ময়মনসিংহ মেডিকেলের শিক্ষার্থী এখন ভুটানের হবু প্রধানমন্ত্রী

পাহাড়ে ঘেরা দেশ ভুটানে এখন নির্বাচনী হাওয়া। স্বাধীন দেশ হলেও ভুটানের ওপর ভারতের একটা অদৃশ্য প্রভাব সব সময়ই থাকে। অতি নির্ভরশীলতার কারণে ভুটানে ভারতের সামরিক ঘাটিও আছে। সম্প্রতি আবার চীনা প্রভাবও বাড়ছে দেশটিতে। সেসব নিয়ে চিন্তিত ভারত।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিটা অনেকটা ‘মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশির মত’। এই অবস্থায় ভুটানে   গেল শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় ভোটাররা রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোট দেয়। দ্বিতীয় দফায় রাজনীতিককে ভোট দেয়।

প্রথম দফার ভোটে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) হেরে গেছে। জিতেছে ডাক্তার, লোটে শেরিংয়ের দল দ্রুক নিয়ামরুপ তসগপা (ডিএনটি) জয়লাভ করেছে।

দ্বিতীয় দফার ভোট আগামী ১৮ অক্টোবর। প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে ডিএনটি এবং দ্য দ্রুক ফুয়েনসাম থগপার (ডিপিটি) মধ্যে। শেরিংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ফুয়েনসাম নেতা সগবা।  আসন কম পাওয়ায় পিডিপি আগামী মাসের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারছে না। তাই, ওই নির্বাচনে ডিএনটিকেই সমর্থন করছে পিডিবি।

ফলে, লোটে শেরিংয়ের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। লোটে’র এই বিজয়ে গর্ববোধ করতেই পারে বাংলাদেশ। কারণ, লোটে হলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ২৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশে এসে বিদেশি কোটায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন লোটে শেরিং। সেশনজট থাকায় লোটে শেরিং ১৯৯৮ সালে এমবিবিএস পাস করেন। থাকতেন বাঘমারার মেডিকেল হোস্টেলে। পড়াশোনার পাশাপাশি টেবিল টেনিস ও ক্যারম খেলা পছন্দ করতেন তিনি।

ভোট দিচ্ছেন লোটে শেরিং

এমবিবিএস পাশ করার পরে তিনি ঢাকায় এসে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. খাদেমুল ইসলামের অধীনে জেনারেল সার্জারি বিষয়ে এফসিপিএস করেন। খুব কম কথা বললেও বন্ধুবৎসল ও নম্য স্বভাবের ছিলেন তিনি। এটাই হয়তো ভুটানের নির্বাচনে তাঁকে এগিয়ে রেখেছে।

তিনি ২০০৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ছিলেন।  রাজনীতিতে আসার আগে ডা. লোটে শেরিং ভুটানে জেডিডব্লিউএনআরএইচ অ্যান্ড মঙ্গার রিজিওনাল রেফারেল হাসপাতালে কনসালট্যান্ট সার্জন হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। জেডিডব্লিউএনআরএইচে ইউরোলজিস্ট কনসালট্যান্ট  হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০১৩ সালে তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন, তখনই তিনি সিভিল সার্ভিস ছেড়ে দেন। ২০১৮ সালের শুরুতেই দলের শীর্ষ পর্যায়ে চলে আসেন। সেখান থেকে এবার তিনি ২০০৮ সালে ড্রাগন রাজার যুগ পেরিয়ে গণতন্ত্রের পথে হাঁটা ভুটানের সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনী প্রচারণার সময় লোটের একটা কথা খুবই সারা ফেলে দেয়, ‘মনের কথা শুনে নয়, ভোট দেবেন নিজের মাথা খাটিয়ে।’

নির্বাচনী প্রচারণায় লোটে শেরিং

– ভুটানের জাতীয় দৈনিক কুয়েনসেল অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।