রমরমা ও রোম্যান্টিক এই সম্পর্কগুলো পূর্ণতা পায়নি

বলিউডের প্রেমের গল্পগুলো কেমন যেন! কখনো মনে হয়, এসব আসলে বাস্তব নয়। আবার কখনো মনে হয়, আরে এদের জন্মই তো একে অপরের জন্য। তারপরও বলিউডে এমন কিছু জুটি খুঁজে পাওয়া যায়, যারা সত্যিকারের ভালবাসা খুঁজে পেয়েছিলেন বটে, তবে তাদের ধরে রাখতে পারেননি। যদিও, আজো তাঁদের সেই সম্পর্কগুলোর নানা রকম গল্প লোকেদের মুখে মুখে ঘুরে ফিরেই শোনা যায়।

  • শহীদ কাপুর ও কারিনা কাপুর

বহু আলোচিত এক প্রেমের গল্প। তারা চার বছর এক সাথে ছিলেন। তবে ‘তাশান’ ছবির শ্যুটিং চলাকালে সব ওলট-পালট হয়ে যায়। লাদাখে কারিনার কাছাকাছি চলে আসেন লখনৌ’র ছোটে নবাব সাইফ আলী খান। ‘কিসমত কানেকশন’-এর শ্যুটিং চলাকালে বিদ্যা বালন ও শহীদকে নিয়েও ছিল গুঞ্জন। আর এগুলোই সকল নষ্টের গোড়া। ২০১২ সালে সাইফকে বিয়ে করেন কারিনা, তৈমুর আলী খান নামে তাদের একটা ছেলেও আছে। আর মিরা রাজপুতের সাথে শহীদের সুখের সংসারও চলছে।

  • বিপাশা বসু ও জন আব্রাহাম

ভাবা যায়, আট বছর তাঁরা প্রেম করেছেন। সেই মডেলিংয়ের সময় থেকে তাঁরা এক সাথে। তবে, সব কিছুকে মিথ্যা প্রমাণ করে জন চুপিচুপি প্রিয়া রুনচালকে বিয়ে করে বসেন। সম্পর্কের এমন বেদনাদায়ক পরিণতি ভক্তরাও মানতে পারেননি। বিপাশা এখন করণ সিং গ্রোভারের ঘরণী।

  • অভিষেক বচ্চন ও কারিশমা কাপুর

‘রিফিউজি’ সিনেমার সেটে কারিশমার বোন কারিনা কাপুর অভিষেককে প্রায়ই ‘জিজু’ বলে ডাকতেন। সম্পর্কটা কত গভীরে পৌঁছেছিল এটুকুতেই বোঝা যায়। মুম্বাইয়ের পাঁচ তারকা হোটেলে অমিতাভের ৬০ তম জন্মদিনে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে তাঁদের বাগদানও হয়। এর কয়েক মাস পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। কারিশমার মা অবশ্য সেই সম্পর্কের বিরোধী ছিলেন।  তাঁর অভিষেককে পছন্দ ছিল না। কারণ, অভিষেকের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সিনেমাগুলো মার খাচ্ছিল বক্স অফিসে। তাই নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। পরে অবশ্য অভিষেক বিশ্ব সুন্দরী ও হলিউড-বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রায়কে বিয়ে করেন। এক কন্যা সন্তান ‘আরাধ্য’কে নিয়ে তাঁদের সুখের সংসার।

  • অক্ষয় কুমার ও শিল্পা শেঠি

দু’জন এক সাথে বিস্তর সিনেমা করেন। তখনই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সব ঠিকই চলছিল, তখনই অক্ষয়ের পছন্দ হয়ে যায় টুইঙ্কল খান্নাকে। নিজে থেকেই তাই সরে যান শিল্পা। অক্ষয়ের সাথে আগে রাবিনা ট্যান্ডনেরও প্রেম ছিল। এক সাক্ষাৎকারে  রাবিনা জানিয়েছিলেন, এক মন্দিরে অক্ষয়ের সালে লুকিয়ে বাগদান সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। অক্ষয় জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ভয়ে বাগদানের কথা গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। যাই হোক টুইঙ্কলের সাথে বিয়ের পর আর ঝড় আসেনি অক্ষয়ের জীবনে। ক্যারিয়ারের গ্রাফটাও উর্ধ্বমূখী। শিল্পা এখন ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রার ঘরণী। সংসার আর রিয়েলিটি শো বাদে আর কোথাও খুব একটা দেখা যায় না এই নায়িকাকে।

  • সঞ্জয় দত্ত ও মাধুরী দিক্ষিত

১৯৮৭ সালে অভিনেত্রী রিচা শর্মার সাথে বিয়ে হয় সঞ্জয় দত্তর। তিনি মারা যান ১৯৯৭ সালে। সেই সময় ভেঙে পড়েন সাঞ্জু। নব্বই দশকে তাঁর কাছাকাছি আসেন মাধুরী। সঞ্জয়ের মনে তখন ‘ধাক ধাক’। সাজান ছবির সেটে শুরু হয় তাঁদের প্রেম। যদিও, মুম্বাই ব্লাস্টে সাঞ্জু গ্রেফতার হওয়ার পর সরে যান মাধুরী নিজেই।

  • হৃত্তিক রোশন ও কারিনা কাপুর

‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’ সিনেমায় হৃত্তিকের বিপরীতে কারিনাকে নিয়েই কাজ শুরু করেছিলেন রাকেশ রোশন। পরে চরিত্রটি চলে যায় আমিশা প্যাটেলের কাছে। তারপরও কারিনা ও হৃত্তিকের রোম্যান্টিক জীবন ভালই কাটছিল। এই সময় হৃত্তিকের হঠাৎ বধোদয় হলে যে তাঁর সত্যিকারের ভালবাসা হলে সুজান। কারিনা প্রচণ্ড শকড হন, আর হৃত্তিক বিয়ে করে ফেলেন। সেই সুজান অবশ্য এখন হৃত্তিকের জীবনেও অতিত হয়ে গেছেন।

  • সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রায়

ওই সময়ে যেমন এই জুটিকে নিয়ে আলোচনা ছিল, তার রেশ টিকে আছে আজো। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ অবধি তাদের প্রেম ছিল। বিয়ে হবে সবাই ধরেই নিয়েছিল। তবে, সালমানের ঔদ্ধত্য, বিশৃঙ্খল জীবন, আর ঐশ্বরিয়ার ওপর প্রভাব খাটানোয় আস্তে আস্তে সরে যান অ্যাশ। কে জানে, সেই শোকেই কি না বিয়ে করা হয়নি সালমানের। ক’দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে এসে বলেন, ‘বিয়ে করা মানে সময় নষ্ট করা ছাড়া কিছুই না!’

  • দিলীপ কুমার ও মধুবালা

সাদাকালো যুগের সেরা দুই নায়ক-নায়িকার মধ্যে প্রেম জমে গিয়েছিল। বিয়েও করতে চেয়েছিলেন। তবে, দিলীপের শর্ত ছিল, ছাড়তে হবে সিনেমার লাইন। যদিও, তখনকার ডাকসাইটে নায়িকা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। তাঁদের আর বিয়ে হয়নি। মধুবালার জীবনে প্রেম এসেছে বহুবার। যদিও, কোনোটাতেই তিনি খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

– বলিবাইটস.কম অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।