লাভ কমান্ডোজ: বিনামূল্যে পালিয়ে বিয়ে করার সার্ভিস!

পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে চান? কিন্তু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা আর্থ-সামাজিক ভেদাভেদের কারণে হয়ে উঠছে না? – এমন হাজারো সমস্যা সমাধান করার জন্য নজীরবিহীন এক প্রতিষ্ঠানের আবির্ভাব হয়েছে ভারতের দিল্লীতে। তাঁরা ভালবাসার রক্ষক, নাম ‘লাভ কমান্ডোজ’।

প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু ২০১১ সালে। রোজ অসংখ্য আবেদন এসে জমা পড়ে তাঁদের ওয়েবসাইটে। হিসাব বলছে গেল ছয়-সাত বছরে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি জুটিকে নানা ভাবে সাহায্য করেছেন তাঁরা।

ভারতজুড়ে আছে তাঁদের পাঁচ লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবক। নানা কৌশল অবলম্বন করে তাঁরা দু’টি মনের মিলন ঘটান। মূল কাজটা হল প্রেমিক জুটির নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়া। এর এটা করতে গিয়ে এমন কোনো কাজ নেই যা তাঁরা করেনি।

পালিয়ে আসা বা উদ্ধার করে আনা যুগলকে তারা মাসের পর মাস আশ্রয় দেন, তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। প্রয়োজনে দেওয়াল টপকানো, দড়ি বেয়ে নিচে নামা, তালা ভাঙতে সাহায্য করেন। এমনকি হাতাহাতি-মারামারি করার লোকও পাওয়া যায়।

চাইলে বিয়েরও ব্যবস্থা করে দেন। ট্রেন বাসের টিকেট, বাসা ভাড়া করে দেওয়া সহ থানা পুলিশও সামলে দেন। জুটিদের লুকিয়ে রাখার জন্য তাদের ভারত জুড়ে আছে ৫০০ টিরও বেশি গোপন ঠিকানা।

আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, তাদের এই পুরো সার্ভিসটি দেওয়া হয় একদম বিনামূল্যে। তবে, ডোনেশনের রাস্তা খোলা আছে। গোটা বিশ্ব থেকে যে কোনো ব্যক্তি যে কোনো সময় অর্থ সাহায্য করতে পারেন।

এই ‘দাতব্য সংস্থার’ চেয়ারম্যান সঞ্জয় সাচদেব। ৫৮ বছর বয়স। দ্বিতীয়জন হলেন ৪৮ বছর বয়সী হার্শ মালহোত্রা। তিনি নিজের এক বউকে বিয়ে করেছেন সাত বার। বাকিরা হলেন সনু রাঙ্গি, সুনীল সমর, রাশেজ ও গোবিন্দ।

তবে, যাকে তাকে সাহায্য করে না এই সংস্থা। তাঁদের সাহায্য পেতে হলে প্রথমে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে হয়, এরপর তাঁরা নাম ঠিকানা ও বয়স যাচাই করে। আদৌ তাঁদের মধ্যে ভালবাসা আছে কি না এবং অন্য কোনো মতলব যে নেই সেটা নিশ্চিত হয়। এরপর শুরু হয় আসল ‘অপারেশন’।

তবে, তাঁদের এই উদ্যোগটা ভারতের সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে একদমই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ভারতে প্রেম ভালবাসা, জাত ধর্ম বর্ণ নিয়ে হানাহানি ও খুনাখুনির অনেক নজীর আছে। এই উদ্যোগটির মধ্য দিয়ে সব ভুলে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে লাভ কমান্ডোজ।

ভিন্ন বর্ণে ভালবাসার জন্য খুনের ঘটনাও ভারতে নতুন কিছু নয়। একে বলা হয় ‘অনার কিলিং’। ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এমন খুনের পরিমান ভারতজুড়ে বেড়েছে ৭৯ শতাংশ। এই সময় লাভ কমান্ডোজদের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবীদার।

– বিবিসি, বেটার ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।