বিতীয় আর তৃতীয় ফিল্মের উপর প্রভাব ফেলায় তখন ওগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখতে পারিনি।

নেটফ্লিক্সে ছবিটা আবার দেখতে গিয়ে শেষ করার পর সম্পূর্ণ অ্যাপ্রিশিয়েট করতে পারছি। এতদিন সবাইকে প্রথম গল্পের শেষের ধাক্কার জন্য সতর্ক করতাম, বলতাম যে দেখতে থাকো, এই ডিডিএলজি জগতে বিচরণ করা যুগলের ভালোবাসার পরিণতি কি হয়! ভারতের রক্ষণাত্মক সমাজব্যবস্থা আর সিনেমার জগত বনাম বাস্তব জীবনের ভালোবাসার তীব্র প্রতিচ্ছবি যেন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।